Saturday, June 06, 2015

চেল্লাখালি বাংলাদেশ ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী






চেল্লাখালি নদীতে বাঁধ
চেল্লাখালি নদী বা চিল্লাখালি নদী বা চিতলখালি নদী (ইংরেজি: Chellakhali River) বাংলাদেশ ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। বাংলাদেশ অংশে নদীটির দৈর্ঘ্য ২৫ কিলোমিটার, প্রস্থ ৫২ মিটার, গভীরতা ৬ মিটার এবং প্রকৃতি সর্পিলাকার। নদীটি বাংলাদেশের শেরপুর জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহমান। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা পাউবো কর্তৃক চেল্লাখালি নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদী নং ২৮।[] এই নদী অববাহিকার আয়তন ১১৮ বর্গকিলোমিটার।
প্রবাহ: চেল্লাখালি নদীর জন্ম ভারতের মেঘালয় রাজ্যে। এটি শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে নেমে এসেছে। এরপর কলসপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে এর প্রবাহ দুটি ধারায় বিভাজিত হয়েছে। একটি ধারা গোল্লার বিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নালিতাবাড়ি পৌরসভার কাছে এবং অপরটি বালুঘাটা নামক স্থানে মালিঝি নদীতে পতিত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে নদীটির নাম চেল্লাখালি হলেও পাউবো এটিকে চিতলখালি হিসেবে উল্লেখ করে থাকে। উজানে নদীটির প্রশস্ততা ভাটির তুলনায় অধিক। নালিতাবাড়ি উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের কচুবাড়ি নামক স্থানে স্লুইসগেট থাকায় নদীতে সারাবছর পানিপ্রবাহ থাকে না। এজন্য নদীতে পানি প্রবাহের গড় পরিমাণ অতীতের তুলনায় কমে গেছে। তবে বর্ষাকালে স্লুইসগেট উন্মুক্ত করা হলে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং স্থানে স্থানে নদীর পাড় উপচে পানি প্রবাহিত হয়। পাহাড়ি ঢলের কারণে নদী অববাহিকায় আকস্মিক বন্যাও দেখা দেয়। আকস্মিক বন্যার কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়।[১] ডিসেম্বর থেকে জুন অবধি পানিপ্রবাহ কম থাকে, যার আনুমানিক পরিমাণ ঘনসেন্টিমিটার/সেকেন্ড। তখন নদীতে পানির গভীরতা থাকে মিটার। বর্ষা মৌসুমে আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পায় যা . মিটার হয়। নদীটি অত্যন্ত ভাঙনপ্রবণ, অন্যদিকে দিনদিন এর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ বন্যায় নদীটি আংশিকভাবে প্লাবিত হয়[২]
অন্যান্য তথ্য:  চেল্লাখালি নদী নালিতাবাড়ি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।  এই নদীটি জোয়ারভাটার প্রভাবে প্রভাবিত নয় এবং নদীতে কোনো বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ, ব্যারাজ বা রেগুলেটর নেই। নদী অববাহিকার প্রকল্পের নাম চেল্লাখালি নদী প্রকল্প। বাবুমারিহাট এই নদীর তীরে অবস্থিত।[১]

তথ্যসূত্র:
১. মানিক, মোহাম্মদ রাজ্জাক (ফেব্রুয়ারি, ২০১৫)। বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতিঢাকা: কথাপ্রকাশপৃ: ১৩১-১৩২
২. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ২০০।

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের

Recommended