![]() |
| পলাতক বম গ্রামবাসী, ১ ডিসেম্বর ২০২২ |
বাংলাদেশে অন্য জাতিসমূহের উপর বাঙালিদের
নিপীড়ন একটি নিয়মিত এবং সাধারণ ঘটনা। এক্ষেত্রে সরকারে থাকা সবগুলো সংগঠনই
নানাভাবে অন্য জাতি সত্ত্বার লোকদের উপর নিপীড়ন এবং গণহত্যা চালিয়েছে।
![]() |
| পলাতক বম গ্রামবাসী, ১ ডিসেম্বর ২০২২ |
বাংলাদেশে অন্য জাতিসমূহের উপর বাঙালিদের
নিপীড়ন একটি নিয়মিত এবং সাধারণ ঘটনা। এক্ষেত্রে সরকারে থাকা সবগুলো সংগঠনই
নানাভাবে অন্য জাতি সত্ত্বার লোকদের উপর নিপীড়ন এবং গণহত্যা চালিয়েছে।
পুঁজিবাদ যে সমাজ আমাদের সামনে হাজির করেছে,
সেখানে পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিকতা বিলুপ্ত হবার পথে। পেশাগত জীবনে একজন অধ্যাপক এবং একজন
ব্যাসের সহায়কের পার্থক্যগুলো এখন ঘুচে যাচ্ছে। অথবা একজন বিজ্ঞানীর সাথে একজন মুদি
দোকানদারের একই আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে বিজ্ঞানাগারে গবেষণাকারী একজন বিজ্ঞানী
যেমন টাকালোভী হয়ে গেছেন তেমনি একজন সরল কৃষক আর সরল নেই, তিনিও লোভে পড়ে বিষক্রিয়ায়
মারা যাচ্ছেন পর্যন্ত।
আমি সব ক্লাসে একটি গল্প বলি, শিক্ষকদের
বুঝতে আপনার কাজে লাগবে। আমরা বাস স্টপে দেখি, বাসের হেলপার চেঁচাচ্ছে, এই আসেন, মতিঝিল
২০ টাকা, ডাইরেক্ট মতিঝিল ২০ টাকা, আসেন সিট আছে খালি ২০, নন স্টপ মতিঝিল ২০ টাকা।
অন্যদিকে একজন শিক্ষক অবিরাম ডেকে চলেছেন,
কেমিস্ট্রি খালি ৫০০ টাকা, ইংরেজি খালি ৫০০ টাকা, ৪ মাসে কোর্স শেষ, প্রতি মাসে খালি
৫০০। আগে আসলে আগে শুরু, জনপ্রতি খালি ৫০০। আর ডাক্তারদের কথা তো বলাই বাহুল্য, ডাক্তার
মানেই দোকান খুলে বসা।
অন্যদিকে আছে ইঞ্জিনিয়াররা, তারা যে কত
ভাবে টাকা পয়সা নয় ছয়ের সাথে জড়িয়ে পড়েছে তা ভাবা যায় না। এগুলা কয়েকটি পেশার আলোচনা
মাত্র। বাস্তব পুঁজিবাদ এভাবে হাজার হাজার পেশাগুলোকে পুঁজির জোয়ালের নিচে বন্দি করেছে।
বাসের হেলপারের সাথে শিক্ষকের বা ডাক্তারের
পার্থক্য কোথায়? একেবারেই পেশাগত পার্থক্যগুলো ঘুচে গেছে। যেসব শিক্ষক বা ডাক্তার ব্যবসা
করতে পারে না, তারা অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষকের সাথে ঘোট পাকায়, কমিটি হান
তান ভাউচার লইয়া থাকে।
টাকালোভী মানুষকে বোঝার জন্য, এই পুঁজিবাদী
সমাজকে বোঝার জন্য, এইসব উদাহরণ দেখা যায়। ব্যক্তিগতভাবে দেখলে, আপনি শুধু একটি গাছ দেখতে পাবেন, জঙ্গল দেখতে পাবেন না;
আর শুধু জঙ্গল দেখলে আবার গাছ দেখতে পাবেন না। আপনাকে সার্বিক এবং বিশেষ দুভাবেই দেখতে
হবে। সত্য দেখে এই সমাজকে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে শিক্ষকের কাজ, কিন্তু শিক্ষকরা দেখার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেত্ন নয়। যারা দেখে না, তাদেরকে অন্ধ বলা হয় এই সমাজে।
