Saturday, February 14, 2015

হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ বাংলাদেশের মহাবিপন্ন প্রজাতি




হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ, ফটো: শাহরীয়ার সিজার রহমান, সৌজন্যে দৈনিক কালের কণ্ঠ

বৈজ্ঞানিক নাম: Indotestudo elongata
সমনাম:  Testudo elongata Blyth, 1853;  Peltastes elongatus Gray, 1869; Testudo parallelus Annandale, 1913; ইত্যাদি
বাংলা নাম: হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ,
ইংরেজি নাম: Elongated Tortoise.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
শ্রেণী: Reptilia
পরিবার: Testudines
গণ: Indotestudo
প্রজাতি: Indotestudo elongata
ভূমিকা: বাংলাদেশের কচ্ছপের তালিকায় মোট ২৯ প্রজাতির কচ্ছপ, কাইট্টা ও কাছিম আছে। এদের মধ্যে আমাদের আলোচ্য হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং মহাবিপন্ন প্রজাতি।
বর্ণনা: এই কচ্ছপের খোলস লম্বাটে হওয়ার কারণে এরা লম্বা কচ্ছপ নামে পরিচিত। প্রাপ্তবয়স্ক কচ্ছপের গড় দৈর্ঘ্য ৩০ সেমি এবং ওজন ৩.৫ কেজি।
স্বভাব ও আবাসস্থল: এরা ডাঙাতেই বেশি সময় থাকে। এর ফলে প্রাণীটি খুব সহজেই মানুষের নজরে পড়ে ডাঙায় থাকে বলেই এটিকে মানুষ প্রায়ই মাংসের জন্য শিকার করে। আর এভাবেই এদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এরা মূলত নিরামিষভোজী। এরা বিভিন্ন পাতা, সবুজ কচি ঘাস, ফুল, ফল ও ব্যাঙের ছাতা অর্থাৎ ফাঙ্গাস খায়। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে মেয়ে কচ্ছপ ১-৭টি করে ডিম পাড়েডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে সময় লাগে ৯৬-১৬৫ দিন।
বিস্তৃতি: এরা পাহাড়ি এলাকার চিরসবুজ বনে বাস করে, বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের মিশ্র চিরসবুজ বনেই এদের বসবাস। এই কাছিম প্রজাতির বিস্তৃতি এটি ভারত, নেপাল, চীন, মায়ানমার, লাওস, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশ।
অবস্থা: বিশ্বব্যাপী এই প্রজাতির কাছিম সঙ্কটাপন্ন এবং বাংলাদেশে মহাবিপন্ন। বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনানুসারে রক্ষিত বন্যপ্রাণীর তালিকায় তফসিল-১ অনুযায়ী এ প্রজাতি সংরক্ষিত। চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও ভারতে এদেরকে পোষা প্রাণী হিসেবে পালন করা হয়।
মন্তব্য: যেসব দেশে এই কাছিম পাওয়া যায়, সব দেশের মানুষ একে শিকার করে মাংসের জন্যবাংলাদেশের যেসব এলাকায় এ কাছিম পাওয়া গেছে, সেখানেও তার ব্যতিক্রম নয়। এভাবে কাছিম শিকার চলতে থাকলে বাংলাদেশে কাছিম নির্বংশ হতে খুব বেশি দিন সময় লাগবে না।


আরো পড়ুন:

