Monday, June 02, 2014

লাল মাছরাঙা বাংলাদেশের বিরল আবাসিক সংকটাপন্ন পাখি



লাল মাছরাঙা, Photo: JasonThompson, ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে
দ্বিপদ নাম: Halcyon coromanda
সমনাম: Alcedo capensis Linnaeus, 1766
বাংলা নাম: লাল মাছরাঙা,
ইংরেজি নাম: Ruddy Kingfisher.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Dalcelonidae
গণ/Genus: Halcyon, Swainson, 1821;  
প্রজাতি/Species: Halcyon coromanda (Latham, 1790)
ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকাHalcyon গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ৩টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে ১১টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতি তিনটি হচ্ছে ১. লাল মাছরাঙা, ২. কালাটুপি মাছরাঙা ও ৩. ধলাগলা মাছরাঙাআমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে লাল মাছরাঙা
বর্ণনা: লাল মাছরাঙা বনের লাল রঙের জলার পাখি (দৈর্ঘ্য ২৬ সেমি, ডানা ১১.৩ সেমি, ঠোঁট ৬.২ সেমি, পা ২ সেমি, লেজ ৬.৫ সেমি)। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠ লাল-কমলা ও দেহতল ফ্যাকাসে লাল। মাথায় দারুচিনি বা উজ্জ্বল লাল-তামাটে রঙ ও ঘাড়ে লাল বেগুনির সৌÍন্দর্য ফুটে উঠেছে। পিঠের নিচে ও পাছায় ফ্যাকাসে নীলের ওপর সাদা আমেজ আছে। কালচে গোড়া এবং ফ্যাকাসে বা পাটল বর্ণের আগাসমেত ঠোঁট লাল। চোখ কালচে বাদামি। পা ও পায়ের পাতা পাটল-লাল বা প্রবাল-লাল। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠ কালচে ও বেশ বাদামি, পাছা নীল ও লাল দেহতলে কালচে ডোরা রয়েছে। কালচে ঠোঁটের আগা কমলা লাল। তরুণ পাখির কোমর ও লেজউপরি-ঢাকনি গাঢ় নীল। গলা ও তলপেটের চারদিকে কালো বেড় থাকে তবে নীলের সৌন্দর্য অনুপস্থিত। ১০টি উপ-প্রজাতির মধ্যে H. c. coromanda বাংলাদেশে আছে।
স্বভাব: লাল মাছরাঙা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় চিরসবুজ বনের নদী ও প্যারাবন জলাভূমিতে বিচরণ করে; সাধারণত একা বা জোড়ায় ঘুরে বেড়ায়। পানির উপরিতল ও কাদায় শিকাখোঁজে এবং তারপর শিকার ধরার জন্য নিচে নেমে আসে; খাবার তালিকায় মাছ, কাঁকড়া, গুবরে পোকা, ফড়িং ও খুদে প্রাণী রয়েছে। জোরে ও দ্রুত ডানা চালিয়ে তাড়াতাড়ি ও সোজা উড়ে চলে। সাধারণত তীব্র শব্দে কম্পিত সুরে ডাকে: টিটিটিটিটিটিটিটি.. এবং সুরেলা কণ্ঠে গান করে: কুয়িররর-র-র-র-র। মার্চ-এপ্রিল মাস প্রজনন ঋতুতে মাটির খাড়া পাড় বা গাছের কাণ্ডে বাসা বানায়; বাসার গর্ত সাধারণত ৪৫-১০০ সেমি. দীর্ঘ ও ৫ সেমি. চওড়া। মেয়েপাখি ৫-৬টি ডিম পাড়ে; ডিম সাদা ২.৭ × ২.৩ সেমি. চওড়া।
বিস্তৃতি: লাল মাছরাঙা বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি; খুলনা বিভাগের প্যারাবনে পাওয়া যায়। ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন, কোরিয়া, জাপান, তাইওয়ান, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, কাম্পুচিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনসহ দক্ষিণ, পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।
অবস্থা: লাল মাছরাঙা বিশ্বে বিপদমুক্ত ও বাংলাদেশে সংকটাপন্ন বলে বিবেচিত । বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
বিবিধ: লাল মাছরাঙার বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ করোম্যান্ডেল-এর মাছরাঙা (গ্রীক: halkuon = মাছরাঙার সঙ্গে সম্পর্কিত পৌরাণিক পাখি; coromanda = করোম্যান্ডেল, চেন্নাইয়ের কাছাকাছি উপকূল, ভারত)।
বাংলাদেশ উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষে এই নিবন্ধটির লেখক মো: আনোয়ারুল ইসলাম ও এম. কামরুজ্জামান

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

No comments:

Post a Comment