Saturday, June 21, 2014

মেটে মালকোআ বাংলাদেশের বিলুপ্ত পরিযায়ী পাখি



মেটে মালকোআ, ফটো: ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে
দ্বিপদ নাম: Phaenocophaeus leschenaultii
সমনাম: Taccona leschenaultii Lesson, 1830
বাংলা নাম: মেটে মালকোআ   
ইংরেজি নাম: Sirkeer Malkoha.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Cuculidae
গণ/Genus: Phaenocophaeus, Stephens, 1815;  
প্রজাতি/Species: Phaenocophaeus leschenaultii (Lesson, 1830)
ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকাPhaenocophaeus গণে বাংলাদেশে রয়েছে ২টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে রয়েছে এর ৬টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতি দুটি হচ্ছে ১. মেটে মালকোআ এবং ২. সবুজঠোঁট মালকোআআমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে মেটে মালকোআ
বর্ণনা: মেটে মালকোআ দীর্ঘ লেজওয়ালা বাদামি পাখি (দৈর্ঘ্য ৪২ সেমি., ডানা ১৬ সেমি., ঠোঁট ৩.৩ সেমি., পা ৪ সেমি., লেজ ২২ সেমি.)। কিছু অংশ ছাড়া দেহের পুরোটাই বালিময় ধূসর-বাদামি। গলা ও বুকের উপরিভাগ পীতাভ এবং পেট লালচে-পীতাভ। পর্যায়ক্রমিক সজ্জিত পালকের বালিময় ধূসর-বাদামি দীর্ঘ লেজের আগা সাদা। মাথার চাঁদি, ম্যান্টল, গলা ও বুকের পালকে কালো শরওয়ালা ডোরা রয়েছে। চোখ বাদামি ও লাল ঠোঁটের আগা হলুদ। পা ও পায়ের পাতা শ্লেট-রঙা এবং নখর শিঙ-বাদামি। ছেলে মেয়েপাখির চেহারায় কোন পার্থক্য নেই। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথা, ম্যান্টল, গলা ও বুকে কালচে বাদামি ডোরা থাকে এবং ডানার কোর্ভাট ও তৃতীয় সারির পালকের প্রান্তদেশ পীতাভ। তরুণ পাখির ডানার কোর্ভাট, স্ক্যাপুলার ও তৃতীয় সারির পালকের প্রান্তদেশ পীতাভ। ৩টি উপ-প্রজাতির মধ্যে P. l. infuscata বাংলাদেশে পাওয়া যায়।
স্বভাব: মেটে মালকোআ শুষ্ক পাতাঝরা বন, অপ্রধান বন, খুদে ঝোপ ও পাহাড়ের পাদদেশ ও প্রস্তরময় এলাকার ঝোঁপে বিচরণ করে। সচরাচর একা বা জোড়ায় থাকে। মাটিতে পতিত পাতা উল্টে বা গুল্মে ডাল থেকে ডালে লাফিয়ে খাবার খায়। খাবারের মধ্যে শুঁয়োপোকা, পঙ্গপাল, ফড়িং, উই, টিকটিকি, ছোট সাপ ও মাটিতে পতিত ফল রয়েছে। ভয় পেলে ওড়ার চেয়ে দৌÍড়াতে পছন্দ করে। সচরাচর কয়েকটি শব্দে ডাকে: কেক-কেক-কেক-কেরেক-কেরেক-কেরেক। মার্চ-জুলাই মাস প্রজনন ঋতু। পূর্বরাগের সময় লেজ পাখার মত মেলে ধরে ও ঠোঁটের অনাবৃত খোলা অংশে কোমল পালক স্পর্শ করে। ভূমি থেকে ২-৩ মিটার উঁচুতে গুল্মশাখে পল্লবের ওপর পাতা দিয়ে বাসা বানায় ও মেয়েপাখি ২-৩টি ডিম পাড়ে। ডিম চকের মত সাদা, মাপ ৩.৫ × ২.৭ সেমি.।
বিস্তৃতি: মেটে মালকোআ বাংলাদেশের প্রাক্তন পরিযায়ী পাখি; বিশ শতকের গোড়ার দিকে চট্টগ্রাম বিভাগে ছিল বলে একটি তথ্য রয়েছে; যদিও চট্টগ্রাম বিভাগ এ প্রজাতির স্বাভাবিক আবাস থেকে দূরে। ভুটান ও মালদ্বীপ ছাড়া ভারত উপমহাদেশের শুস্ক অঞ্চলে এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি সীমাবদ্ধ।
অবস্থা: মেটে মালকোআ বিশ্বে বিপদমুক্ত ও বাংলাদেশে বিপন্ন বলে বিবেচিত। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
বিবিধ: মেটে মালকোআর বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ ল্যেশেনল্ট-এর লাল পাখি (গ্রীক: Phoinikophaes = গাঢ় লাল; leschenaultii = থিওডোর ল্যেশেনল্ট ডিলাটুর, ভারতে ফ্রেঞ্চ উদ্ভিদবিদ ও সংগ্রাহক, ১৮১৬-১৮২২)।
বাংলাদেশ উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষে এই নিবন্ধটির লেখক মো: আনোয়ারুল ইসলাম ও সুপ্রিয় চাকমা

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৪. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ

No comments:

Post a Comment