Monday, June 09, 2014

উদয়ী পাপিয়া বাংলাদেশের অনিয়মিত পাখি



উদয়ী পাপিয়া, ফটো: ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে
দ্বিপদ নাম: Cuculus saturatus
সমনাম: নেই
বাংলা নাম: উদয়ী পাপিয়া  
ইংরেজি নাম: Oriental Cuckoo.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Cuculidae
গণ/Genus: Cuculus, Linnaeus, 1758;  
প্রজাতি/Species: Cuculus saturatus Blyth, 1843
ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকাCuculus গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ৪টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে রয়েছে ১১টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতিগুলো হচ্ছে ১. পাতি পাপিয়া, ২. বউকথাকও পাপিয়া, ৩. ছোট পাপিয়া এবং ৪. উদয়ী পাপিয়া। আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে উদয়ী পাপিয়া
বর্ণনা: উদয়ী পাপিয়া শ্লেট-ধূসর পাখি, তবে কয়েকটি মেয়েপাখি বাদামি রঙের হয় (দৈর্ঘ্য ৩১ সেমি., ওজন ৯০ গ্রাম, ডানা ১৮ সেমি., ঠোঁট ২.৮ সেমি., পা ২.৩ সেমি., লেজ ১৫ সেমি.)। ছেলেপাখির পিঠ ধূসর। গলা ও বুকের উপরিভাগ ধূসর এবং পীতাভ-সাদা দেহতলে কালো ডোরা থাকে। কালচে ধূসর লেজের আগা সাদা ও লেজের বাইরের পালকে অনুক্রমিক সাদা খাঁজ কাটা রয়েছে। মেয়েপাখির রঙের দুটি পর্যায় থাকে যাকে চেহারার রূপ বলে। সাধারণ চেহারায় ধূসর বুকে লালচে আমেজ ছাড়া ছেলেপাখির মত দেখায়। অন্য চেহারায় লালচে-বাদামি পিঠে অনিবিড় কালচে বাদামি ডোরা ও পীতাভ-সাদা দেহতলে কালচে বাদামি ডোরা আছে। লালচে বাদামি লেজে স্পষ্ট কালচে বাদামি ডোরা থাকে। ছেলে মেয়েপাখি উভয়েরই চোখ কমলা-লাল, চোখের কিনারা হলুদ, ঠোঁট শিঙ-সবুজ ও পা হলুদ। অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে মেয়েপাখির মাথার পিছনের সাদা পট্টি ও পিঠের পালকের ফ্যাকাসে বেড় ছাড়া পুরো দেহই তাদের পূর্ণ বয়স্ক পাখির মত। ২টি উপ-প্রজাতির মধ্যে C. s. saturatus বাংলাদেশে পাওয়া যায়।
স্বভাব: উদয়ী পাপিয়া বন, খোলা বনভূমি, ঘেরা ফলের বাগান ও বৃক্ষশোভিত বনভূমিতে বিচরণ করে। সাধারণত পল্লবের নিচে একা লুকিয়ে থাকে। গাছ ও ক্ষুদ্র ঝোঁপে খাবার খায়। খাবার তালিকায় পোকামাকড় ও লোমশসহ শুঁয়োপোকা রয়েছে। হিমালয়, চীন ও সাইবেরিয়ায় মে-জুন প্রজনন ঋতু। পূর্বরাগের সময় ছেলেপাখি কপট কণ্ঠে ডাকে: উউ্প। মেয়েপাখি জল বুদ্বুদ্ শব্দ তুলে অনুক্রমিক ভাবে ডাকে:কুই কুই-কুইকুইকুইকুইকুই। পূর্বরাগ ঘটে প্রায়ই ভোরে ও গোধূলিতে। বাসা বাঁধেনা ও মেয়েপাখি ছোট পাখি যেমন-চুটকি ও হরবোলার বাসায় ডিম পাড়ে। ডিমের রঙ ও আকার পালকমাতার ডিমের সঙ্গে মিলে যায়। ডিম সাধারণত ২.০×১.৩ সেমি. ও ফ্যাকাসে সাদা। পালকমাতার ডিম ফোঁটার ১-২দিন আগে এর ডিম ফোটে।
বিস্তৃতি: উদয়ী পাপিয়া বাংলাদেশের অনিয়মিত পাখি; বসন্তে সিলেট বিভাগে ডাক রেকর্ড করার একটি তথ্য রয়েছে। প্রজননের জন্য এরা পাকিস্তান, ভারত, নেপাল ও ভুটান, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও চীনে আসে এবং শীতে অস্ট্রেলিয়া, নিউগিনি, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশে যায়।
অবস্থা: উদয়ী পাপিয়া বিশ্বে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
বিবিধ: উদয়ী পাপিয়ার বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ বর্ণিল কোকিল (ল্যাটিন: cuculus = কোকিল, saturatus = বর্ণিল)।
বাংলাদেশ উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষে এই নিবন্ধটির লেখক ইনাম আল হক ও সুপ্রিয় চাকমা

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

No comments:

Post a Comment