Thursday, February 12, 2015

আমরা তো ভুলি নাই শহীদ---হেমাঙ্গ বিশ্বাস




আমরা তো ভুলি নাই শহীদ একথা ভুলবো না
তোমার কলিজার খুনে রাঙাইলো কে আন্ধার জেলখানা
যখন গহীন রাতে আন্ধার পথে চমতায় বিজলী
(তোমার) বুকের খুনের দাগে দাগে আমরা পথ চলি;
সেই কাল সাপেরই কুটিল গুহায় আমরা যে দেই হানা
তোমার বহুল বুকে ছোবল দিল যে নাগিনীর ফণা
বলো কি করে ভুলি সে কথা
খুন করে গোপনে তোমার জ্বালাইল চিতা,
সেই চিতার আগুন জ্বলে দ্বিগুণ
জ্বলে দিকে দিকে রে বন্ধু
জ্বলে বুকে বুকে রে বন্ধু
জ্বলে চোখে চোখে-
জ্বলে অগ্নিকোণে রক্তমেঘে কালবৈশাখীর ডানা।।
তুমি ছিলায় গরিব কিষাণ এই মাটির সন্তান
ঘাতে নিলায় তাই তো বন্ধু দুঃখীর এই লাল নিশান
রে সাথী সর্বহারার নিশান
সেই লাল নিশানের মান রাখিতে দিলায় বন্ধু জান
বন্ধু, লুটাইলায় পরাণ
তোমার রক্তে রাঙা নিশান দিল পথের নিশানা।। 


রচনাকাল: ১৯৫০


ডাউনলোড করুন:

সুন্দি তরুণাস্থি কাছিম বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক কাছিম




সুন্দি তরুণাস্থি কাছিম, ফটো: কামরুজ্জামান বাবু

বৈজ্ঞানিক নাম: Lissemys punctata;
সমনাম: Testudo punctata, Testudo granulosa, Testudo scabra, Emyda vittata, Trionyx granosus ইত্যাদি
বাংলা নাম: সুন্দি তরুণাস্থি কাছিম বা সুন্দি কাছিম,  
ইংরেজি নাম: Indian flapshell turtle

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
শ্রেণী: Reptilia
বর্গ: Testudines
পরিবার: Trionychidae
গণ: Lissemys Gray, 1855
প্রজাতি: Lissemys punctata (Lacépède, 1788).
ভূমিকা: বাংলাদেশের কচ্ছপের তালিকায় মোট ২৯ প্রজাতির কচ্ছপ, কাইট্টা ও কাছিম আছে। এদের মধ্যে আমাদের আলোচ্য সুন্দি তরুণাস্থি কাছিম বা সুন্দি কাছিম হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সংকটাপন্ন প্রজাতি।
বর্ণনা: সুন্দি কাছিমের দেহ ছোট, দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫-৩৫ সেমি। স্ত্রী কাছিম অপেক্ষাকৃত বড়।
স্বভাব ও আবাসস্থল: সুন্দি কাছিম পুকুর, নদী, নালাতে বাস করে; তবে এরা দেহের অর্ধেক অংশ বালু বা কাদার মধ্যে ঢুকান অবস্থায় বাস করতে পছন্দ করে। এরা লম্বা গ্রিবার মাধ্যমে দ্রুত শিকার ধরতে পারে।
বিস্তৃতি: সুন্দি কাছিম প্রজাতির বিস্তৃতি বাংলাদেশে ব্যাপক। এছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, মায়ানমার, নেপাল, শ্রীলংকা এবং থাইল্যন্ডে পাওয়া যায়।
অবস্থা: বিশ্বব্যাপী এই প্রজাতির কাছিম সংকটগ্রস্ত নয়। প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ে কাজ করা সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় এর নাম নেই। বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনানুসারে রক্ষিত বন্যপ্রাণীর তালিকায় তফসিল-১ অনুযায়ী এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
বাস্তুতান্ত্রিক ভূমিকা: সুন্দি কাছিম পানিতে অক্সিজেনের সমতা রক্ষার জন্য কম্পন সৃষ্টি করে।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব: বাংলাদেশে হিন্দু ও আদিবাসেদের কেউ কেউ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এটিও বাংলাদেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক ও জেলেরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে এটিকেও বিলুপ্তির পথে অচিরেই নিয়ে যাবে।

