Sunday, May 26, 2013

উন্মাদনামা




মানুষ মানুষ আর মানুষ
অথবা
প্রজন্মের ধারাবাহিক গল্প
অথবা
উন্মাদনামা

ছোটো শহরের বাড়ি, ঘরে বিজলি আলো
ঝকঝকে নতুন শহরের এক কোণে
পাড়ার এক প্রান্তে মাঠ, শিশুরা ফুটবল খেলছে
মাঠের এক কোণায় খালি গায়ে এক লোক
(তখন ওরকম লোককে উন্মাদ বলা হতো)
বাচাল নেতাদের মতো নিম্নোক্ত কথাগুলো
২০০৫ সালের শীতকালে কখনো বক্তৃতার মতো
কখনো বর্ণনা করে অনেককে শুনিয়েছিলো_
সে বলেছিল_
আমার দাদিরা ছড়া কাটে দেশি
আর বিদেশি কাকে খায় দুগ্ধবতি গাভি আর তার দুধের সর
ছেলেরা সারারাত তরুণীদের সাথে পাড়া মাত করে রাখে;
আনন্দের পটকা ফোটে আকাশে বাতাসে;
চাচা বা ভায়েরা আমার, একবার চোখ তুলে তাকান
এইবার শুধু এইবার হামাক ভোট দেন,
এইবারই সবচাইতে আধুনিক ভোট চাচা ভোটিং মেশিন
(ইত্যাদি ... এইরকম আরো ...)
আমার চাচুরা আর চাচিদের গল্প আরো বেশি বিদঘুটে;
কিছু মানুষ বুদ্ধি-বিবেকহীন
কুঁড়ে ঘর তাদের অশেষ সম্বল, ঘরে তাদের অফুরন্ত সুখ
যাদেরকে তোমরা কেউ কেউ চেনো
অপরিচিত রাস্তায় দেখো
তাদের হাতে ছাতা, কোমরে গামছা, প্রতীকী চাদর গায়ে
লুংগিতে গ্রামিণ ছবি, দুহাতে গৃহপালিত পশুর দড়ি
আরো বেশি মানুষ বিবেক সম্পন্ন
বেশ কিছু মানুষ অজানা অজস্র নাম, অচেনা মাথা,
কেউ কেউ শহর রাস্তায় দিন কাটায়
তারা শুধু ছিছি করা ভুলে গেছে
আমরা আশায় আছি,
আমরা নিরাশ নই,
বিয়েতে জাকজমক সম্রাটের পোষাকে তারা
বিশেষ বিশেষ গল্পের হরিণ বা হরিণী নয়
তারা গণনার মানুষ আদমশুমারির দিনে ওএমআর ফরম পূরণ
কোন ধর্মী, কি করেন, কার সাথে ফিবছর মেলামেশা
আরও কতশত নিয়ম আর বিধি
আচরণ বিচরণ সাহেবেরা রাখেন খবর;
একচোট হাসল কেউ, একহাত নিল কেউ
কেউ খেলো পিতলের বীচি আর মরে গেল; 
আমাদের সত্যিকার চাচারা পরনে দেশি লুংগি, তাদের সন্তানেরা জিনসের প্যান্ট
ব্যবসায় দারুন দাও মারা, দিনাজপুরে জন্মায় বোম্বাই লিচু
মুম্বাই যায় দিনাজপুরি শালী আর সবরি কলা
মুম্বাইর রাস্তায় ছাই লাগবে ছাই কাআলা সাবান
মুম্বাই শহর দেখতে আছে, দেখতে বড় বাহার আছে
আমাদের ছাগ-ছাগিরা চমতকার দেহ নাচায় মুম্বাই শহরে।

এসে গেছে ভারত মাতার সুগন্ধে টাটা সাহেব শিশ্ন নিয়ে,
লালন তোমার ছেউড়িয়ায় এখন প্রিন্স পুঁজিবাদ; জমাও জন্মাও টাকা,
গর্তের মধ্যে জন্মাও তেল মধু আর সুন্দরী;
এখন আমার বাঙলায়
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়
ঢাকার পল্টনের রাস্তায়
আমরা যেন শুয়োপোকা তেলাপোকা উইপোকা ছুঁচো আর ইঁদুর আর চামচিকার কথা বলি,
গণশত্রুরা গামলা আমলা আর ভুঁড়ি ভালোবাসে
তাই তারা জামাইর রাজা পুলিশ ভালোবাসে,
তারা জাতীয় বেজন্মা বেইমান মীরজাফরের বন্ধু
শালা শুয়োরওর্দি দাঙ্গাবাজ
ভাঙল তেলের শিশি ইপিআর পুলিশ সেপাই বিএসএফ তিন বাহিনী 
চালা গুলি
আধুরা পাবলিকেরা শুয়োরের মতো ঘেঁচু খোঁজে আর দিন দিন বাঁচে,
সৌন্দর্য সাবান নিরমা বা উপনিবেশিক সাবান জনসন চেনে না
ড. জন সন বা শেকসপিয়র চেনে না
ঐগুলারে গুতা মেরে পার করে দে, এপাশ ওপাশ,
মার ঠেলা সীমান্ত পার হেঁই মারো ঠেলা মারো নয়া দেশ দুই জাতি,
মারো, ঠেলা মারো হিন্দুস্তান, ঠেলা মারো ফাঁকিস্তান 
বুঝলা দোস্ত সন্ত্রাসীগো দিন শ্যাষ, মিলিটারি শাসন হা হা কী ফকফকা;
চান্দের লাহান দ্যাশ আহা হা হা

