Wednesday, July 23, 2014

রায়মঙ্গল বাংলাদেশ ভারতের আন্তঃসীমান্ত নদী





রায়মঙ্গল নদী
রায়মঙ্গল নদী (ইংরেজি: Raimangal River) বাংলাদেশ-ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদীনদীটির দৈর্ঘ্য বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য ৬২ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ২২৬৫ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা "পাউবো" কর্তৃক রায়মঙ্গল নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ৮৩[১]

প্রবাহ: রায়মঙ্গল নদীটি সুন্দরবনের কাছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার সীমান্ত ঘেঁষে প্রবাহিত হয়েছে। হিঙ্গলগঞ্জের কাছে ইছামতি নদী কয়েকটি জলধারায় বিভক্ত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে রায়মঙ্গল নদী, বিদ্যাধরী নদী, ঝিলা নদী, কালিন্দী নদী এবং যমুনা নদী। সুন্দরবনের উপকূল জুড়ে এই নদীগুলো প্রশাখা বিস্তার করেছে। নদীটি সুন্দরবনের অভ্যন্তরস্থ নৌচলাচল পথ হিসেবে নদীটি ব্যবহৃত হয়। নদীটি উপকূলীয় জোয়ার ভাঁটার নদী।[]

শ্যামনগর ও সুন্দরবনের পশ্চিমদিকের বৃহত্তম নদী রায়মঙ্গল নদীও পদ্মার সাথে সংযুক্তমাথাভাঙ্গা নদী ভৈরব ছেড়ে দক্ষিণ দিকে কৃষ্ঞগঞ্জের নিকট চুনী নাম ধারন করে উহার এক শাখা পূর্বাভিমুখে বহির্গত হয়েছে নদীর নাম ইছামতিইছামতি বনগ্রাম রেল স্টেশনের পূর্বদিক দিয়ে গোবরডাঙ্গার দক্ষিণে বিখ্যাত যমুনা নদীর সাথে মিশেছেভাগীরথী হতে বাঘের খাল নামক স্থান যমুনার উৎপত্তিস্থলযমুনা ক্রমে চৌবেড়িয়া গোবরডাঙ্গা ঘুরে অবশেষে চারাঘাটের নিকট ইছামতির সাথে মিলিত হয়েছেইছামতি সোজা দক্ষিণমুখী হয়ে বসিরহাট, টাকী, দেবহাটা, শ্রীপুর, কালিগঞ্জ হয়ে ঐতিহাসিক যশোর বাঈশ্বরীপুরে মিশেছেএখানেই রাজা প্রতাপাদিত্যের প্রসিদ্ধ যশোর রাজ্যের রাজধানী ছিলবসন্তপুর হতে ইছামতি-কালিন্দী নাম গ্রহণ করেছে। পূর্বে এটি একটি খালের মত ছিলপরে কালিন্দী নদীর প্রবাহ বৃদ্ধি পেতে থাকেসাহেবখালী কাকশিয়ালী খাল খননের পর কালিন্দী বেগবতী হয়ে সুন্দরনের মধ্যে প্রবেশ করে রায়মঙ্গল নাম ধারন করে নদী বর্তমান বাংলাদেশ ভারতের সীমা নির্দেশ করেদেশবিভাগের পর রায়মঙ্গলের তীরে সীমান্ত পুলিশ শুল্ক বিভাগের  অফিস স্থাপিত হয়েছেরায়মঙ্গল ক্রমাগত ভীম মূর্তি ধারন করতঃ বঙোগাপসাগরে পতিত হয়েছেরায়মঙ্গল নদী মাদারবাড়ীর চরের উত্তর দিক হতে নদী পশ্চিম-দক্ষিণমুখী হয়ে হরিণ ভাঙ্গা নাম ধারন করতঃ সাগরগর্ভে বিলীন হয়েছেমাদারবাড়ীর চর প্রথমে ভারতের অন্তর্ভুক্ত ছিলপরে উহা বাংলাদেশ ভুক্ত হয়েছে

তথ্যসূত্র:
১. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ৭১, ISBN 984-70120-0436-4.
২. বাংলা উইকিপিডিয়া
৩. শ্যামনগর উপজেলার নদনদী, সাতক্ষীরা জেলা তথ্য বাতায়ন 

আরো পড়ুন:

.বাংলাদেশের পাখির তালিকা

.বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৪.বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৫.বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ

 

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের

Recommended