Saturday, September 28, 2013

বাংলা গুই বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক সরীসৃপ




বাংলা গুই, Bengal Monitor.
বৈজ্ঞানিক নাম: Varanus bengalensis
বাংলা নামঃ বাংলা গুই,
ইংরেজি নামঃ Bengal Monitor.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগ/রাজ্যঃ Animalia
বিভাগঃ Chordata
শ্রেণীঃ Reptilia
বর্গ: Squamata, Oppel, 1811
পরিবারঃ Varanidae, Gray, 1827
গণঃ Varanus Merrem, 1820
প্রজাতিঃ Varanus bengalensis (Daudin, 1802)

বাংলাদেশের সরীসৃপের তালিকায় বাংলা গুই এক চমকার  প্রাণি।
পরিচিতিঃ বাংলা গুই দুর্দান্ত সাহসী, জল-স্থল-বৃক্ষে চলতে সমান পারদর্শীতুখোড় দৌড়বিদ ও বুদ্ধিমান গুইসাপের ইংরেজি নাম Bengal Monitor বৈজ্ঞানিক নাম Varanus bengalensis. শুধু শরীরের মাপ ১৭৫ সেন্টিমিটার লেজটি ১০০ সেন্টিমিটারদিবাচরপানিরতলায় ডুব দিয়ে থাকতে পারে দীর্ঘ সময়বড় গাছের মাথায় চড়তে পারেবিষধর সাপ লেজ ধরে গাছে আছড়ে মেরে ফেলে
কথ্যভাষায় গুইলহিসেবে পরিচিত এই প্রাণির ভিন্ন একটি নাম শুনলাম আমাদের প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক আফসার আহমদের কাছ থেকেনাটক ও নাট্যতত্ত্বের এই শিক্ষক বললেন, মধ্যযুগের কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর চণ্ডিমঙ্গল কাব্যে এই প্রাণিকে গোধিকাবলা হয়েছেকিছু দেবত্বও আরোপ করা হয়েছে গোধিকার উপর প্রাণিকূলকে সুরক্ষা দেন দেবীচণ্ডিকাব্যে দেখা যায়, ব্যাধ কালকেতু স্বর্ণগোধিকাধরেছে পুড়িয়ে খাওয়ার জন্যকিন্তু দেবী স্বয়ং গোধিকার ছদ্মবেশ ধারণ করেছেন ব্যাধের হাত থেকে এই নিরীহ প্রাণিকে রক্ষা করতেছোটবেলায় শোনা আমাদের নেত্রকোনা অঞ্চলের ছড়া, “গুইল মারে না ভালা মাইনষে, গুইল মারে গুলাম জাতে” — নিশ্চয়ই মঙ্গলকাব্যে বিধৃত বিপন্ন প্রাণিকুলকে রক্ষার মতো আরও একটি লোকজ প্রয়াস
স্বভাব ও আবাসস্থলঃ প্রিয় আশ্রয়স্থল বন-বাগানের ভেতরের মাটির গর্ত, গোরস্থানের পুরোনো কবরের ভেতরটা, ইটের পাঁজা, ঘন ঝোপঝাড়ের তলা ইত্যাদিখাদ্য তালিকায় আছে: মাছ, ব্যাঙ, ইঁদুর, পাখি ও পাখির ছানা, কাঁকড়া অঞ্জন ইত্যাদিবয়স বেশি হলে বুদ্ধি বাড়েবাড়ে কৌশল, একেবারে ঘড়েলহয়ে যায়এ রকম ঘড়েল গুইসাপ পানিতে ডুব দিয়ে এগিয়ে সাঁতার কাটতে থাকা হাঁস ও হাঁসের ছানাসহ অন্যান্য পানিতে ভাসা পাখি ধরে দেয় ডুবশিকার না মরা পর্যন্ত ডুব দিয়েই থাকেপরে ডাঙায় উঠে খায়এরা অনেক সময় গরু-ছাগলের মড়াও খায়লম্বা জিভ বের করে উইপোকাসহ অন্যান্য পোকা খায়২৫-৩০টি ডিম পাড়েবাচ্চা ফোটে আট-দশ মাস পরছোট বাচ্চা দেখতে খুব সুন্দরউপকারী এই প্রাণীটি মানুষ ও পরিবেশের মহাবন্ধু এরা যে তল্লাটে চরে, সে তল্লাটে বিষধর সাপ থাকে নাএ জন্যই মানুষ এদের ভালোবাসেএরাও নির্ভয়ে ঘুরে মানুষের আশপাশেবন্ধু যেন হতে চায় মানুষের
 


আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৪. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ

Wednesday, September 25, 2013

আমলাতন্ত্রের ঐতিহাসিক গণতন্ত্রবিরোধিতা ও তার প্রকৃতি




আমলাতন্ত্র শুরু থেকেই গণতন্ত্রের বিরোধীআমলারা কখনোই গণতন্ত্র চায় নাআমলাতন্ত্র জনগণকে জিম্মি করে, জনগণকে শোষণ ও নির্যাতন করে, জনগণের সম্পদ কুক্ষিগত করে সুবিধাভোগী শ্রেণিতে পরিণত হয়গরিব দেশগুলোর আমলারা জনগণকে পরাধীন করে রাখে, জনগণের শ্রমফল ভোগ করে, জনগণকে বিপদে ফেলে দুর্নীতি করে, দেশীয় সম্পদ বিদেশে পাচার করে পশ্চাপদ গরিব দেশগুলোতে গণতন্ত্রের শত্রুদের ভেতরে ক্রিয়াশীল রয়েছে পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও অবশ্যই আমলাতন্ত্র আর পশ্চাপদ গরিব দেশই হয় আমলানির্ভরযে দেশ যত পিছিয়ে পড়া, সেদেশে আমলার সংখ্যা ও ক্ষমতা তত বেশি থাকেযেখানে মানুষ যত অজ্ঞ ও স্বায়ত্তশাসনে অনভিজ্ঞ সেখানে তত আমলাদের দোর্দণ্ড প্রতাপ ক্ষমতাপশ্চাপদ গরিব দেশগুলোতে আমলারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখে, জনগণের হাতে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের বিরোধিতা করে, নিজেদের সুযোগসুবিধা ও বেতন বাড়ানোর তালে থাকে, বিন্দুমাত্র উপাদনে অংশগ্রহণ করে না আর রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ পদে বসতে চায়বাংলাদেশের ইতিহাসে এই সামরিক-বেসামরিক আমলারা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়েছে, জনসম্পদ লুট করেছে, গরিবকে নির্যাতন করেছে, আরো গরিব বাড়িয়েছে, আমলাগিরি শেষ করে অনেকে রাজনীতিতে অংশ নিয়েছে এবং দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত থেকেছে
জনগণকে আমলাদের কাছে যেতে হয়; কারণ পশ্চাপদ দেশে জনগণ ভোট কিংবা বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় গেলেও তারা জানে না কীভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করতে হয়। তাই গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত দরিদ্র জনগণ পশ্চাপদ নতুন রাষ্ট্রগুলোতে শাসনকার্যের অনভিজ্ঞতার কারণে আমলানির্ভর হয়ে পড়ে। আর এসব আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণতন্ত্র বারবার হোঁচট খায়। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ব্যর্থতার ইতিহাস হচ্ছে আমলাতন্ত্রের শক্তিশালী হওয়ার ইতিহাস।
আমাদের গণতন্ত্র সর্বদাই শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের গণতন্ত্র। আমরা পুঁজিবাদী বুর্জোয়া লুটেরা ধনিদের গণতন্ত্রের কথা বলছি না। পুঁজিবাদী দেশগুলোতে আমলাদের শক্তি পশ্চাপদ দেশগুলোর চেয়ে কম হলেও পুঁজিবাদী দেশের আমলারা অনেক ক্ষমতার অধিকারি। এই আমলারাই রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ করে; যুদ্ধ বাঁধায়; গণতান্ত্রিক নেতৃত্বকে ব্যর্থ বা হত্যা করে; দরিদ্র দেশসমূহকে দখলে প্ররোচনা দেয় আর সাম্রাজ্যবাদ দ্বারা নিপীড়িত দরিদ্র দেশগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে সেই দেশগুলোকে ঋণে জর্জরিত করে।
