Sunday, August 17, 2014

সমুদ্র নারকেল সেশেলজ্‌ দ্বীপের বিপন্ন নারকেল গাছ



সমুদ্র নারকেল, coco de mer, ফটো ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে
বৈজ্ঞানিক নাম: Lodoicea maldivica
বাংলা নাম: জোড়া নারকেল, সমুদ্র নারকেল,
ইংরেজি নাম: sea coconut also known as coco de mer or double coconut

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae - Plants
অবিন্যসিত: Angiosperms
অবিন্যসিত: Monocots
অবিন্যসিত: Commelinids
বর্গ: Arecales
পরিবার: Arecaceae
গণ: Lodoicea Comm. ex DC.
প্রজাতি: Lodoicea maldivica. (J.F.Gmelin) Persoon
পরিচিতি: কোলকাতার বাজারে মাঝে মাঝে বিক্রি হয় একপ্রকার ফলের শাঁস যার প্রচলিত নাম জোড়া নারকেল কারণ ফলটি দেখতে জোড়া দেয়া নারকেলের মতোএর অনেক গুণের মধ্যে প্রধান গুণ হল, এটি আফ্রোডিসিয়াক, কাজেই খদ্দেরের অভাব হয় না, যদিও কিনতে হয় অনেক মূল্যেবিক্রেতাকে এই সমুদ্রফলের ঠিকানা জানতে চাইলে সে প্রায়ই বলে, এই ফল সমুদ্রের নিচে হয়, পাকলে ভেসে ওঠে পানির ওপরে তারপর ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভেসে আসে তীরে
এই ঘটনা প্রথম প্রচার করেছে মালদ্বীপের রাজারা কারণ তাদের জানা ছিল না এই ফল কোত্থেকে ভেসে আসে তাদের দেশেযখন এর নামকরণ হয়েছে তখন কেউ জানতো না এগুলো সমুদ্র স্রোতে ভেসে আসে সুদূর সেশেলজ্‌ দ্বীপ থেকেযখনকার কথা তখন সেশেলজ্‌ দ্বীপপুঞ্জে লোকবসতি শুরু হয়নি, তাই জানার অবকাশ ছিল না কারও
যে ফলের ওজন ২০-৩০ কেজি তা উঁচু পামগাছ থেকে পড়ার পরপরই ডুবে যায় সমুদ্রে অনেক কাল পরে যখন ফলের বহিরাবরণ পচে যায়, অঙ্কুরোদ্গম হতে থাকে, ভেতরটা খালি হয়ে যায় তখনই তা হালকা হয়ে জলের ওপরে ভেসে ওঠে
এরপর সমুদ্রস্রোতে তার যাত্রা শুরু হয় এবং এক সময় এসে উপস্থিত হয় মালদ্বীপের সমুদ্রতটেঅতীতে মালদ্বীপের রাজার প্রজাদের প্রতি কড়া নির্দেশ ছিল, আহরিত সমুদ্রফল রাজার কাছে জমা না দিলে গর্দান যাবেকারণ, দ্বীপের রাজা ভারতীয় রাজাদের কাছে তা বিক্রি করবেন সোনার দামে
কোকো ডুমের বা সমুদ্রফলের বাইনোমিয়াল নাম Lodoicea maldivica (লোডয়সিয়া মালডাইভিকা)এই নামের সাথে মালডিভ শব্দটি জুটেছে কারণ তখন মালদ্বীপ থেকেই এর পরিচিতি হয়েছে সারা বিশ্বে
জোড়া নারকেলের খোসামুক্ত ফল
এখন কেবলমাত্র সেশেলজ্‌ দ্বীপপুঞ্জের ৩টি দ্বীপেই পাওয়া যায় এই গাছ যার লুপ্ত হবার সম্ভাবনা দেখে অনেক সাবধানতা অবলম্বন করা হচ্ছেপরিবেশ আর অগ্নিকাণ্ড জাতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্যে এদের সংখ্যা দ্রুত কমে গেছে বর্তমানে ৭-৮ হাজার গাছের খবর পাওয়া গেছে, যার অনেকগুলি আছে প্রাসলিন দ্বীপের জাতীয় উদ্যানে
ভারতের শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে একটি সমুদ্র ফলের গাছ আছে যা এখনও বড় গাছ হতে পারেনিএ গাছ বেড়ে ওঠে অতি ধীরে বেঁচে থাকে প্রায় ৩-৪ শো বছরএর অঙ্কুরোদ্গম হতে লাগে ৩-৫ বছর, এরপর ১৫ বছর লাগে শুধু কাণ্ড শুরু হতেফল ধরতে সময় লাগে ২০-৫০ বছরফল পাকতে লাগে ৯-১০ বছর১০০ ফুটের ওপরে লম্বা হয় গাছপ্রায় ২ ফুট লম্বা ১৮-২০ কেজি ওজনের এর ফলবীজ নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বীজ অনেকটা ডাবের মতো দেখতে কাঁচা ফলের ভেতরটা আমাদের দেশের তালের শাঁসের মত, কিন্তু পাকলে বীজের ভেতরকার শাঁস ভীষণ শক্ত হয়ে যায়
সমুদ্রে ভেসে ভেসে অঙ্কুরিত অবস্থায় যখন এটা এক সময় মালদ্বীপে পৌঁছেছে এবং সেখান থেকে ভারতে তখন সুখাদ্য জাতীয় কিছু ভেতরে থাকতো বলে মনে হয় নাএখন সেশেল থেকে এটা ভারতে সরাসরি রফতানী হয়তবে কোলকাতার বাজারে প্রচলিত জোড়া নারকেলের শাঁস নামে চড়া দামে যা বিক্রি হয় তা প্রায়শই বুদ্ধ নারকেল (Pterygota alata)-এর শাঁস এই গাছের বীজ যাতে রাষ্ট্রের বাইরে অন্য কোথাও সঞ্চারিত না হয় সেজন্যে সেশেল দ্বীপে এই ফল বিক্রির আগে মাঝখান থেকে কেটে দুভাগ করে ভেতরের শাঁস বের করে নেয়া হয়, তারপর জোড়া দেয়া হয় পুনরায়বীজের ত্বক অত্যন্ত শক্ত হবার কারণে এর ওপরে খোদাই করা হয় অনুপম নক্সা
সমুদ্র ফলের পুরুষ ও স্ত্রী গাছ ভিন্নএই গাছের ফুল আর বীজের আকৃতি দেখে মানুষ একে স্বাভাবিকভাবেই যৌনতার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছে এবং অনুমান করেছে এর যৌনব্যাধি নিরাময়ের ক্ষমতা
সূত্র: জায়েদ ফরিদ এবং ফেসবুকের বৃক্ষকথা গ্রুপ

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

৪. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের

Recommended