ধ্যান-ধারণা ও নৈর্বক্তিক বাস্তবতার অনুরূপতাই সত্য।
এধরনের অনুরূপতা সাধারণত আংশিক ও সন্নিকটবর্তী হয়। কোন সত্যকে আমরা প্রতিষ্ঠা
করতে পারি তা সব সময়েই সত্য আবিষ্কার করার ও তাকে প্রকাশ করার জন্য আমাদের হাতে
যে উপায়গুলি আছে তাদের ওপর নির্ভর করে, কিন্তু তারই সঙ্গে এই অর্থে আপেক্ষিক হলেও ধ্যান-ধারণার
সত্যতা সেই সমস্ত নৈর্বক্তিক তথ্যের
ওপর নির্ভর করে যাদের সঙ্গে ঐ ধ্যান-ধারণার সাদৃশ্য রয়েছে। আমরা কখনোই পরিপূর্ণ, সম্পূর্ণ বা চরম সত্যকে জানতে
পারি না, কিন্তু সর্বদা তার দিকেই এগিয়ে চলেছি।
ট্রুথ অর্থে সত্য শব্দটি প্রাচীন দাস যুগ থেকেই আছে। আর সমস্ত
চিন্তারই শ্রেণি চরিত্র আছে। আর বিজ্ঞান দাস যুগে ছিলো, সামন্তযুগে পিছিয়ে গেছিল, তখন আলকেমি এবং আরো কিছু ব্যাপার ছিলো, তবে বিজ্ঞান ছিলো না মনে হয়। বিজ্ঞানকে
বুর্জোয়ারা পুনরায় বাঁচিয়ে তোলে।
মার্কসবাদী-লেনিনবাদীরা বিজ্ঞানকে অধীন করে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের, মাওবাদীরা অধীন করে দ্বন্দ্ববাদের। আর দর্শন হচ্ছে
প্রকৃতি-বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের
ঘনীভূত রূপ। ফলে শুধু বিজ্ঞানের পূজারিরা
এখন সাম্রাজ্যবাদের সমর্থক হতে
বাধ্য। একটি মজার প্রসঙ্গ, মোহনদাস গান্ধীর মতো পাজীর আত্মজীবনীর নাম “মাই
এক্সপেরিমেন্ট উইথ ট্রুথ”।
চরম ও আংশিক সত্য
আমরা দেখেছি যে, ধ্যান-ধারণার বিকাশে হরেক
রকমের অধ্যাসের যেমন উদ্ভব হয়, তেমনি সত্যেরও আবির্ভাব ঘটে।
তাহলে সত্য বস্তুটি কী? এটি হলো ধ্যান-ধারণা ও নৈর্বক্তিক বাস্তবতার মধ্যে অনুরূপতা, ঐক্য বা সাদৃশ্য।
আমাদের ধ্যান-ধারণা ও
বাস্তবতার মধ্যে এই অনুরূপতা, ঐক্য বা সাদৃশ্য কিন্তু একমাত্র ধীরে ধীরেই প্রতিষ্ঠিত হয়
এবং তাও আবার প্রায়শঃই আংশিক ও অসম্পূর্ণ অনুরূপতা, ঐক্য বা
সাদৃশ্যের বেশি নয়। কারণ, একটি ধারণা বা ভাব সমস্ত দিক
থেকেই তার বাস্তব বিষয়ের অনুরূপ নাও হতে পারে, কিন্তু আংশিক
অনুরূপ হতে পারে; আবার ঐ বিষয়ে এমন অনেক কিছুই থাকতে পারে
যা ধারণায় আদৌ স্থান পায় না, যার ফলে ধারণা ও তার নৈর্বক্তিক বস্তুর অনুরূপতা অসম্পূর্ণ
থেকে যায়। এইসব ক্ষেত্রে অবশ্য একথা আমাদের বলা উচিত নয় যে আমাদের ধারণাটাই ভুল
ছিল, কিন্তু
তাহলেও তা সর্বাংশে, সম্পূর্ণভাবে চরম সত্য বলে বিবেচিত হবে
না। অতএব, সত্য এমন কোনো সম্পত্তি নয় যে একটি ধারণা বা
প্রতিজ্ঞা, হয় তার অধিকারী, নয় তো তা
নয়; একটি নির্দিষ্ট মাত্রায়, নির্দিষ্ট
সীমার মধ্যে এবং কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রেই সত্য একটি ধারণার উপাদান হতে পারে।
তথ্যসূত্র