কিন্তু শ্রমিক-কৃষকশ্রেণির গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমলাদের অবস্থান কী হবে? এ প্রসঙ্গে পল দত্ত তার প্রতিবিপ্লব গ্রন্থে ভি. আই. লেনিনের আমলাতন্ত্র সম্পর্কিত চিন্তাধারা উল্লেখ করতে গিয়ে লিখেছেন,
লেনিন তাঁর রাষ্ট্র ও বিপ্লব গ্রন্থে শ্রমিক রাষ্ট্রে আমলা ও শাসকদের নিয়ন্ত্রণে রাখার যে পরিকল্পনা পেশ করেছিলেন, তা ছিল এইঃ (১) সব কর্মচারী জনতার ভোটে নির্বাচিত হবেন; এবং যে কোনো সময়ে তাকে ভোট দিয়ে বরখাস্ত করা চলবে; (২) একজন সাধারণ শ্রমিকের চেয়ে বেশি মজুরি কেউই পাবেন না; (৩) সমগ্র জনতাই সরকারি ক্ষমতার অংশীদার হবেন; অর্থা সবাই আমলার কাজ করবেন, ফলে কোনো আমলাই আর থাকবে না।
এবং লেনিন চেয়েছিলেন বিপ্লবের পরমুহূর্তে যে সরকার গঠিত হবে তাকেই এভাবে গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থা করা যাবে, এ রকম মনোভাব বিপদ ডেকে আনবে, কেননা লেনিন জানতেন একবার আমলাদের বাড়বার সুযোগ দিলে তারা দ্রুত নিজেদের সংগঠিত করে এমন দৃঢ় ঐক্যবদ্ধ গোষ্ঠী তৈরি করে ফেলবে, এমনভাবে সুযোগসুবিধা বিলিয়ে এত মানুষকে স্বপক্ষে টেনে আনবে যে আরেকটা রক্তাক্ত অভ্যুত্থান ব্যতীত এদের ক্ষমতাচ্যুত করাই অসম্ভব হয়ে পড়বে।
বিশ্ববিপ্লবের দুর্ভাগ্য যে সোভিয়েত সরকারকে লেনিনীয় মডেলে গড়া যায়নি। নির্বাচিত শাসকমণ্ডলী গড়ার কাজ শুরুই করা যায়নি।[১]
এই ভ্রান্ত গণবিরোধি আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে চিনে শুরু হয়েছিল সাংস্কৃতিক বিপ্লব। চিনসহ বিভিন্ন দেশেই দেখা যায় অনেক আমলাই হয়ে থাকে বিশেষজ্ঞ এবং একই সাথে আমলাও। চিনে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের লক্ষ্য ছিল আমলাদের চিন্তার সংস্কার এবং প্রশাসনে গতিশীলতা ও গণতন্ত্রকে কার্যকর করা। চিনের অভিজ্ঞতায় দেখা যায় ম্যানেজার ও প্রযুক্তিবিদদের ক্ষমতাকে কমিয়ে দিয়ে ক্রমশ সেখানে যৌথ পরিচালনা সংস্থা হিসেবে বিপ্লবী কমিটি গঠনের উদ্যোগ। সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির ষোড়শ কংগ্রেসেও আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। সেখানেও জনগণের অংশগ্রহণের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বাস্তবে কিন্তু উভয় দেশের অভিজ্ঞতাতে বেশিদূর এগোনো যায়নি।[২]  
আমলাতান্ত্রিক মনোভাব প্রশাসন থেকে পার্টিতেও দেখা যায়। মাও সেতুং সে সম্পর্কে সপ্তম কংগ্রেসের দ্বিতীয় প্লেনারি সম্মেলনে বলেন, বিজয়লাভের সংগে সংগে কিছু মনোভাব পার্টির ভেতরে মাথাচাড়া দিতে পারে যেমন ঔদ্ধত্য, স্বারোপিত বীরত্বের আবহাওয়া, অলসতা, এগিয়ে চলতে অনাগ্রহ, সুখের প্রতি আসক্তি প্রভৃতি।[২]
আমলাতন্ত্র শ্রেণিসমাজের দীর্ঘদিনের সৃষ্টি। একে শক্তিশালী করেছে পুঁজিবাদ। পুঁজিবাদী শাসনব্যবস্থা বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বকে ভীষণভাবে বৃদ্ধি করেছে। ভাববাদীরা এই আমলাতন্ত্রকে প্রয়োজনীয় পাপ বলে মনে করেছেন। এই ভাববাদীরা ভাবতে চাননি যে আমলাতন্ত্র ছাড়াও রাষ্ট্র ও প্রশাসনব্যবস্থা সম্ভব। মাও সেতুং সারা জীবন নানাভাবে আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই চালান সেটির নানা রকম প্রায় বিশটি চিত্র তুলে ধরেন।[২]     
উপরোক্ত আলোচনা থেকে এ সিদ্ধান্ত টানা যায় যে, আমলাতন্ত্রকে পরাজিত করা ছাড়া গণতন্ত্রের সাফল্য অসম্ভব।