Friday, May 17, 2013

গণতন্ত্র ও নীতিশাস্ত্রের পারস্পরিক সম্পর্ক






গণতন্ত্রে ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত, ভালো-মন্দের বোধকে সমসাময়িক কালের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নবায়ন করে নিতে হয়। গণতন্ত্রে নীতিশাস্ত্রকে সময় পরিবর্তনের সাথে যুগোপযোগী করে নিতে হয়। বাংলা ভাষায় ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত ইত্যাদি শব্দ থাকলেও এসব কথা সম্পর্কে বিস্তারিত লিখিত আলোচনা নেই। আর নীতিবিদ্যা বা নীতিশাস্ত্র (ethics) বলে যে একটি বিষয় আছে সেই বিষয়টিকে এদেশে কোনো গুরুত্ব দেয়া হয়নি। এদেশে নীতি-নৈতিকতা, নীতিশাস্ত্র, মূল্যবোধ ইত্যাদি বিষয়ের সাথে ধর্মপালন করাকে গুলিয়ে ফেলা হয়। এদেশের মানুষ নীতি ও মূল্যবোধ বলতে ধর্মগ্রন্থ অনুসারে নিয়মিত ধর্মপালন করাকেই বোঝে।

নীতিশাস্ত্র বা নীতিবিদ্যা মানব নৈতিকতার সাথে সম্পর্কিত প্রশ্ন যথা_ ভাল-মন্দ, সঠিক-বেঠিক, পাপ-পুণ্য, ন্যায়-অন্যায়ের ধারনাসমূহ সেসব সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহের সমাধান চায়সমাজবদ্ধ জীব হিসাবে মানুষের আচরণের নৈতিকতার মূল্যায়ন করা নীতিশাস্ত্রের অনেক কাজের একটি 

কেমব্রিজ দর্শনের অভিধানে বর্ণনা করা হয়েছে যে নীতিশাস্ত্রকে সাধারণভাবে নৈতিকতার সাথে (Morality) আন্তঃপরিবর্তিত করে ব্যবহার করা হয়..... এবং মাঝেমাঝে এটিকে আরো সংকীর্ণ অর্থে ব্যবহার করা হয় একটি বিশেষ ঐতিহ্য, দল বা ব্যক্তির নৈতিক বিধি বোঝাতে।[১]    

আমরা জানি, যুগ পরিবর্তনের সাথে সাথে সবকিছুই বদলে যায়। নতুন জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতির আবির্ভাবের ফলে মানুষের চিন্তাও বদলে যায়। ফলে পুরনো নীতি-নৈতিকতা দিয়ে নতুন সমাজব্যবস্থা চলে না। নতুন সমাজে নতুন নীতি প্রণয়ন করার দরকার পড়ে। রাষ্ট্রীয় আইনগুলো থেকে যায় অতীতের, কিন্তু সমাজ বদলে যায়। এই বদলে যাওয়া সমাজের জন্য দরকার পড়ে প্রগতিশীল আইন। কারণ অতীতের আইনগুলো রাষ্ট্রসম্মত হলেও তা ন্যায়সঙ্গত, যুক্তিযুক্ত  বা মানবিক না হবার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। সমাজ বদলে গেলে ন্যায়নীতি, নৈতিকতা, সামাজিক ন্যায়বিচারকে কেন্দ্র করে নতুন চিন্তা ও নতুন মূল্যবোধ দানা বাঁধতে থাকে; যার ফলশ্রুতিতে রাষ্ট্রীয় আইন ও নায্যতা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন ও ধারনার জন্ম হয়। এই নতুন প্রশ্নটিই তোলে সমাজপ্রগতির পতাকার ধারক সমাজের নতুন শ্রেণিটি।

বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক নৈতিকতা নির্মিত হয়েছিল বুর্জোয়া গণতন্ত্রকে সাংবিধানিক রূপ দিতে গিয়ে। সেই সংবিধানে সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, চিন্তার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, চলাফেরা ও উপার্জনের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার পাবার স্বাধীনতার সাথে সাম্য, মৈত্রী, নাগরিকের সমান সুযোগ ও অধিকার এবং ধর্মের প্রতি আস্থা-অনাস্থার অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছিল। এর বিপরীতে উনিশ শতকে মার্কস-এঙ্গেলস ও অন্যান্য শ্রেষ্ঠতম দার্শনিকদের মাধ্যমে নির্মিত হয়েছিল সমাজতান্ত্রিক নৈতিকতা।    

সামন্তীয় ও বুর্জোয়া পুঁজিবাদী সংস্কৃতি থেকে উদ্ভূত নীতি দ্বারা বর্তমান বাংলাদেশের বেশিরভাগ কর্মকাণ্ড ও নিয়মবিধি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। দেশ পুঁজিবাদী হলেও দেশের সৃষ্টিশীল শ্রমিক-কৃষক অনেক এগিয়ে গেছে। আর পরগাছা পুঁজিপতি, আমলা, বুর্জোয়া রাজনীতিবিদেরা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে জনগণকে শোষণ করছে। এ অবস্থায় দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার জন্য শাসকগোষ্ঠী পুলিশ ও আমলাদের দিয়ে জনগণকে পীড়ন করছে। গণতান্ত্রিক মানুষ হিসেবে গণতান্ত্রিকদের প্রথম কাজ হচ্ছে শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়ন দূর করার জন্য সামন্তীয় ও বুর্জোয়া সংস্কৃতি থেকে উদ্ভূত নিয়মকানুনকে বর্জন করা এবং নতুন নীতি-নৈতিকতা নির্মাণ করা। যারা গণতন্ত্র চায় তাদের জানা প্রয়োজন, দাস ও সামন্তীয় সংস্কৃতিতে কিছু কাজকে বৈধতা দেয়া হয়েছে, কিছু কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। সেসব পুরনো দাস ও সামন্তীয় যুগের ধর্মীয় বিধানের নৈতিক উপদেশ দিয়ে বর্তমানকালের জটিল অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, প্রযুক্তিবিদ্যা, বিবর্তনবিদ্যা, মানবিক আইন, জাতিয়তাবাদ ও আন্তর্জাতিকতাবাদ এবং বর্তমানকালের উপনিবেশবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, আগ্রাসন ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বর্তমান সমস্যাসমূহের সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়। বর্তমানের জটিল পৃথিবীর নানা জটিল বিষয়কে যখন রক্ষণশীল গোষ্ঠী ব্যাখ্যা করতে পারে না তখন তারা সকল আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিপক্ষে দাঁড়ায়। রক্ষণশীল ধর্মীয় উপদেশ দিয়ে একুশ শতকের জীবন চলতে পারে না, চলছেও না। প্রতিটি নতুন যুগের মানুষকে নতুন নৈতিকতা তৈরি করে নিতে হয়। বাংলাদেশেও এখন নতুন নৈতিকতা ও নতুন নীতিশাস্ত্র সৃজন দরকার। নতুন নৈতিকতার রূপ কী হবে তা নির্ধারণ করা দরকার।[২]  

তথ্যসূত্র ও টীকাঃ
১. John Deigh in Robert Audi (ed), The Cambridge Dictionary of Philosophy, 1995.
২. নিবন্ধটি আমার সম্পাদিত বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা গ্রন্থের বাঙালির অগণতান্ত্রিকতা প্রবন্ধের অংশবিশেষ। এখানে কিছুটা সম্পাদনা ও সংযোজন করা হয়েছে।

