Thursday, June 05, 2014

পাকরা পাপিয়া বাংলাদেশের দুর্লভ পরিযায়ী পাখি



পাকরা পাপিয়া, ফটো: J M Garg, ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে
দ্বিপদ নাম: Clamator jacobinus
সমনাম: Cuculus jacobinus Boddaert, 1783
বাংলা নাম: পাকরা পাপিয়া, পাপিয়া (অ্যাক্ট),
ইংরেজি নাম: Jacobin Cuckoo, (Pied Cuckoo).

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Cuculidae
গণ/Genus: Clamator, Kaup, 1829;  
প্রজাতি/Species: Clamator jacobinus (Boddaert, 1783)
ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকাClamator গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ২টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে রয়েছে ৪টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতিগুলো হচ্ছে ১. খয়রাপাখ পাপিয়া ও ২. পাকরা পাপিয়াআমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে পাকরা পাপিয়া
বর্ণনা: পাকরা পাপিয়া দীর্ঘ লেজের ঝুটিয়াল পাখি (দৈর্ঘ্য ৩৩ সেমি., ওজন ৬৫ গ্রাম, ডানা ১৫ সেমি., ঠোঁট ২.৬ সেমি., পা ২.৭ সেমি., লেজ ১৬ সেমি.)। পিঠ কালো ও দেহতল সাদা। ডানার প্রাথমিক পালকের গোড়ায় সাদা পট্টি রয়েছে। লেজের পালকের আগার সাদা অংশের অধিকাংশ ওড়ার সময় চোখে পড়ে। চোখ বাদামি ও ঠোঁট শিঙ-কালো রঙের। পা ও পায়ের পাতা শ্লেট-ধূসর এবং নখর কালো। খাটো, মসৃণ ঝুঁটি কাত হয়ে মাথার পিছনে পড়ে থাকে। ছেলেমেয়েপাখির চেহারায় কোন পার্থক্য নেই। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠ ধূসর-বাদামি। পেটে পীতাভ এবং গলা ও বুকের উপরিভাগে ধূসর আমেজ রয়েছে। ঠোঁট ফ্যাকাসে। মাথায় ক্ষুদ্র ঝুঁটি ও ডানায় সাদা ছোট পট্টি আছে। ৩টি উপ-প্রজাতির মধ্যে C. j. pica বাংলাদেশে পাওয়া যায়।
স্বভাব: পাকরা পাপিয়া বন, আবাদি জমি, গাছপালা পরিপূর্ণ এলাকা, বাগান, খামার ও ঝোঁপে বিচরণ করে। সাধারণত একা বা জোড়ায় ও কখনও বা ৫-৬টি পাখির ছোট্ট দলে থাকে। ঘন পাতা ঘেরা গাছের চাঁদোয়া, বনতলের গুল্ম, ঝোপ ও ক্ষুদ্র ঝোঁপে লুকিয়ে খাবার খায়। খাবারের মধ্যে শুঁয়োপোকা, উই, পিঁপড়া, ছারপোকা ইত্যাদি রয়েছে। পরিযায়ন কালে সাধারণত একই জায়গায় একই দিনে বছরের পর বছর ফিরে আসে। জুন-আগস্ট মাস প্রজনন ঋতু। পূর্বরাগের সময় ছেলেপাখি সুমধুর সুরে ডাকে: পীউ পিউ-পিউ(পিউ)-(পিউ): পী-ইউ; পিউ। বাসা তৈরি, ডিমে তা দেওয়া কিংবা ছানা পালন করে না। মেয়েপাখি Turdoides ছাতারের বাসায় একটি ডিম পাড়ে। ডিমের বর্ণ পালকমাতার ডিমের সঙ্গে মিলে যায়।
বিস্তৃতি: পাকরা পাপিয়া বাংলাদেশের দুর্লভ পরিযায়ী পাখি; গ্রীষ্মকালে সকল বিভাগের গ্রামাঞ্চলে পাওয়া যায়; শীতকালে পূর্ব আফ্রিকায় থাকে। আফ্রিকার অধিকাংশ অঞ্চল ও দক্ষিণ এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে; এশিয়া মহাদেশে পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, ইরান, আফগানিস্তান ও মিয়ানমারে পাওয়া যায়।
অবস্থা: পাকরা পাপিয়া বিশ্বে ও বাংলাদেশে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
বিবিধ: পাকরা পাপিয়ার বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ জ্যাকোবিন-এর তীক্ষ্ণকণ্ঠ পাখি (ল্যাটিন: clamator = আর্তনাদকারী পাখি, jacobinus = জ্যাকোবিন, Dominican friars)।
বাংলাদেশ উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষে এই নিবন্ধটির লেখক ইনাম আল হক ও সুপ্রিয় চাকমা

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের

Recommended