১. মরিস কর্নফোর্থ, দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ, অনুবাদ ভোলানাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ, প্রকাশকাল নভেম্বর ১৯৮৭, পৃষ্ঠা ৫৩২-৫৩৩।
১. সাম্যবাদ ব্যক্তিমালিকানাকে অস্বীকার করে থাকে। কিন্তু সকল ধর্মই সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করে।
২. সাম্যবাদ বলে
বস্তুর বিকাশের ফলে চেতনা এসেছে, ধর্ম উল্টোভাবে বলে যে চেতনা থেকে বস্তু
এসেছে পরম চেতনা সব বস্তু তৈরি করেছে।
৩. সাম্যবাদ নারী-পুরুষে
ভেদ করে না, কিন্তু বেশিরভাগ ধর্ম নারী-পুরুষের
সামাজিক-রাজনৈতিকসহ বহু বিভেদ তৈরি করে। কিছু ধর্ম তো নারীকে বুদ্ধিহীন প্রাণী
হিসেবেই উপস্থাপন করে।
৪. সাম্যবাদ মুনাফা
ও বৈষম্যের বিরোধী, কিন্তু ধর্ম মুনাফার স্বীকৃতি দেয় এবং
ধনী-গরিবের বৈষম্যকে টিকিয়ে রাখে।
৫. সাম্যবাদ বলে, এই পৃথিবীতেই লড়তে হবে, ধর্ম বলে পরকালের আশায় বসে থাকো।
কুসংস্কার (ইংরেজি: Superstition) হচ্ছে এমন কোনো বিশ্বাস বা
অনুশীলন যা অ-চর্চাকারীদের দ্বারা অযৌক্তিক বা অতিপ্রাকৃত
বলে বিবেচিত হয়, যেটি ভাগ্য বা জাদু, অনুভূত
অতিপ্রাকৃত প্রভাব বা অজানা ভয়ের জন্য দায়ী হয়ে থাকে। এটি সাধারণত ভাগ্য,
তাবিজ, জ্যোতিষশাস্ত্র, কপাল
বলার, আত্মা এবং কিছু অলৌকিক সত্তাকে ঘিরে বিশ্বাস এবং
অনুশীলনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, বিশেষ করে এই বিশ্বাস
যে ভবিষ্যতের ঘটনাগুলি নির্দিষ্ট (আপাতদৃষ্টিতে) সম্পর্কহীন পূর্বতন ঘটনাগুলির দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী করা যেতে পারে।
এছাড়াও, কুসংস্কার শব্দটি প্রায়শই এমন একটি ধর্মকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয় যা একটি
প্রদত্ত সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠদের দ্বারা অনুশীলন করা হয় না; যদিও
সেটা প্রচলিত ধর্ম হিসেবে টিকে থাকে এবং সংখ্যা গরিষ্ঠরা সেটাকে কুসংস্কার হিসেবে
দেখে অথবা ধর্মবিরোধীদের দ্বারা সমস্ত ধর্মের জন্য সেটাকে কুসংস্কার হিসেবে দেখানো
হয়। মধ্যযুগীয় বর্বর ইউরোপে
কুসংস্কার হিসাবে বিকল্প ধর্মীয় বিশ্বাস
একটি প্রদত্ত সংস্কৃতিতে সাধারণভাবে গৃহীত ধর্ম থেকে ভিন্ন ধর্মীয় অনুশীলনকে
কখনও কখনও কুসংস্কার বলা হয়; একইভাবে, একটি প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আনা নতুন
অনুশীলনগুলিকে বাদ দেওয়ার প্রয়াসে নতুন অনুশীলনগুলোকে কুসংস্কার হিসাবে চিহ্নিত
করা যেতে পারে। একইভাবে, ভক্তির অত্যধিক প্রদর্শনকে প্রায়ই কুসংস্কারপূর্ণ আচরণ
হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রাচীনকালে, ল্যাটিন superstitio শব্দটি, এর সমতুল্য গ্রীক deisidaimonia
শব্দটির মতো,
অতিরঞ্জিত আচার
