Friday, June 20, 2014

বেগুনি পাপিয়া বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি



বেগুনি পাপিয়া, ফটো: ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে
দ্বিপদ নাম: Chrysococcyx xanthorhynchus
সমনাম: Cuculus xanthorhynchus Horsfield, 1821
বাংলা নাম: বেগুনি পাপিয়া   
ইংরেজি নাম: Violet Cuckoo.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Cuculidae
গণ/Genus: Chrysococcyx, Boie, 1826;  
প্রজাতি/Species: Chrysococcyx maculatus (Gmelin, 1788)
ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকাChrysococcyx গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ২টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে রয়েছে ১৩টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতিগুলো হচ্ছে ১. এশীয় শ্যামাপাপিয়া ও ২. বেগুনি পাপিয়াআমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে বেগুনি পাপিয়া
বর্ণনা: বেগুনি পাপিয়া ছোট অরণ্য পাখি, ছেলেপাখি বেগুনি ও মেয়েটি ব্রঞ্জ রঙের হয় (দৈর্ঘ্য ১৭ সেমি., ডানা ১০ সেমি., ঠোঁট ১.৬ সেমি., পা ১.৫ সেমি., লেজ ৭ সেমি.)। ছেলেপাখির পিঠ চকচকে বেগুনি। মাথা, ঘাড়, থুতনি, গলা ও বুক বেগুনি রঙের। পেট ও অবসারণীতে একটির পর আরেকটি এমনভাবে সাদা ও বেগুনে-বাদামি ফেটা সজ্জিত থাকে। কালচে লেজের আগা সাদা ও লেজের বাইরের পালকের প্রান্তদেশে সাদা ডোরা আছে। ঠোঁট উজ্জ্বল কমলা। মেয়েপাখির পিঠে তামার পরিলুপ্তিসহ সবুজাভ-ব্রঞ্জ রঙের ও দেহতলে মুখসহ পর্যায়ক্রমে সাদা ও সবুজাভ-ব্রোঞ্জের ফেটা থাকে। সবুজাভ লেজের আগা সাদা। ঠোঁট অনুজ্জ্বল হলুদ। ছেলে মেয়ে উভয়েরই চোখ লাল, লাল পাড়সহ চোখের পাতা সবুজ এবং পা ও পায়ের পাতা বাদামি-সবুজ। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখি মেয়েপাখির মত হলেও লালচে মাথার চাঁদি ও ঘাড়ের পিছনে প্রশস্ত কালচে সবুজ ডোরা থাকে। ২টি উপ-প্রজাতির মধ্যে C. x. xanthorhynchus বাংলাদেশে পাওয়া যায়।
স্বভাব: বেগুনি পাপিয়া চিরসবুজ বন, অপ্রধান বন ও ঘেরা বাগানে বিচরণ করে। সাধারণত একা, জোড়ায় বা ৪-৬টি পাখির ছোট দলে থাকে। উঁচু জায়গা থেকে গাছের আগায় শিকার পর্যবেক্ষণ করে ও হঠাৎ শিকারকে ছোঁ মারে। খাবার তালিকায় শুঁয়োপোকা, ছারপোকা ও অন্যান্য কোমল পোকামাকড় রয়েছে। সচরাচর কোন ডালে পশুর মত শুয়ে অবস্থান করে। দ্রুত উড়তে পারে এবং বারবার সামান্য ওড়ে আবার নিজ অবস্থানে ফিরে আসার কারণে কখনও ক্লান্ত হয় না। গ্রীষ্মে প্রজনন ঋতুতে ছেলেপাখি সারাদিন ও পূর্ণিমা রাতে ‘‘গান’’ গায়। উচ্চ শব্দে ও দ্রু কম্পিত গলায় গানগায়: চি-উইক। বাসা তৈরি করে না। মেয়েপাখি মৌটুসি ও মাকড়মারের বাসায় ডিম পাড়ে। ডিম উজ্জ্বল বাদামি বা লালচে-বাদামি ফসকুড়িসহ সাদাটে, মাপ ১.৭ × ১.২ সেমি.।
বিস্তৃতি: বেগুনি পাপিয়া বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি; সিলেট বিভাগের চিরসবুজ বনে পাওয়া যায়। পূর্ব ভারত ও ভুটান থেকে চীনের দক্ষিণে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে; দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে পাওয়া যায়।
অবস্থা: বেগুনি পাপিয়া বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশে অপ্রতুল-তথ্য শ্রেণিতে রয়েছে। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয় নি।
বিবিধ: বেগুনি পাপিয়ার বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ হলুদঠোঁট সোনাপাপিয়া (গ্রীক: khrusos = সোনা, cuculus = পাপিয়া; xanthos = হলুদ, rhunkhos = ঠোঁট)।
বাংলাদেশ উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষে এই নিবন্ধটির লেখক মো: আনোয়ারুল ইসলাম ও সুপ্রিয় চাকমা

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

No comments:

Post a Comment