Thursday, February 12, 2015

আমরা তো ভুলি নাই শহীদ---হেমাঙ্গ বিশ্বাস




আমরা তো ভুলি নাই শহীদ একথা ভুলবো না
তোমার কলিজার খুনে রাঙাইলো কে আন্ধার জেলখানা
যখন গহীন রাতে আন্ধার পথে চমতায় বিজলী
(তোমার) বুকের খুনের দাগে দাগে আমরা পথ চলি;
সেই কাল সাপেরই কুটিল গুহায় আমরা যে দেই হানা
তোমার বহুল বুকে ছোবল দিল যে নাগিনীর ফণা
বলো কি করে ভুলি সে কথা
খুন করে গোপনে তোমার জ্বালাইল চিতা,
সেই চিতার আগুন জ্বলে দ্বিগুণ
জ্বলে দিকে দিকে রে বন্ধু
জ্বলে বুকে বুকে রে বন্ধু
জ্বলে চোখে চোখে-
জ্বলে অগ্নিকোণে রক্তমেঘে কালবৈশাখীর ডানা।।
তুমি ছিলায় গরিব কিষাণ এই মাটির সন্তান
ঘাতে নিলায় তাই তো বন্ধু দুঃখীর এই লাল নিশান
রে সাথী সর্বহারার নিশান
সেই লাল নিশানের মান রাখিতে দিলায় বন্ধু জান
বন্ধু, লুটাইলায় পরাণ
তোমার রক্তে রাঙা নিশান দিল পথের নিশানা।। 


রচনাকাল: ১৯৫০


ডাউনলোড করুন:

সুন্দি তরুণাস্থি কাছিম বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক কাছিম




সুন্দি তরুণাস্থি কাছিম, ফটো: কামরুজ্জামান বাবু

বৈজ্ঞানিক নাম: Lissemys punctata;
সমনাম: Testudo punctata, Testudo granulosa, Testudo scabra, Emyda vittata, Trionyx granosus ইত্যাদি
বাংলা নাম: সুন্দি তরুণাস্থি কাছিম বা সুন্দি কাছিম,  
ইংরেজি নাম: Indian flapshell turtle

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
শ্রেণী: Reptilia
বর্গ: Testudines
পরিবার: Trionychidae
গণ: Lissemys Gray, 1855
প্রজাতি: Lissemys punctata (Lacépède, 1788).
ভূমিকা: বাংলাদেশের কচ্ছপের তালিকায় মোট ২৯ প্রজাতির কচ্ছপ, কাইট্টা ও কাছিম আছে। এদের মধ্যে আমাদের আলোচ্য সুন্দি তরুণাস্থি কাছিম বা সুন্দি কাছিম হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সংকটাপন্ন প্রজাতি।
বর্ণনা: সুন্দি কাছিমের দেহ ছোট, দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫-৩৫ সেমি। স্ত্রী কাছিম অপেক্ষাকৃত বড়।
স্বভাব ও আবাসস্থল: সুন্দি কাছিম পুকুর, নদী, নালাতে বাস করে; তবে এরা দেহের অর্ধেক অংশ বালু বা কাদার মধ্যে ঢুকান অবস্থায় বাস করতে পছন্দ করে। এরা লম্বা গ্রিবার মাধ্যমে দ্রুত শিকার ধরতে পারে।
বিস্তৃতি: সুন্দি কাছিম প্রজাতির বিস্তৃতি বাংলাদেশে ব্যাপক। এছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, মায়ানমার, নেপাল, শ্রীলংকা এবং থাইল্যন্ডে পাওয়া যায়।
অবস্থা: বিশ্বব্যাপী এই প্রজাতির কাছিম সংকটগ্রস্ত নয়। প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ে কাজ করা সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় এর নাম নেই। বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনানুসারে রক্ষিত বন্যপ্রাণীর তালিকায় তফসিল-১ অনুযায়ী এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
বাস্তুতান্ত্রিক ভূমিকা: সুন্দি কাছিম পানিতে অক্সিজেনের সমতা রক্ষার জন্য কম্পন সৃষ্টি করে।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব: বাংলাদেশে হিন্দু ও আদিবাসেদের কেউ কেউ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এটিও বাংলাদেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক ও জেলেরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে এটিকেও বিলুপ্তির পথে অচিরেই নিয়ে যাবে।

আরো পড়ুন:
৭. বাংলাদেশের বন্যপ্রাণীর তালিকা