তথ্যসূত্র ও টিকাঃ
. পল দত্ত; প্রতিবিপ্লব; এম সি সরকার এন্ড সন্স প্রা লি; কলকাতা; দ্বিতীয় সংস্করণ; ভাদ্র-১৪০০; পৃষ্ঠা ৩২-৩৩।
. দেখুন, সমীরণ মজুমদার; চিনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব; ঋ্যামন পাবলিসার্স; ফেব্রুয়ারি, ২০১০; পৃষ্ঠা, ১৮১-১৮২।  

ফ্যানির প্রতি___জন কিটস




অনুবাদঃ অনুপ সাদি

আরোগ্যকারি প্রকৃতি! রক্তে আমার আনো উচ্ছ্বাস!
  আমাকে দাও বিশ্রাম, আমার হৃদয় শান্ত করো কবিতায়;
আমার হৃদয়ে দাও সতেজ নিশ্বাস
  তুলে ধরো আমাকে তোমার তেপায়ায়।
হে মহান প্রকৃতি! একটি বিষয় দাও! একটি বিষয় দাও কবিতার!
      স্বপ্ন দেখতে দাও আমাকে আবার।
আমি আসি_ আমি দেখি তোমাকে, তুমি আছো তাই
নিষ্প্রাণ বাতাসে তুমি ইশারায় ডেকো না আমায়!

ওগো প্রিয়তমা, তুমিই বসতি আমার সব
  দুঃখ, আনন্দ, আশা আর ভয়ের,_
আজ রাতে আমি ভাবি, তোমার সৌন্দর্য আনন্দের
     এমন এক হাসি, যা অতি চমকার
     দারুণ উজ্জ্বল ও আলোকময় আর
তোমার আকুল, নত বেদনার্ত চোখ মনোমুগ্ধকর,
     নরম বিস্ময়ে হারায়
     আমি দেখি বারবার দেখি তোমায়।

এখন কে লোভ নিয়ে খায় আমার ভোজের খাবার?
  আমার রূপালি চাঁদকে কোন দৃষ্টি অন্ধকারে ঢাকে?
আহা! তুমি এক মুহূর্তও ধরতে দিওনা অন্যকে হাত তোমার;
     জ্বালাও, জ্বালাও প্রেমের আগুন
     তোমার কাছে এই নিবেদন
তোমার প্রেম এত শীঘ্র দিও না অন্য কাউকে।
     তোমার উদারতায় তুমি আমাকে বাঁচাও,
     আমার জন্য তোমার মনে রোমান্স জাগাও।

মিষ্টি প্রেম রেখো! যদিও সংগীত উষ্ণ বাতাসের মাঝে
  ইন্দ্রিয়পরিতৃপ্তিকর আবেগে পূর্ণ স্বপ্ন
যদিও সাঁতারে ফুলমালার নাচ সানন্দে বিরাজে;
     হও এপ্রিলের আনন্দময় দিন,
     হাসিখুশি, শীতল, উজ্জ্বল, রঙিন
একটি নাতিশীতোষ্ণ পদ্মফুল, সুন্দরের মতো নাতিশীতোষ্ণ,
     তারপরই চারদিকে স্বর্গসুখ থাকবে!  
     একটি উষ্ণ জুন মাস আমার জন্য আসবে।