Wednesday, May 15, 2013

সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতা



সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা

০১. যত দূরেই যাই - সুভাষ মুখোপাধ্যায়

০২. হিংসে - সুভাষ মুখোপাধ্যায়

০৩. প্রস্তাব-১৯৪০ - সুভাষ মুখোপাধ্যায়

০৪. জননী জন্মভূমি - সুভাষ মুখোপাধ্যায়

০৫. আলালের ঘরের দুলাল - সুভাষ মুখোপাধ্যায়

০৬. সুখটান - সুভাষ মুখোপাধ্যায়

০৭. পায়ে পায়ে - সুভাষ মুখোপাধ্যায়

০৮. নুতন বছরে - সুভাষ মুখোপাধ্যায়

০৯. সকলের গান - সুভাষ মুখোপাধ্যায়

১০. যেতে যেতে - সুভাষ মুখোপাধ্যায়

১১. এখন ভাবনা - সুভাষ মুখোপাধ্যায়

১২. মে-দিনের কবিতা - সুভাষ মুখোপাধ্যায়

১৩. লোকটা জানলই না সুভাষ মুখোপাধ্যায়

১৪. বলছিলাম কী সুভাষ মুখোপাধ্যায়

১৫. ফুল ফুটুক না ফুটুক সুভাষ মুখোপাধ্যায়

১৬. ভুলে যাব না - সুভাষ মুখোপাধ্যায়

১৭. চিরকুট - সুভাষ মুখোপাধ্যায়

১৮. পারাপার - সুভাষ মুখোপাধ্যায়

যত দূরেই যাই - সুভাষ মুখোপাধ্যায়



আমি যত দূরেই যাই
        আমার সংগে যায়
ঢেউয়ের মালা-গাঁথা
এক নদীর নাম_

আমি যত দূরেই যাই।

আমার চোখের পাতায় লেগে থাকে
নিকোনো উঠোনে
সারি সারি
     লক্ষ্মীর পা

আমি যত দূরেই যাই।

হিংসে - সুভাষ মুখোপাধ্যায়



যাবার আগে মিটিয়ে নেব
যার যার সঙ্গে আড়ি

উঠলে ঝড় ছুটব বাইরে
তারপরে তো বাড়ি

ঠিক করি নি কিসে যাব
হেঁটে না সাইকেলে

ঝনঝনালে পকেটে পয়সা
মাটিতে দেব ফেলে

মাটি কাঁপছে, কাঁপুক
চল্‌ রে ঘোড়া!
হাতে তুলেছি চাবুক

মুখপুড়িটা তাকাচ্ছে, দ্যাখ!
বলছে, আ মর মিন্‌সে-

ও কিছু নয়, বুঝ্‌লি না রে
হিংসে, হিংসে, হিংসে।।

Monday, May 13, 2013

প্রস্তাব-১৯৪০ - সুভাষ মুখোপাধ্যায়



প্রভু, যদি বলো অমুক রাজার সাথে লড়াই
কোনো দ্বিরুক্তি করব না; নেব তীরধনুক।
এমনি বেকার; মৃত্যুকে ভয় করি থোড়াই;
দেহ না চললে, চলবে তোমার কড়া চাবুক।

হা-ঘরে আমরা; মুক্ত আকাশ ঘর-বাহির।
হে প্রভু, তুমিই শেখালে পৃথিবী মায়া কেবল-
তাই তো আজকে নিয়েছি মন্ত্র উপবাসীর;
ফলে নেই লোভ; তোমার গোলায় তুলি ফসল।

হে সওদাগর, - সেপাই- সান্ত্রী সব তোমার।
দয়া ক'রে শুধু মহামানবের বুলি ছড়াও--
তারপরে, প্রভু, বিধির করুণা আছে অপার।
জনগণমতে বিধিনিষেধের বেড়ি পরাও।

অস্ত্র মেলে নি এতদিন; তাই ভেঁজেছি তান।
অভ্যাস ছিল তীরধনুকের ছেলেবেলায়।
শত্রুপক্ষ যদি আচমকা ছোঁড়ে কামান--
বলব, স! সভ্যতা যেন থাকে বজায়।

চোখ বুজে কোনো কোকিলের দিকে ফেরাব কান।।

জননী জন্মভূমি - সুভাষ মুখোপাধ্যায়


সুভাষ মুখোপাধ্যায়, জননী জন্মভূমি

আমি ভীষণ ভালোবাসতাম আমার মা-কে
-কখনও মুখ ফুটে বলি নি।
টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে
কখনও কখনও কিনে আনতাম কমলালেবু
-শুয়ে শুয়ে মা-র চোখে জলে ভরে উঠত

আমার ভালোবাসার
কথা
মা-কে কখনও আমি মুখ ফোটে বলতে পারি নি।

হে দেশ, হে আমার জননী
-
কেমন ক
রে তোমাকে আমি বলি!

যে মাটিতে ভর দিয়ে আমি উঠে দাঁড়িয়েছি-
আমার দু-হাতের
দশ আঙুলে
তার স্মৃতি।

আমি যা কিছু স্পর্শ করি
সেখানেই,
হে জননী,
তুমি।
আমার হৃদয়
বীণা
তোমারই হাতে বাজে।

হে জননী,
আমরা ভয় পাই নি।
যারা তোমার মাটিতে নি
ষ্ঠুর থাবা বাড়িয়েছে
আমরা তাদের ঘাড় ধ
রে
সীমান্ত পার করে দেব।

আমরা জীবনকে নিজের মতো ক
রে
সাজাচ্ছিলাম-
আমরা সাজাতে থাকব।

হে জননী,
আমরা ভয় পাই নি।
যজ্ঞে বিঘ্ন ঘটেছে ব
লে
আমরা বিরক্ত।

মুখ বন্ধ করে,
ক্লান্ত হাতে-
হে জননী,
আমরা ভালোবাসার কথা বলে যাব
।।  

আরো পড়ুন: