Saturday, July 05, 2014

ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস রচিত 'কমিউনিজমের নীতিমালা'



প্রলেতারিয়েত কেবল শ্রমশক্তি বিক্রি করে, ---ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস

প্রশ্ন-১. কমিউনিজম কি?
উত্তর: কমিউনিজম হল প্রলেতারিয়েতের মুক্তির পদ্ধতি সংক্রান্ত মতবাদ।
প্রশ্ন-২. প্রলেতারিয়েত কি?
উত্তর: প্রলেতারিয়েত হলো সমাজের সেই শ্রেণি যে শ্রেণির সদস্যরা সম্পূর্ণ জীবিকার সংস্থান করে কেবল শ্রমশক্তি বিক্রি করে, কোনো রকমের পুঁজির মুনাফা দ্বারা নয়। প্রলেতারিয়েত তাঁদের নিয়েই গঠিত যাদের সুখ-দুঃখ, যাদের জীবন-মৃত্যু, যাদের সম্পূর্ণ অস্তিত্ব নির্ভর করে শ্রমশক্তির চাহিদার উপর_অর্থাৎ ব্যবসায়ের উঠতি-পড়তির পালা বদলের দ্বারা সৃষ্ট অবস্থার উপর, নিয়ন্ত্রণহীন প্রতিযোগিতার খেয়ালখুশির উপর। এককথায় প্রলেতারিয়েত বা প্রলেতারিয়ানদের শ্রেণি হল উনিশ শতকের শ্রমিক শ্রেণি
প্রশ্ন-৩. তাহলে কি প্রলেতারিয়ানেরা সকল সময় ছিলো না?
উত্তর: না। গরিব জনসাধারণ এবং শ্রমিক শ্রেণিসমূহ সব সময়ই ছিলোশ্রমিক শ্রেণিসমূহ প্রায়শই ছিলো গরিব। কিন্তু শ্রমিক এবং গরিব জনসাধারণ সকল সময়ই ঠিক উপরে বর্ণিত অবস্থায় ছিলো না। অন্য কথায়, সকল সময় এ-রকম অবাধ এবং নিয়ন্ত্রণহীন প্রতিযোগিতা যেমন ছিলো না তেমনি প্রলেতারিয়ানেরাও সব সময় ছিলো না।
প্রশ্ন-১৮. এই বিপ্লবের কার্যক্রম কি হবে?
উত্তর: সর্বোপরি এই বিপ্লব একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রতিষ্ঠা করবে, এবং তা দ্বারা প্রলেতারিয়েতের প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ রাজনৈতিক শাসন। ইংল্যান্ডে তা হবে সরাসরি, কারণ জনগণের অধিকাংশ সেখানে ইতিমধ্যেই হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রলেতারিয়ান; জার্মানি ও ফ্রান্সে তা হবে পরোক্ষভাবে, কারণ সেখানে জনগণের অধিকাংশ শুধু প্রলেতারিইয়ান নিয়ে গঠিত নয়, জনগণের অধিকাংশের মধ্যে প্রলেতারিয়ান ছাড়াও রয়েছে ক্ষুদ্র কৃষকেরা ও পাতি-বুর্জোয়ারা_ যারা এখন প্রলেতারিয়ানে পরিণত হবার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে, যারা তাদের সকল রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য ক্রমবর্ধমানহারে প্রলেতারিয়েতের উপর নির্ভরশীল, যারা প্রলেতারিয়েতের দাবিগুলির মধ্যে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে। এজন্য দ্বিতীয় একটি সংগ্রামের প্রয়োজন হবে, কিন্তু তারও অনিবার্য ফল হবে প্রলেতারিয়েতের বিজয়।
গণতন্ত্র প্রলেতারিয়েতের জন্য সম্পূর্ণ মূল্যহীন হয়ে পড়বে যদি তাকে সংগে সংগে ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিরুদ্ধে এবং প্রলেতারিয়েতের জীবিকার নিশ্চয়তা বিধানের অনুকূলে পরিকল্পনা গ্রহণের উপায় হিসেবে ব্যবহার করা না হয়। বর্তমান সম্পর্কসমূহের অনিবার্য ফল হিসেবে উদ্ভূত প্রধান পরিকল্পনাগুলো হবে নিম্নরূপ:
. ক্রমবর্ধমান কর আরোপ, অত্যুচ্চহারে উত্তরাধিকার কর আরোপ, ভাই-ভাতিজা ইত্যাদি জ্ঞাতিত্বের উত্তরাধিকার বিলোপ, বাধ্যতামূলক ঋণ ব্যবস্থা প্রচলন ইত্যাদির মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পত্তির সীমা নির্ধারণ।
২. আংশিকভাবে রাষ্ট্রীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা দ্বারা এবং অংশত লিখিত অঙ্গীকারপত্রের মাধ্যমে সরাসরি ক্ষতিপূরণের দ্বারা ভূস্বামীদের, কারখানা মালিকদের এবং রেলওয়ে ও শিপিং-এর ধনশালী লোকদের স্বত্বচ্যুত করা।
৩. সকল দেশত্যাগীর এবং জনগণের অধিকাংশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা।
৪. জনতার মালিকানাধীন জমিতে, কর্মশালায় ও কারখানায় শ্রম সংগঠন অথবা প্রলেতারিয়ানদের নিয়োগ করা এবং তার দ্বারা শ্রমিকদের মধ্যে প্রতিযোগিতার অবসান ঘটানো, এবং কারখানা মালিকেরা যতক্ষণ টিকে থাকছে ততক্ষণ রাষ্ট্র যেমন উচ্চ মজুরি দিচ্ছে তেমন উচ্চ মজুরি দিতে তাদেরকে বাধ্য করা।
৫. ব্যক্তিগত সম্পত্তি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সমাজের সকল সদস্যের কাজের সমান দায়িত্ব পালন। শিল্পকর্মী দল গঠন, বিশেষ করে কৃষির জন্য।
৬. রাষ্ট্রীয় পুঁজির দ্বারা পরিচালিত একটি জাতীয় ব্যাংকের রাষ্ট্রের হাতে ঋণের ও অর্থ-ব্যবস্থার কেন্দ্রীকরণ এবং ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ব্যাংক ও ব্যাংক-মালিকদের মাথা তুলতে না দেয়া।
৭. জাতীয় কলকারখানা, কর্মশালা, রেলপথ এবং জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি; নতুন জমি চাষের আওতায় আনা এবং বর্তমানে যেসব জমি আবাদি রয়েছে সেগুলোর উন্নয়ন_ এসবই করতে হবে পুঁজি এবং শ্রমশক্তি বৃদ্ধির অনুপাতে সম্পূর্ণ জাতীয় পরিচালনা।
৮. মায়ের কোল ছাড়ার পর থেকে সকল শিশুর জাতীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে জাতীয় খরচে শিক্ষার ব্যবস্থা করা। শিক্ষা এবং উৎপাদন এক সাথে চলবে।
৯. কৃষি এবং শিল্পে নিয়োজিত বিভিন্ন দলভুক্ত নাগরিকদের জন্য তাদের জীবনযাত্রার সংগে সংগতিপূর্ণ, শহর এবং গ্রামের সুবিধা বিবেচনা করে এবং এ দুয়ের একমাত্রিকতা ও সীমাবদ্ধতা পরিহার করে, রাষ্ট্রীয় জমিতে বিরাট বিরাট অট্টালিকা নির্মাণ।
১০. শহরের জেলাগুলোতে তাড়াহুড়া করে বানানো নোংরা এবং অস্বাস্থ্যকর সকল বাসস্থানের উচ্ছেদ সাধন।
১১. বিবাহ-বন্ধনের আগে এবং পরে জন্ম নেয়া শিশুদের উত্তরাধিকার দান।
১২. সকল যানবাহন রাষ্ট্রের হাতে কেন্দ্রীভূত করা।
অবশ্য এই সমস্ত পরিকল্পনা হটাত বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। কিন্তু এর একটা সব সময় অন্যটাকে সহযোগিতা করবে। ব্যক্তিগত সম্পত্তির উপর একবার আমূল আক্রমণ পরিচালিত হলে প্রলেতারিয়েত নিজেই আরো এগিয়ে যাওয়ার গতি লাভ করবে, তখন প্রলেতারিয়েত রাষ্ট্রের হাতে বর্ধিষ্ণু হারে সমস্ত পুঁজি, সমস্ত কৃষি, সকল শিল্প, সকল যানবাহন, সমস্ত বাণিজ্য কেন্দ্রীভূত করার কাজে এগিয়ে যেতে বাধ্য হবে। পূর্বোক্ত প্রতিটি পরিকল্পনাই এই লক্ষ্য সামনে রেখে করা হয়েছে। প্রলেতারিয়েতের শ্রমশক্তি দ্বারা কোনো দেশের উৎপাদনী শক্তি যে অনুপাতে বিকশিত হবে সেই অনুপাতেই ঐ পরিকল্পনাগুলির বাস্তবায়নের সম্ভাবনা দেখা দেবে, কেন্দ্রীকরণের শক্তি বিকশিত হবে। শেষ পর্যন্ত যখন সমস্ত পুঁজি, সমস্ত উৎপাদন, সমস্ত বিনিময় জাতির হাতে একত্রিত হবে, তখন ব্যক্তিগত সম্পত্তি আপনা থেকেই নিশ্চিহ্ন হবে, টাকা হয়ে দাঁড়াবে অপ্রয়োজনীয়, আর উৎপাদন এত বৃদ্ধি পাবে এবং মানুষ এতো পরিবর্তিত হয়ে যাবে যে, পুরাতন সামাজিক সম্পর্কগুলোর শেষ নিদর্শনগুলোও খোলস ত্যাগ করে নতুন হয়ে উঠবে।
প্রশ্ন-১৯. এই বিপ্লব কি কোনো একটি দেশে এককভাবে সংঘটিত হতে পারবে?
উত্তর: না। বিশ্ববাজার সৃষ্টি করে বৃহদায়তন শিল্প পৃথিবীর সকল জাতিকে, বিশেষ করে সভ্য জাতিগুলোকে, পরস্পরের সংগে এমন ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত করে দিয়েছে যে, অন্যদের কি ঘটছে তা থেকে কেউই মুক্ত নয়। অধিকন্তু বৃহদায়তন শিল্প সকল সভ্যদেশের সমাজ উন্নয়নকে এতোই সম্পর্কিত করেছে যে তাদের সকলের মধ্যে বুর্জোয়া এবং প্রলেতারিয়েত_ এই দুটি শ্রেণি নির্ধারক শ্রেণিতে পরিণত হয়েছে, এবং তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্বই আজকের সময়ের প্রধান দ্বন্দ্ব। সুতরাং কমিউনিস্ট বিপ্লব নিতান্তই জাতীয় বিপ্লব হবে না; সকল সভ্য দেশে_ অন্তত ইংল্যান্ড, আমেরিকা, ফ্রান্স এবং জার্মানিতে_ একই সময়ে এই বিপ্লব ঘটবে। এইসব দেশের প্রত্যেকটির অভ্যন্তরীণ অবস্থার মধ্যে আরো উন্নত শিল্প, অধিকতর সম্পদ এবং উৎপাদনী শক্তিসমূহের আরো গুরুত্ববহ জনগোষ্ঠীর উপর ভিত্তি করে আরো দ্রুত কিংবা আরো ধীর গতিতে বিকশিত হবে বিপ্লব। সুতরাং জার্মানিতে বিপ্লব হবে সবচাইতে ধীর গতিতে এবং সেখানে বিপ্লব সব চাইতে বেশি বাধারও সম্মুখীন হবে, সব চাইতে দ্রুত এবং সব চাইতে সহজ হবে ইংল্যান্ডে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের উপর এর বিরাট ও গভীর প্রভাব পড়বে এবং তাদের এ যাবত কালের উন্নয়নের ধারাকে মৌলিকভাবে বদলে দেবে_ ত্বরান্বিত করবে। এ হবে বিশ্বব্যাপী বিপ্লব; সুতরাং এর পরিধিও হবে বিশ্ববিস্তৃত
২২. বর্তমান জাতিসমূহের প্রতি কমিউনিস্ট সমাজ কি দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করবে?
_ অপরিবর্তিত
২৩. বর্তমান ধর্মসমূহের প্রতি এর দৃষ্টিভঙ্গি কি হবে?
_ অপরিবর্তিত
২৪. সমাজতন্ত্রীদের সাথে কমিউনিস্টদের পার্থক্য কোথায়?
উত্তর: তথাকথিত সমাজতন্ত্রীরা তিন ভাগে বিভক্তপ্রথম প্রকারের দলে রয়েছে সেইসব ব্যক্তি যারা জড়িত সামন্ত এবং গোত্রমূলক সমাজের সাথে, যে-সমাজ বৃহদায়তন শিল্প, বিশ্ব বাণিজ্য এবং তাদের সৃষ্ট বুর্জোয়া ব্যবস্থা দ্বারা ইতিমধ্যেই ধ্বংস হয়ে গেছে এবং প্রতিদিন ধ্বংসের দিকে যাচ্ছেবর্তমান সমাজের অনাচার এবং অন্যায় দেখে এই দল সিদ্বান্ত টানে যে, সামন্ত এবং গোত্রমূলক সমাজ অবশ্য ফিরিয়ে আনা উচিত, কারণ সেই সমাজে এ-রকম অনাচার পাপ নেইযেভাবেই হোক, তাদের সকল প্রস্তাবকেই তারা এই সিদ্বান্তের দিকেই নিয়ে যায়এই ধরনের ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ সমাজতন্ত্রীদের সমস্ত আপাতসৌভ্রাত্ব এবং প্রলেতারিয়েতের দুর্দশার জন্য তাদের কুম্ভীরাশ্রু বর্ষণ সত্ত্বেও নিম্নলিখিত কারণসমূহের জন্য কমিউনিস্টরা তাদেরকে যথাসাধ্য বাধা দেয়:
. -দল এমন কিছু চায় যা সম্পুর্ণ অসম্ভব
. তারা অভিজাত সম্প্রদায়, গিল্ডকর্তা, কারখানা মালিক তাদের আনুষঙ্গিক নিরঙ্কুশ বা সামন্ততান্ত্রিক রাজতন্ত্র, আমলা, সৈনিক ধর্মযাজকদের শাসনাধীন এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায় যা নিশ্চিতভাবে আজকের সমাজের অনাচার অন্যায় থেকে মুক্ত ছিল, কিন্তু তার সঙ্গে যুক্ত ছিল অন্তত সমপরিমাণ অনাচার অন্যায় এবং তা নিপিড়িত শ্রমিকদের কমিউনিস্ট সমাজের মাধ্যমে মুক্তিলাভের সুযোগও প্রদান করতো না
. যখনই প্রলেতারিয়েত বিপ্লবী কমিউনিস্ট হয়ে উঠে, তখনই প্রতিক্রিয়াশীল সমাজতন্ত্রীরা প্রলেতারিয়ানদের বিরুদ্ধে বুর্জোয়াদের সাথে এক লক্ষে মিলিত হয়ে তাদের আসল রঙ প্রকাশ করে
দ্বিতীয় প্রকারের দলে বর্তমান সমাজব্যাবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট সেইসব ব্যক্তি রয়েছেন যারা নিজেদের কৃত অনাচার অন্যায়ের ভয়ে ভীত স্বাভাবিকভাবে তারা চান, বর্তমান সমাজব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে এবং সেই সঙ্গে এই ব্যবস্থার অস্তিত্বের সাথে জড়িত অনাচার অন্যায় থেকে মুক্ত থাকতে এই উদ্দেশ্যে কেউ কেউ নিতান্তই জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনার প্রস্তাব করেন আবার অন্যরা এগিয়ে আসেন জাঁকাল-সব সংস্কার-পরিকল্পনা নিয়ে যেসব