আরো পড়ুন:
৭. বাংলাদেশের বন্যপ্রাণীর তালিকা

Wednesday, February 11, 2015

বুদ্ধনারকেল বাংলাদেশের সংরক্ষিত উদ্ভিদ




বুদ্ধ নারকেল


বৈজ্ঞানিক নাম: Pterygota alata
সমনাম:
সাধারণ নাম:
বাংলা নাম: বুদ্ধনারকেল

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae
বিভাগ: Angiosperms
অবিন্যাসিত: Eudicots
অবিন্যাসিত: Rosids
বর্গ: Malvales
পরিবার: Malvaceae
উপপরিবার: Sterculioideae
গণ: Pterygota
প্রজাতি: Pterygota alata

বর্ণনা: বুদ্ধনারকেল বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনের তফসিল ৪ অনুযায়ী একটি সংরক্ষিত উদ্ভিদ। এটি ফুল কিংবা ফলের জন্য নয়, তার আঙ্গিক বৈশিষ্ট্যের জন্যই বিখ্যাত। গাছের কাণ্ড বেশ বড়, গোলাকার এবং বহু শাখা-প্রশাখা সত্ত্বেও যথেষ্ট বলিষ্ঠ। শাখা-প্রশাখাগুলো ততটা লম্বা নয়, অনেকটা বিক্ষিপ্ত ধরনের। অবশ্য অল্প বয়সী গাছের বৈশিষ্ট্যটি তেমন স্পষ্ট নয়। বাকল মসৃণ ও ধূসর। ভূমিলগ্ন কাণ্ড ও গোড়া গভীর খাঁজযুক্ত। পাতা তুলনামূলকভাবে বড়ই বলা চলে। দেখতে অনেকটা তাম্বুলাকৃতির, দীর্ঘবৃন্তক, শাখান্তে একান্তরভাবে ঘনবদ্ধ গাঢ়-সবুজ এবং শিরাবিন্যাস যথেষ্ট সুস্পষ্ট।
বসন্তের শুরুতেই গাছটি পাতা ঝরাতে শুরু করে। কিন্তু চৈত্র মাসের প্রথম ভাগেই আবার অসংখ্য পাতায় ঢেকে যায় সারা গাছ। তবে বিলম্বিত পত্রোদ্গম এ গাছের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কচি পাতার রং অনেকটা ম্লান সবুজ। পরিণত বৃক্ষ ছায়াসমৃদ্ধ না হলেও নতুন গাছ পত্রনিবিড়। ফুল ফোটার মৌসুম বসন্তকাল। এর স্বল্পপৌষ্পিক মঞ্জরি নিতান্তই অনাকর্ষী। পাপড়ির বাইরের দিকটা বাদামি রঙের, আর ভেতরটা লাল রঙের। পরাগকেশর পাঁচটি। ফুল দুর্গন্ধী।
পরিণত ফলগুলো আপনা-আপনিই ফেটে যায়। এর পর বীজগুলো বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই গাছের কাঠ বেশ মূল্যবান। বীজ কোনো কোনো অঞ্চলে আফিমের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার্য।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে গিয়ে আপনি রাজু ভাস্কর্যের পাশে দাঁড়ালে সবচেয়ে উঁচু যে গাছটি চোখে পড়বে, তার নাম বুদ্ধনারকেল। পাশেই পাবেন দুটো সুদর্শন বেরিয়া গাছ। প্রাক বর্ষায় এদের ফুল ফোটার সৌন্দর্য দারুণ উপভোগ্য। এই শহরে বুদ্ধনারকেলের মতো এমন উঁচু গাছ অনেকটাই দুর্লভ। কাছাকাছি উচ্চতার মধ্যে রয়েছে দেবদারু। জানামতে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি বুদ্ধনারকেল দেখা যায় দিলকুশা সংলগ্ন বঙ্গভবনের সীমানা প্রাচীরের পাশে। রমনা উদ্যানের মধ্যেও এক দুটি গাছ আছে। ঢাকার বাইরে আছে সবচেয়ে বেশি রংপুর শহরে। সেই সূত্রে রংপুর শহরকে নিশ্চিতভাবেই বুদ্ধনারকেলের শহর বলা যায়।


আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ




Recommended