Friday, August 01, 2014

সারিগোয়াইন নদী বাংলাদেশ ও মেঘালয়ের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী






সারি গোয়াইন নদীর প্রবাহ
সারিগোয়াইন নদী (ইংরেজি: Sarigoain River): সারিগোয়াইন নদীটি বাংলাদেশ ও মেঘালয়ের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। নদীটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের এবং বাংলাদেশের সিলেট জেলার জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, সিলেট সদর ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার একটি নদী। নদীটির বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৫ কিলোমিটার, গড় প্রশস্ততা ১১৯ মিটার এবং প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা পাউবো কর্তৃক সারিগোয়াইন নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদী নং ৭৯। 

প্রবাহ: সারিগোয়াইন নদীটি মেঘালয়ের খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড় হতে উৎপত্তি হয়ে দক্ষিণমুখে প্রবাহিত হয়ে সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার চেরিকাটা ইউনিয়ন দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অতঃপর এই নদীর জলধারা একই জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার ইসাখালাস ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে সুরমা নদীতে পতিত হয়েছে। নদীটি আলীরগাঁও ইউনিয়ন এবং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নে চেঙ্গেরখাল বা গোয়াইন নদী নামে পরিচিত। নদীতে পানির প্রবাহ পূর্বের তুলনায় হ্রাস পেলেও এর প্রশস্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। পলি পড়ে নদীটির তলদেশ দিনদিন ভরাট হয়ে যাচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে অতীতে যেখানে ২০-২১ ফুট পানি ছিলো, বর্তমানে তা ১০ ফুটের নিচে নেমে এসেছে। কিছু কিছু জায়গায় শুষ্ক মৌসুমে পানির গড় গভীরতা মাত্র ৪-৫ ফুট। প্রবাহ পথে নন্দিরগাঁও ইউনিয়ন এলাকায় নদীটি কিছুটা ভাঙন প্রবণ। গোয়াইনঘাট এলাকায় এই নদীর পানি দিয়ে সেচকার্য করা হয়। সারাবছরই নদীতে নৌকা ও ট্রলার চলাচল করে। তবে বর্ষাকালে বড় আকৃতির নৌকা ও মালবাহী কার্গো চলাচল করে। অতিবর্ষণে নদীর দুতীর উপচে প্লাবনভূমিতে পানি প্রবাহিত হয়।

অন্যান্য তথ্য: সারিগোয়াইন নদীটি বারোমাসি প্রকৃতির এবং জোয়ারভাটা প্রভাবিত নয় তবে নদীটি বন্যাপ্রবণনদীর অববাহিকায় বাংলাদেশ অংশে কোনো প্রকল্প নেই এবং নদীটিতে কোনো ব্যারাজ বা রেগুলেটর স্থাপন করা আছে। নদীতে ডানতীরে ০.৩ কিলোমিটার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ আছে এই নদীর পাড়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হচ্ছে গোয়াইনঘাট বাজার
 
তথ্যসূত্র:
১. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ২২৪, ISBN 984-70120-0436-4.

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের

Recommended