পরিকল্পনা সমাজকে নতুনভাবে সংগঠিত করবেকিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই সংস্কার-প্রস্তাবকেরা বর্তমান সমাজ ব্যাবস্থার ভিত্তি সমূহ অর্থাৎ বর্তমান সমাজব্যবস্থার প্রাণকে রক্ষা করতে চান, তাদের সংস্কার-প্রস্তাব ভাঁওতা মাত্র কমিউনিস্টেরা অবশ্যই এই বুর্জোয়া সমাজতন্ত্রী’দের বিরুদ্ধে নিরাপোস সংগ্রাম করে; কারণ তারা কমিউনিস্টদের শত্রুদের পক্ষে কাজ করে এবং কমিউউনিস্টরা যে সমাজব্যাবস্থাকে উৎখাত করতে চায় তারা তাকেই রক্ষা করতে চায়
আর তৃতীয় প্রকারের দল গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত যারা কমিউনিস্টদের দ্বারা প্রস্তাবিত (পাণ্ডুলিপিতে এখানে শূন্যস্থান রয়েছে। ১৯ নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।_ সম্পাদক) প্রশ্নোত্তরে বর্ণিত কিছুকিছু কর্মসূচির প্রতি আনুকূল্য প্রদর্শন করেন এই বিশ্বাস থেকে যে, পরিকল্পনাগুলি বর্তমান সমাজের দূর্দশা এবং অনাচারকে বিলুপ্ত করার জন্য যথেষ্ট; কমিউনিজমের উত্তরণের অংশ হিসেবে এগুলোকে তারা সমর্থন করেন নাএইসব ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী’রা হচ্ছেন সেই সব প্রলেতারিয়ান যারা নিজেদের শ্রেণির মুক্তির শর্তাবলী এখনো পরিস্কারভাবে বুঝতে পারেননি, অথবা তাঁরা হচ্ছেন পাতিবুর্জোয়া শ্রেণির প্রতিনিধিত্বকারী শ্রেণি যে শ্রেণি গণতন্ত্রের সমাজতান্ত্রিক পরিকল্পনার দাবি তোলে এবং এগুলো বাস্তবায়নের পূর্বে প্রলেতারিয়েতের সাথে নিজেদের অনেক স্বার্থ সাধারণ দেখতে পায় এর অর্থ এই দাড়ায় যে, কাজের সময় গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীদের সাথে কমিউনিস্টদের বোঝাপড়ায় আসতে হবে, এবং সাধারণত সাময়িকভাবে যতক্ষণ পারা যায় তাদের সাথে একই কর্মনীতি গ্রহণ করতে হবে-অবশ্য যদি এই সমাজতন্ত্রীরা শাসক বর্জুয়া শ্রেণির সেবায় নিয়োজিত না হন এবং কমিউনিস্টদের আক্রমণ না করেন সুতারাং স্পষ্ট যে কার্যক্ষেত্রে তাদের সাথে এই ধরনের সহযোগীতা মতপার্থক্যের প্রশ্নকে দূরে রাখে না
বি. দ্র.: অক্টোবর, ১৮৪৭ সালে ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস রচিত ‘কমিউনিজমের নীতিমালা’ পুস্তিকার অংশবিশেষ এখানে সঙ্কলিত এবং এ অনুবাদটুকু নেয়া হয়েছে আফজালুল বাসার অনূদিত নন্দন প্রকাশন, অক্টোবর, ১৯৮৬ ঢাকা থেকে প্রকাশিত পুস্তিকা থেকে।

No comments:

Post a Comment