Wednesday, July 09, 2014

সুমাত্রার গণ্ডার পৃথিবীর মহাবিপন্ন গণ্ডার



সুমাত্রার গণ্ডার, ওয়ে কাম্বাস জাতীয় উদ্যানে, Photo: Hadi Wijoyo
সুমাত্রার গণ্ডার পৃথিবীর মহাবিপন্ন স্তন্যপায়ী। পৃথিবীতে যে তিন প্রজাতির গণ্ডার পাওয়া যায় তার ভেতর এটি সবচেয়ে ছোট এবং এটির বিলুপ্তির ঝুঁকিও সবচেয়ে বেশি। এটি শুধু ইন্দোনেশিয়াতে পাওয়া যায়। এটির বৈজ্ঞানিক নাম (Dicerorhinus sumatrensis) এবং সাধারণ নাম হচ্ছে Sumatran rhinoceros.
সুমাত্রার গণ্ডার সংরক্ষণ প্রোগ্রামের আওতায় বুকিত বরিসন সেলেতান জাতীয় উদ্যান এবং ওয়ে কাম্বাস জাতীয় উদ্যানে এই প্রজাতির গণ্ডারকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়াও কাম্বাস জাতীয় উদ্যানের স্যাঞ্চুয়ারিতে বন্দি অবস্থায় প্রজননের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় প্রথম সাফল্য আসে ২৩ জুন, ২০১২ তে।
৯ আগস্ট, ২০১২ তে রেডিও তেহরানের এক খবরে জানা যায় ইন্দোনেশিয়ার একটি জাতীয় পার্কে গোপন ক্যামেরা দিয়ে বিরল প্রজাতির সাতটি সুমাত্রার গণ্ডারের চিত্র ধারণ করা হয়েছে। সুমাত্রা দ্বীপের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত মাউন্ট লিউসার জাতীয় উদ্যানে গত ২৬ বছরে এ প্রজাতির কোনো গণ্ডার  দেখা যায়নি এবং এ  সব গণ্ডার বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে মনে করা হয়েছিল। লিউসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন পরিচালিত প্রকল্পের দলনেতা তারমিজি এ কথা জানান।
গত ২০১১ সালের বছরের জুন থেকে এবং ২০১২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত  এ পার্কে ২৮টি ইনফ্রারেড ক্যামেরা বসানো হয়। এসব ক্যামেরায় তোলা  ১০০০টি ছবিতে ছয়টি মাদী এবং একটি মর্দা সুমাত্রীয় গণ্ডার দেখা গেছে।
তারমিজি বলেন, লিউসার জাতীয় পার্কে যে সুমাত্রার গণ্ডার আছে তা নিয়ে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাবে এই সব ছবি। আর এ কারণে বিরল প্রজাতির এ গণ্ডার প্রজাতি সংরক্ষণের  প্রচেষ্টা আরো জোরদার হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
গত ২০ বছরে সুমাত্রীয় গণ্ডারের সংখ্যা ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে এ ধরণের অনূর্ধ্ব ১০০ গণ্ডার টিকে আছে বলে মনে করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গণ্ডার অবৈধ শিকারিদের হাতে প্রাণ হারায়। গণ্ডারের শিংসহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ  শক্তিবর্ধক নানা কবিরাজি চিনা ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া, অবৈধভাবে বন-জঙ্গল উজাড় করায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে গণ্ডারের আবাসস্থল। 

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৪. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ 

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের

Recommended