Saturday, January 17, 2015

পুনর্ভবা নদী বাংলাদেশ ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী






কাঞ্চন রেলসেতু থেকে তোলা পুনর্ভবা নদী, ১৯ অক্টোবর, ২০১৫
পুনর্ভবা নদী (ইংরেজি: Punarbhaba River) বাংলাদেশ ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। এই নদীটি বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীটির বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ২২৩ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ১০২ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা পাউবো কর্তৃক পুনর্ভবা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ৭২[]
প্রবাহ: পুনর্ভবা নদী বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নের বিলাঞ্চল হতে উৎপত্তি লাভ করে বিরল উপজেলা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে। অতঃপর ভারতীয় অঞ্চলে প্রবাহ শেষে নওগাঁ জেলাধীন সাপাহার উপজেলা দিয়ে পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রোহনপুর পৌরসভা অবধি প্রবাহিত হয়ে মহানন্দা লোয়ার নদীতে পতিত হয়েছে। মৌসুমি প্রকৃতির এই নদীতে বর্ষাকালে প্রবল ধারায় পানি প্রবাহিত হয়। এই সময় দুইকুল উপচে তীরবর্তী এলাকায় পানি প্রবাহিত হয় এবং নদীতে সীমিত পরিসরে নৌকা চলাচল করে থাকে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি প্রায় পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। এ সময় নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় রীতিমতো ধান চাষ করা হয়।
অন্যান্য তথ্য: পুনর্ভবা নদীটি জোয়ার-ভাটা প্রভাবিত নয়। এই নদীর অববাহিকার প্রকল্পসমূহ হচ্ছে ভাপকি সেচ প্রকল্প, গাভেশ্বরী প্রকল্প, শিবপুর সেচ প্রকল্প, দাঙ্গারহাট সেচ প্রকল্প, বাদলপাড়া সেচ প্রকল্প এবং পুনর্ভবা প্রকল্প। এই নদীর তীরে দিনাজপুর পৌরসভা, রোহনপুর পৌরসভা, এবং বড় দরগারহাট অবস্থিত। নদীর ডানতীরে ৪১.৩৬ কিলোমিটার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ আছে। এই নদীর তিনটি উপনদী রয়েছে, সেগুলো হলো টাঙ্গন নদী, কুলিক নদী এবং নাগর নদী
অতীতে পুনর্ভবা নদীর প্রধান উৎস ছিলো ব্রাহ্মণপুর বরেন্দভূমি। ১৭৮৭ খ্রীষ্টাব্দে হিমালয়ের বন্যায় প্রচণ্ড ভূমিধ্বসে সানুর নিকট এ নদীর পার্বত্য উৎসমুখ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে এই নদী ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার অবনমিত নিম্নভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে পদ্মার একটি উপনদীতে পরিণত হয়েছিলো।
দিনাজপুর শহর এ নদীর অববাহিকায় অবস্থিত। বর্তমানে মৃত ঘাঘরা, গাবুরা, কাচাই প্রভৃতি নদী এক সময় পুনর্ভবারই উপনদী ছিল। নদীর গতিপথ উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত। আত্রাই থেকে কয়েক কিলোমিটার পশ্চিমে পুনর্ভবার উচ্চতর গতিপথ। দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হওয়ার পর পুনর্ভবা ঢেপা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে, যা করতোয়া নদীর একটি শাখা নদী। দিনাজপুর শহরের ঠিক দক্ষিণে নদীটি পশ্চিম এবং পশ্চিম-কেন্দ্রীয় বরেন্দ্রভূমির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এর নদীবিস্তৃত ভূমির প্রশস্ততা ৩ থেকে ৮ কিলোমিটার।
বর্তমান অবস্থা: পুনর্ভবা নদীতে সাপাহার অঞ্চলে আগস্ট থেকে এপ্রিল পর্যন্ত একেবারেই পানি থাকে না। ২০১৫ সালের নওগাঁবার্তার এক খবরে লেখা হয়েছে “হাঁটু জল দুরের কথা একজন মুমুর্ষ রোগীর জীবন বাঁচাতে যতটুকু পানির প্রয়োজন তা ও খুঁজে পাওয়া যায় না। বছরের অধিকাংশ সময় বুক ভরা বালি নিয়ে নদীটি তার স্মৃতি বহন করে আসছে”।

তথ্যসূত্র:
১. মানিক, মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, ঢাকা, পৃ: ১৩৫-১৩৬।

২. বাংলাপিডিয়া, নিবন্ধ পুনর্ভবা নদী, লিঙ্ক: http://bn.banglapedia.org/index.php?title=পুনর্ভবা_নদী

৩. ২২ আগস্ট, ২০১৫, নওগাঁবার্তা, লিঙ্ক: http://www.naogaonbarta.com/2015/সাপাহারের-পুনর্ভবা-নদী


আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৪. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৫. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ

No comments:

Post a Comment