Monday, June 09, 2014

ছোট পাপিয়া বাংলাদেশের অনিয়মিত পাখি



দ্বিপদ নাম: Cuculus poliocephalus
সমনাম: নেই
বাংলা নাম: ছোট পাপিয়া  
ইংরেজি নাম: Lesser Cuckoo (Small Cuckoo).

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Cuculidae
গণ/Genus: Cuculus, Linnaeus, 1758;  
প্রজাতি/Species: Cuculus poliocephalus Latham, 1790
ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকাCuculus গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ৪টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে রয়েছে ১১টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতিগুলো হচ্ছে ১. পাতি পাপিয়া, ২. বউকথাকও পাপিয়া, ৩. ছোট পাপিয়া এবং ৪. উদয়ী পাপিয়াআমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে ছোট পাপিয়া
বর্ণনা: ছোট পাপিয়া স্লেট-ধূসর রঙের পাখি, তবে কিছু মেয়েপাখি লালচে হয় (দৈর্ঘ্য ২৫ সেমি., ওজন ৫০ গ্রাম, ডানা ১৫ সেমি., ঠোঁট ২.৫ সেমি., পা ১.৮ সেমি., লেজ ১৩ সেমি.)। ছেলেপাখির পিঠ স্লেট-ধূসর। থুতনি, গলা ও বুক ফ্যাকাসে ছাই রঙের এবং পেটে সাদার ওপর প্রশস্ত কালো ডোরা রয়েছে। অনুক্রমিক পালকে সজ্জিত লেজের আগা সাদা। মেয়েপাখির চেহারা দুধরনের হয়। সাধারণ চেহারা ছেলেপাখির মত। চেহারার আরেকটি ধরনকে বলে কলজে রূপ। উজ্জ্বল লালচে বাদামি দেহের উপরিভাগের পিঠে, ডানায় ও লেজে কালচে বাদামি ডোরা থাকে। সাদা দেহতলেও প্রশস্ত কালচে বাদামি ডোরা রয়েছে। ছেলে মেয়েপাখি উভয়েরই চোখ বাদামি, চোখের কিনারা হলুদ, কালচে-শিঙ রঙের ঠোঁট এবং পা হলদে। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির ধূসর-বাদামি পিঠে লালচে ডোরা, ঘাড়ের পিছনটায় সাদা চিতি ও পেটে প্রশস্ত ডোরা থাকে।
স্বভাব: ছোট পাপিয়া চিরসবুজ বন, আর্দ্র পাতাঝরা বন ও বৃক্ষবহুল বনভূমিতে পাওয়া যায়। সাধারণত একা বা জোড়ায় বিচরণ করে। গাছের চাঁদোয়ায় কখনও মাটিতে পতিত পাতা উল্টে খাবার খায়। খাবারের মধ্যে শুঁয়োপোকা ও কোমল পোকামাকড় রয়েছে। মে-জুলাই হিমালয় ও চীনে প্রজনন ঋতু। পূর্বরাগের সময় ছেলেপাখি খোলা অবস্থান, গোধূলিতে ওড়ার সময়, মেঘাচ্ছন্ন দিনে ও পূর্ণিমা রাতে ডাকে। ক্রন্দনের সুরে ৫-৬টি খড়খড় শব্দে ডাকে: দ্যাটস ইউর চকি প্যাপ্যার ...। বাসা তৈরি, ডিম ফোঁটানো ও ছানা পালন এর কোনটিই করে না। মেয়েপাখি খুদে পাখি যেমন-ফুটকি, ছাতারে ও খাটোডানার বাসায় ডিম পাড়ে। ডিমগুলোর মাপ ২.১×১.৪ সেমি.। ডিমের বর্ণ পালকমাতার ডিমের রঙের ওপর ভিত্তি করে সাদা থেকে লাল থেকে পারে।
বিস্তৃত: ছোট পাপিয়া বাংলাদেশের অনিয়মিত পাখি; বসন্তে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে দেখা গেছে বলে তিনটি তথ্য রয়েছে। গ্রীষ্মে প্রজননের জন্য এরা হিমালয়, চীন, জাপান, কোরিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উত্তরাংশে আসে এবং শীতে পূর্ব আফ্রিকা ও দক্ষিণ ভারতে যায়।
অবস্থা: ছোট পাপিয়া বিশ্বে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
বিবিধ: ছোট পাপিয়ার বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ মেটেমাথা কোকিল (ল্যাটিন:cuculus = কোকিল; গ্রীক: polios = ধূসর, kephalos = মাথার)।
বাংলাদেশ উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষে এই নিবন্ধটির লেখক ইনাম আল হক ও সুপ্রিয় চাকমা

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

No comments:

Post a Comment