Saturday, December 27, 2014

বাঁশপাতি বাংলাদেশে মহাবিপন্ন এবং বৈশ্বিকভাবে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বৃক্ষ




বাঁশপাতা গাছ

বৈজ্ঞানিক নাম: Podocarpus neriifolius
বাংলা নাম: বাঁশপাতি বা বাঁশপাতা গাছ

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae - Plants
অবিন্যসিত: Angiosperms
অবিন্যসিত:Pinophyta
অবিন্যসিত: Pinopsida
বর্গ: Pinales
পরিবার: Podocarpaceae
গণ: Podocarpus
প্রজাতি: Podocarpus neriifolius D. Don
পরিচিতি: বাঁশপাতি বা বাঁশপাতা গাছ হচ্ছে পডোকারপাসি পরিবারের একটি নগ্নবীজি উদ্ভিদ। বাংলাদেশের একমাত্র নরম কাঠের বৃক্ষ। এটি উষ্ণমণ্ডলীয় এবং উপউষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের হালকা জলজ বনে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬৫০ থেকে ১৬০০ মিটার উচ্চতায় জন্মায়। এটির সত্যিকারের কোনো ফুল-ফল হয় না, বীজ নগ্নভাবে থাকে। পাতা লম্বাটে। সাধারণত ১২-২৫ সে.মি. পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এর পাতার প্রস্থ ৩-৪ সে.মি.। বাঁশপাতা গাছের উচ্চতা প্রায় ২৫ মিটার এবং বেড় ২ মিটার হয়ে থাকে। এর কাঠের রঙ হালকা বাদামী, মসৃণ ও নরম।
এই নগ্নবীজী উদ্ভিদটি বাংলাদেশের সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে জন্মে। মেঘালয়, আসাম, সিকিম, জাভা, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ ও সুমাত্রাসহ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে। বাংলাদেশে মহাবিপন্ন এবং বৈশ্বিকভাবে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত প্রজাতি।
আমাদের দেশে এটি একটি দুর্লভ বৃক্ষ। তবে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে এ উদ্ভিদ আছে মাত্র দুটি। এ দুটি উদ্ভিদই এখানে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নিয়েছে। 
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সএর অনুসন্ধানে বাংলাদেশে এ প্রজাতির ১০৮টি গাছ রয়েছে বলে জানা যায়।
ব্যবহার: পেন্সিল, স্কেল, ফ্রেম ও খেলনা তৈরীতে এ কাঠ ব্যবহৃত হয়। ঔষধি গুণও আছে এ উদ্ভিদে। এর পাতার রস বাতের ব্যাথার রোগে উপকারী। এটি আলংকারিক উদ্ভিদ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

৪. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

No comments:

Post a Comment