কেন তুমি বলবে এসব, ও আমার ফ্যানি! সত্য নয় তা;
  তোমার নরম হাত রাখো হৃদয়ের শীতল দিকে,
সেখানে থাক হৃদস্পন্দনঃ স্বীকার কর নতুন কিছুই না_
     অবশ্যই নারী হয় না এক
     সমুদ্রে ভেসে চলা ক্ষুদ্র পালক,
ছুটে চলে স্রোতে বাতাসে অনেকেরই দিকে।
     আঘাত পাওয়া বল যেমন তৃণভূমিতে
     ছুটে চলে দুর্বার অনিশ্চিত গতিতে।

আমি জানি এটা_ খুব হতাশার তার কাছে, যে তোমাকে
  ভালবাসে আমারই মতো, ও আমার প্রিয়তম ফ্যানি!
যার হৃদয় তোমার জন্য সবখানেই কাঁপতে থাকে,
     অথবা যখন তুমি ঘুরে বেড়াও,
     সাহস রাখো অভাবীর ঘরেও।
ভালোবাসো, একমুখী প্রেমের যন্ত্রণা আছে এটা আমি মানিঃ
ওগো সুন্দরী, মুক্ত রাখো আমাকে।
ঈর্ষার বেদনাদায়ক যন্ত্রণা থেকে।  

আহা! যদি তুমি পুরস্কৃত করো আমার প্রশমিত আত্মাকে
  এক ঘণ্টার রংহীন, নির্জীব, অহংকার চূর্ণ করতে;
অপবিত্র করতে দিও না আমার পবিত্র প্রেমের সাগরকে,
     অথবা কঠিন ও রূঢ় এক
     হাত ভাঙতে পারে না দীক্ষার কেক;
নতুন ফোঁটা ফুল পারে না কেউ ছুঁতে;
     যদি না_ আমার চোখ বন্ধ হয়। হায়,
     হায় প্রেম হায়! শেষ ঘুমে আমি আমার নিজেকে হারাই।  

বি. দ্র. এই কবিতাটি অনুবাদ করা হয়েছিল তাহা ইয়াসিনের অনুরোধে এবং কবিতাটি তাহা ইয়াসিনের বই নজরুলের জীবনবোধ ও চিন্তাধারা গ্রন্থে সংকলিত আছে। কবিতাটি অনুবাদ করা হয়েছিল ১৬-১৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৭ তারিখে; শেখ সাহেববাজার, আজিমপুর, ঢাকায় অবস্থানকালীন সময়ে।

ইংরেজি কবিতাটি পড়ুনঃ Ode To Fanny

Tuesday, September 24, 2013

চায়না বনরুই বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী মহাবিপন্ন প্রাণী



চায়না বনরুই, ফটোঃ কল্যাণ প্রসূণ

বাংলা নাম: চায়না বনরুই,
ইংরেজি নাম/Common Name: Chinese Pangolin.
বৈজ্ঞানিক নাম/Scientific Name: Manis pentadactyla
সমনাম:   

