Monday, June 30, 2014

প্রলেতারিয়েতগণ অষ্টাদশ শতক পরবর্তীকালের শ্রমশক্তি বিক্রিকারী শ্রমিক শ্রেণি



প্রলেতারিয়েতের আত্মবিশ্বাস

প্রলেতারিয়েত (ইংরেজিতে Proletariat) হচ্ছে পুঁজিবাদী সমাজের অন্যতম প্রধান শ্রেণি। প্রলেতারিয়েত হচ্ছে উৎপাদনের উপায় থেকে বঞ্চিত মজুরি শ্রমিকের শ্রেণি, যারা নিজ শ্রমশক্তি বিক্রয় করে জীবনধারণ করে এবং বুর্জোয়াদের দ্বারা শোষিত হয় সাম্যবাদী ও শ্রমিক শ্রেণির পার্টির নেতৃত্বে সামাজিক প্রগতি ও শান্তির লক্ষ্যে প্রলেতারিয়েত পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে সকল নিপীড়িত ও শোষিত জনগণের সংগ্রাম পরিচালনা করে। প্রলেতারিয়েত বা প্রলেতারিয়ানদের শ্রেণিকে ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস বলেছেন উনিশ শতকের শ্রমিক শ্রেণি এবং সাম্যবাদকে বলেছেন প্রলেতারিয়েতের মুক্তির পদ্ধতি সংক্রান্ত মতবাদ। তিনি তাঁর ‘কমিউনিজমের নীতিমালা’ নামক লেখায় এ সম্পর্কে ১০টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। প্রলেতারিয়েত কী প্রশ্নের উত্তরে তিনি লিখেছেন,
“প্রলেতারিয়েত হলো সমাজের সেই শ্রেণি যে শ্রেণির সদস্যরা সম্পূর্ণ জীবিকার সংস্থান করে কেবল শ্রমশক্তি বিক্রি করে, কোনো রকমের পুঁজির মুনাফা দ্বারা নয়। প্রলেতারিয়েত তাঁদের নিয়েই গঠিত যাদের সুখ-দুঃখ, যাদের জীবন-মৃত্যু, যাদের সম্পূর্ণ অস্তিত্ব নির্ভর করে শ্রমশক্তির চাহিদার উপর_অর্থাৎ ব্যবসায়ের উঠতি-পড়তির পালা বদলের দ্বারা সৃষ্ট অবস্থার উপর, নিয়ন্ত্রণহীন প্রতিযোগিতার খেয়ালখুশির উপর।”[২]
প্রলেতারিয়েত সম্পর্কে কার্ল মার্কস লিখেছেন,
“প্রলেতারিয়েত পায়ের নিচে পড়ে থাকতে রাজি নয়। তাদের রোজকার রুটি যতখানি দরকার তার চেয়েও বেশি দরকার সাহস, আত্মবিশ্বাস, অহংকার, স্বাধীনতা।”[৩]
এঙ্গেলস উল্লেখ করেন যে প্রলেতারিয়েত সব সময় ছিলো না। গরিব জনসাধারণ এবং শ্রমিক শ্রেণিসমূহ সব সময়ই ছিলো এবং শ্রমিক শ্রেণিসমূহ প্রায়শই ছিলো গরিব। কিন্তু শ্রমিক এবং গরিব জনসাধারণ সব সময় উপরে বর্ণিত অবস্থায় ছিলো না। অর্থাৎ অন্য কথায়, সকল সময় এ-রকম অবাধ ও নিয়ন্ত্রণহীন প্রতিযোগিতা যেমন ছিলো না তেমনি প্রলেতারিয়ানেরাও সব সময় ছিলো না।

তথ্যসূত্র:
১. সোফিয়া খোলদ, সমাজবিদ্যার সংক্ষিপ্ত শব্দকোষ, প্রগতি প্রকাশন মস্কো, ১৯৯০, পৃষ্ঠা ১০০।
১. ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস; কমিউনিজমের নীতিমালা, অক্টোবর, ১৮৪৭।
২. কার্ল মার্কস, ব্রাসেলসের জার্মান সংবাদপত্রে লিখিত প্রবন্ধ।

No comments:

Post a Comment