Thursday, June 05, 2014

বড় চোখগ্যালো বাংলাদেশের বিরল পরিযায়ী পাখি



বড় চোখগ্যালো, ফটো: Lip Kee Yap, ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে
দ্বিপদ নাম: Hierococcyx sparverioides
সমনাম: Cuculus sparverioides Vigors, 1832
বাংলা নাম: বড় চোখগ্যালো  
ইংরেজি নাম: Large Hawk-Cuckoo.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Cuculidae
গণ/Genus: Hierococcyx, Muller, 1845;  
প্রজাতি/Species: Hierococcyx sparverioides (Vigors, 1832)
ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকাHierococcyx গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ৩টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে রয়েছে ৮টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতিগুলো হচ্ছে ১. হজসনি চোখগ্যালো, ২. বড় চোখগ্যালো, ও ৩. পাতি চোখগ্যালোআমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে বড় চোখগ্যালো
বর্ণনা: বড় চোখগ্যালো দীর্ঘ ডোরা ওয়ালা লেজের ছাই-বাদামি পাখি (দৈর্ঘ্য ৩৮ সেমি., ওজন ১২৫ গ্রাম, ডানা ২২ সেমি., ঠোঁট ৩ সেমি., পা ২.৬ সেমি., লেজ ২০ সেমি.)। পিঠ ছাই-বাদামি ও দেহতল সাদাটে। ফ্যাকাসে বুকে লালচে-বাদামি ডোরা রয়েছে। বুকের তল, বগল, পেট ও লেজের নিচের কোর্ভাটে লালচে থেকে কালচে বাদামি ডোরা বেশ স্পষ্ট। মাথার চাঁদি, ঘাড়ের পিছন ও ঘাড়ের পাশ ছাই-ধূসর। লেজের কালো ও বাদামি ফেটা বিন্যাস একটির পর আরেকটি সজ্জিত ও লেজের আগা সাদা। চোখ কমলা-হলুদ ও চোখের পাতার প্রান্তদেশ লেবুর মত হলুদ। ঠোঁট দুরঙা: উপরের ভাগ কালচে শিঙ-রঙের ও নিচের ভাগ সবুজাভ-স্লেট রঙের। ছেলে ও মেয়েপাখির চেহারায় কোন পার্থক্য নেই। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির বাদামি পিঠে লালচে ডোরা এবং ঘাড়ের পিছনটায় ফ্যাকাসে লালচে রঙ ও বুকে স্পষ্ট বাদামি ডোরা আছে। ২টি উপ-প্রজাতির মধ্যে H. s. sparverioides বাংলাদেশে পাওয়া যায়।
স্বভাব: বড় চোখগ্যালো চিরসবুজ বন, কনিফার বন, অপ্রধান বন ও কুঞ্জবনে পাওয়া যায়। সাধারণত একা থাকে। বনের চাঁদোয়ায় ও ঝোঁপে গাছের ডালা ও পাতা থেকে খুঁটে খুঁটে খাবার খায়। খাবার তালিকায় শুঁয়োপোকা, গুবরে পোকা, ছারপোকা, ফড়িং, পিঁপড়া ও মাকড়সা রয়েছে। পূর্বরাগের সময় ভোরে ও গোধূলিতে, পূর্ণিমা রাত ও মেঘাচ্ছন্ন দিনে ডাকে। মধুর কণ্ঠে শিস্ দিয়ে ডাকে: পিপক পিপকক..। বাসা বানানো, ডিম ফোঁটানো কিংবা ছানা পালন এর কোনটিই করে না। গ্রীষ্মে হিমালয়ের পূর্বভাগ থেকে চীন ও ইন্দোচীনে এর প্রজনন ঋতু। মেয়েপাখি পেঙ্গা, খাটোডানা বা মাকড়মার-এর বাসায় ডিম পাড়ে। ডিমের বর্ণ ও আকার পালক প্রজাতির ডিমের বর্ণ ও আকারের সঙ্গে মিল রেখে পাড়ে যেমন-পেঙ্গার বাসার জন্য ডিম নীল, ৩.০ × ২.২ সেমি. এবং খাটোডানা ও মাকরমারের জন্য বাদামি, ২.৬ × ১.৯ সেমি.।
বিস্তৃতি: বড় চোখগ্যালো বাংলাদেশের বিরল পরিযায়ী পাখি; শীতে সিলেট বিভাগের চিরসবুজ বনে বিচরণ করে। ভারতের পূর্বভাগ থেকে শুরু করে চীন ও ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলসহ এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।
অবস্থা: বড় চোখগ্যালো বিশ্বে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয় নি।
বিবিধ: বড় চোখগ্যালোর বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ চড়ইশিকরে-চোখগেলো (গ্রীক: hierax = শিকরে, kokkux = কোকিল; ল্যাটিন: sparverius = চড়ুইশিকরে)।
বাংলাদেশ উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষে এই নিবন্ধটির লেখক মো: আনোয়ারুল ইসলাম ও সুপ্রিয় চাকমা

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের

Recommended