Monday, July 07, 2014

জনগণের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের কর্মপদ্ধতি প্রসঙ্গে



গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রধান কথাই হচ্ছে সকল শ্রেণির বিলুপ্তি
গণতান্ত্রিক চেতনা জনগণের সংগ্রামী চেতনার সাথে জড়িত। সংগ্রাম বলতে বোঝায় মানুষের জীবন, জীবনবোধ ও তার পরিবেশ উন্নত করার সংগ্রাম। সংগ্রাম বলতে বোঝায় অন্যায়, অত্যাচার, আগ্রাসন, শোষণ, লুটতরাজ, মুনাফা, যন্ত্রণা, দারিদ্র, হতাশা, অন্ধকার, পরাধীনতা ইত্যাদির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও কর্মসূচি নিয়ে একটি ন্যায় ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াই। এ লড়াই মুখের কথায় চলে না, সাদা পাতায় প্রবন্ধ লিখেও চলে না; এ লড়াই চালাতে হলে কর্মপদ্ধতি লাগে, শত্রুকে চিহ্নিত করা ও তাদেরকে উচ্ছেদ করা লাগে। কাজেই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের শত্রু কারা সেটি চিহ্নিত করা জরুরি।
বাংলাদেশে জনগণের মৌলিক চাহিদাগুলো এখনও পূরণ হয়নি। জনগণের দুর্দশার জন্য দায়ি ব্যক্তিদের, জনগণের দুর্দশার জন্য দায়ি শ্রেণিটিকে উচ্ছেদ করার জন্য কর্মপদ্ধতি দরকার। জনপীড়নকারী ও নির্যাতক শ্রেণিটিকে উৎখাত করা জনগণের পরম গণতান্ত্রিক কর্তব্য। জনগণের গণসংগ্রাম ও শ্রেণিসংগ্রামের কর্মপদ্ধতি বলতে বোঝায় জনগণের কর্মসূচি, কর্মনীতি, উদ্দেশ্য সাধনের উপায় নির্ধারণ, নেতৃত্ব নির্বাচন ও নেতৃত্ব প্রদান, সমস্যা তুলে ধরা ও সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান বের করা, সমস্যা সংক্রান্ত প্রশ্ন করা ও তার উত্তর নির্ধারণ, সমস্যার তথ্য সংরক্ষণ ও তথ্যের আদান-প্রদান, অভিজ্ঞতার সার সংকলন, সফলতা ও ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ, সমস্যা সংক্রান্ত পঠন-পাঠন, বিভিন্ন কাজের সমন্বয় সাধন, প্রধান কাজ ও অপ্রধান কাজ নির্ধারণ, যৌথ কাজ ও ব্যক্তিগত কাজ নির্ধারণ এবং দুটিকেই গুরুত্ব প্রদান, কাজের উন্নতিসাধনের প্রক্রিয়া বের করা, দায়িত্ব নির্ধারণ ও দায়িত্বের যৌথ বণ্টন, ভিন্ন মতাবলম্বীদের সাথে আলোচনা সমালোচনা ও সমন্বয়সাধন, ভিন্নমতাবলম্বীদের সাথে কাজের ধারা নির্ধারণ, কাজের সহায়কশক্তি নির্ধারণ এবং তাদের সাহায্য গ্রহণ, সংগ্রামের ক্ষেত্রে মাত্রাজ্ঞান ও কাণ্ডজ্ঞান কাজে লাগিয়ে জনজীবনের অবস্থার উন্নতি সাধনএসব প্রক্রিয়াকে অবলম্বন করার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে সমাজকে বদলে দেয়া এবং অর্থনীতিকে উলটে ফেলা, শোষণমূলক অর্থনীতিকে সমতার অর্থনীতিতে রূপান্তর করা
জনগণ গণতান্ত্রিক হলে তাদের আত্মসম্মানবোধ ও আত্মমর্যাদাবোধ বৃদ্ধি পায় এবং তারা স্বাতন্ত্র্য উপলব্ধি করতে পারে। গণতান্ত্রিক জনগণ তাদের অধিকার সম্বন্ধে সচেতন হয়, দায়িত্ব পালনে ভীত থাকে না, সমস্বার্থের ভিত্তিতে দলবদ্ধ থাকে, যৌথ সামাজিক জীবনে সমমর্যাদায় সমঅধিকারে এবং স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায়, সামর্থ্য অনুযায়ী সম্পদ উৎপাদন করে, সম্পদের যৌথ বণ্টন করে, জীবনব্যবস্থাকে সচল ও গতিশীল রাখে। গণতান্ত্রিক জনগণের একটি প্রধান কাজ হচ্ছে অন্ধ কুসংস্কারের ও সব রকম কানাগলির বিপক্ষে লড়াই করে, বিজ্ঞানের মাধ্যমে নিজেদের চিন্তাচেতনাকে উন্নত করে, দ্বান্দ্বিক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদের ভিত্তিতে পরিবেশ তৈরি করে। এক কথায় গণতান্ত্রিক জনগণ হচ্ছে তারাই যারা সমস্ত সংগ্রামের রূপ, রূপভেদ ও পদ্ধতিসমূহকে সমৃদ্ধ পুঞ্জীভূত করে ‘সাহস, আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদা জ্ঞান এবং স্বাতন্ত্র্যবোধ’সম্পন্ন হয়ে সকল শ্রেণির বিলুপ্তির জন্য অবিরত লড়াই করে। আর এই জনগণের অগ্রগামি বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেই প্রলেতারিয়েত শ্রেণি যারা এক ব্যাপক ও প্রকাশ্য সংগ্রাম চালাতে পারে মুক্তির জন্য।

No comments:

Post a Comment