এবং ভবিষ্যদ্বাণীর প্রতি অত্যধিক বিশ্বাসপ্রবণ মনোভাবের সাথে যুক্ত ছিল। গ্রীক এবং
রোমান বহুঈশ্বরবাদীরা, যারা রাজনৈতিক এবং সামাজিক শর্তে দেবতার সাথে তাদের
সম্পর্কের মডেল তৈরি করেছিল, সেই ব্যক্তিকে তিরস্কার করত যে ক্রমাগত দেবতাদের চিন্তায়
ভয়ে কাঁপত, যেমন একজন ক্রীতদাস একজন নিষ্ঠুর এবং খামখেয়ালী প্রভুকে
ভয় পায়। দেবতাদের প্রতি এমন ভয়কেই রোমানরা ‘কুসংস্কার’রূপে
বোঝাত (Veyne 1987, p. 211)। দিদেরো তাঁর Encyclopédie-তে কুসংস্কারকে “সাধারণভাবে
ধর্মের যে কোনো বাড়াবাড়ি”
হিসাবে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন এবং এটিকে বিশেষভাবে পৌত্তলিকতার সাথে যুক্ত করেছিলেন।
কুসংস্কারজীবী প্রসঙ্গে
সমাজে কিছু জীবিকা নির্বাহী মানুষ আছে, যারা কুসংস্কার
বিক্রি করে বেঁচে থাকে, যেমন তাবিজ, কবচ, যাদু টোনা, ভুত প্রেত থেকে ঝাড়ফুঁক, এমনকি বন্য প্রাণীর
দেহ বা দেহাবশেষ ওষুধ হিসেবে বিক্রি করে। এরাই মূলত কুসংস্কারজীবি। পরিস্থিতির জটিলতায় হয়ত এরা এমন জীবনে এসেছেন, এরা লুম্পেন অনেকটা আর পরিবেশের জন্য
ক্ষতিকর পুরোটা। মানবতাবাদ শুধু মানুষের মঙ্গল দেখেছে, ফলে মানবতাবাদীর কাছে পণ্য বা মুনাফা খারাপ
কিছু নয়। ফলে মানবতাবাদীরা যে কোনো ব্যবসাকেই বৈধ
বলে। সেটি যত বিপন্ন প্রাণীর ব্যবসাই হোক না কেন, সেই ব্যবসাও তারা চালাতে চায়।
সামন্তবাদ আর কুসংস্কারের সম্পর্ক একটি আঠালো
সম্পর্ক। ফলে একজন কুসংস্কারজীবী কোনোভাবেই সমাজের কাজে লাগে না, কুসংস্কারজীবীরা কলা বা ঝালমুড়ি বেচেও জীবনধারণ করতে পারে।
সিটিসেল নামে ব্যবসা করেছে প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড, যেটি ছিল বাংলাদেশের প্রাচীনতম মোবাইল অপারেটর। এটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল অপারেটর কোম্পানি ও দক্ষিণ এশিয়ার অগ্রগামী টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক কোম্পানি যা শ্রীলঙ্কার ইতিসালাত ও পাকিস্তানের পাকটেলের মতোই বাংলাদেশে প্রথমে ব্যবসা আরম্ভ করে। এটি দেশের একমাত্র মোবাইল অপারেটর যা সিডিএমএ এবং ইভিডিও প্রযুক্তি ব্যবহার করত। আগস্ট ২০১৬ পর্যন্ত সিটিসেলের মোট মোবাইল গ্রাহক ছিল ১ লাখ ৪২ হাজার।
আমার
ব্যক্তিগত জীবনের একটি অংশ জুড়ে আছে এই সিটিসেল। ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে একটি ছাইরঙা ছোট এন্টিনার সেট
কিনে সিটিসেলের গ্রাহক হই। সেইটিতে যে রিম ছিলো তা পোস্টপেইড। যখন গেঁড়ামিন নামক
বাটপার অপারেটরটায় সাত টাকা মিনিট কথা বলতে হতো তখন আমি কথা বলতাম সাড়ে তিন টাকায়।
ফলে তখন কথা বলেছি অনেক, আমার সাড়ে ছয় হাজার টাকা বেতনের ৫০০-৭০০ টাকা চলে যেত কথা বলতে। আমার
কলিগ পর্যন্ত আমার সেই সিটিসেলেই কথা বলতো। তাঁর যুক্তি ছিলো আমারটায় কম রেট!
আমি সিটিসেল কিনেছিলাম তাঁর
কারণ আমার বড় ভাইয়ের প্রথম সেটটিও সিটিসেল ছিলো। তাঁর সেটটিতে কোনো রিম ছিলো না। ভাইয়ের ফোনটির দাম ছিলো প্রায় ১০ হাজার
টাকা। এরপর বিভিন্ন সময় সিটিসেলের কলরেট কমতে থাকে। কমতে কমতে একসময় সিটিসেল টু
সিটিসেল ২৯ পয়সা মিনিটে এসে থামে। যাদের সাথে বেশি কথা বলতে হয় তাঁদেরকে আমি একটি
করে ৯৯০ টাকার সেট গিফট করতে থাকি। এরকমভাবে আমাদের পুরো পরিবার হয়ে যায় সিটিসেল
পরিবার।
সিটিসেল দিয়ে তারুণ্যের
উত্তাল দিনগুলোতে পেয়েছি বন্ধুত্ব,
প্রেম, মুগ্ধতা। এই সিটিসেলে কথা বলেই
খুঁজে পেয়েছিলাম আমার পরমাত্মীয়টিকে। পুরনো সিটিসেল বন্ধ হওয়া তাই ছিলো
আনন্দ-বেদনার সাথে জড়িয়ে।
নির্মলেন্দু গুণ মোবাইলের বার্তা
বক্সে লিখেছিলেন মুঠোফোনের কাব্য, আর আমি লিখেছিলাম প্রায় ৩০০টি প্রেমবার্তা। তখন দশ-বিশ মিনিটে চার-পাঁচ
লাইনের কবিতা লিখে ফেলতাম।
সিটিসেল বন্ধ হলো যেদিন
মহামহিম তাঁড়ানা আপা আঙ্গুলের ছাপ্পা নিতে শুরু করলেন। আমরা আর কেউই সিটিসেলের
জন্য ছাপ্পা দিলাম না। তখনো দেখি পরিবারের একজন সদস্য সিটিসেলটির জন্য ছাপ্পা
দিয়েছেন।
সবাই সিটিসেল বর্জন করলেও
আমি শেষ পর্যন্ত বর্জন করতে পারিনি। বাটপার গেঁড়ামিন আমি জীবনে একবছরও ব্যবহার
করতে পারিনি। আর বদমাশ বাংলালিংক ব্যবহার করতাম বিকল্প নম্বর হিসেবে। পকেটে একটি
সিটিসেল সেট রাখতাম ২০১৫ সালেও। আর সিটিসেল সস্তায় যে ইন্টারনেট সেবা দিত তা কখনই
ভুলবার নয়।
![]() |
| মার্কসবাদী শ্রেণিসংগ্রামের স্বীকৃতিকে প্রসারিত করে প্রলেতারীয় একনায়কত্বের স্বীকৃতিতে |
![]() |
| বস্তুবাদী লালন |