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Mammalia
বর্গ/Order: Pholidota
পরিবার/Family: Manidae,
গণ/Genus: Manis, Linnaeus, 1758;
প্রজাতি/Species: Manis pentadactyla Linnaeus, 1758 
ভূমিকা: বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণিদের মধ্যে চায়না বনরুই এক ধরনের আঁইশযুক্ত স্তন্যপায়ী। পৃথিবীতে ৭ প্রজাতির বনরুই রয়েছে, তন্মধ্যে এশিয়ায় আছে তিন প্রজাতির আর এই তিনটিই বাংলাদেশে পাওয়া যায়এশীয় বনরুইদের এই তিনটি প্রজাতি হলও ক. দেশি বনরুই, খ. মালয়ী বনরুই, ও আমাদের আলোচ্য গ. চায়না বনরুই
বর্ণনা: চায়না বনরুই দীর্ঘ ও সরু দেহের একটি প্রাণি পরিমাপ: মাথাসহ দেহের দৈর্ঘ্য ৪৮-৫৮ সেমিলেজ ২৬-৪০ সেমিবনরুই ওজনে ২ থেকে ৯ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে 
স্বভাব: উই-পিঁপাড়াভুক এই প্রাণীটি রাতে খুব সক্রিয়খাবারের সন্ধানে মাঝেমধ্যে দিনেও দেখা যায়জনন কাল ছাড়া বাকি জীবনটা একাই কাটিয়ে দেয় বনরুইঝোপঝাড়ের নিচে মাটির গর্তে এদের বসবাসশিকারি প্রাণীর হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করবার জন্য বনরুই নিজ শরীর গুটিয়ে বর্ম দারা আবৃত চাকতি বানিয়ে ফেলে নিশাচর ও আড়ালপ্রিয় এই প্রাণী সামনের দুপায়ের নখর দিয়ে ক্ষিপ্ততার সাথে মাত্র ৩ থেকে ৫ মিনিটের মধ্যে ৯ ফুট দীর্ঘ গর্ত খুঁড়তে পারেগর্তের গভীরতা ২০/৩০ ফুট পর্যন্তও হতে পারে_ ওটাই ওদের দিনের আশ্রয়স্থলবাচ্চাও তোলে ওখানেবাচ্চাদের দেখতে যা সুন্দর না! বাচ্চাদের এরা লেজের ওপরে বসিয়ে দিব্যি হেঁটে বেড়ায়- বাচ্চারা খুবই আরাম পায় তাতেবাচ্চা হওয়ার পরে এরা খুব সতর্ক থাকেএদের জিভ লালাভ-আঠালওই জিভে পোকা-পতঙ্গ-উইপোকা-উইপোকার ডিম ইত্যাদি সহজেই আটকায়- এগুলোই এদের মূল খাবারজোড়ায় জোড়ায় চলে এরাবসন্তে একটি বাচ্চা দেয়দুটিও হয় কচিৎআত্মরক্ষার কৌশলটা এদের দারুণবিপদে পড়লে পুরো শরীর কুণ্ডলী পাকিয়ে একেবারে গোলগাল ৫ নম্বরী ফুটবল হয়ে যায়_ এমনকি বাচ্চাকে বুক-পেটে রেখেও কুণ্ডলী পাকায় এ অবস্থায় ঢালু বেয়ে ফুটবলের মতোই গড়িয়ে নামতে পারে গাছেও খুব দ্রুততার সাথে বিচরণ করতে পারে এরা প্রতিদিন শত শত পোকামাকড় খায় পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখেমানুষের কোন ক্ষতি করে নাএদের প্রিয় খাদ্য পিঁপড়াসামনের দুপায়ের নখর দিয়ে ওরা মাটিতে গর্ত খোঁড়ে
বিস্তৃতিঃ চায়না বনরুই বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক প্রাণিযদিও এ-প্রজাতির বিস্তৃতির সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাছাড়া ভারত, হিমালয়ের পূর্বাঞ্চল বার্মা ও চিনে এ প্রজাতি পাওয়া যায় 
অবস্থা: চায়না বনরুই বাংলাদেশে মহাবিপন্ন ও বিশ্বে শঙ্কাগ্রস্ত বলে বিবেচিত
বিবিধ: শান্ত-নিরিহ এই বনরুই আমাদের ক্ষতি না করলেও আমরা মানুষেরা বাসস্থান ধ্বংস করে তাদের করেছি আশ্রয়হীনলোকজ ঔষধ বানাবার ওজুহাতে তাদের করেছি বিপন্নঅনেকেই হয়ত দেখে থাকবেন হাট-বাজারে কবিরাজ তার ঔষধের পশরা সাজিয়ে বসেছেমাছের মত বড় বড় আঁশযুক্ত দু-এক খণ্ড চামড়া আছে হয়ত সেখানেসেটিই বর্ম ধারী বনরুই এর করুণ পরিণতি! কুসংস্কারের কারণে মানুষ এদের হত্যা করেআবার গণকরাও মানুষকে প্রতারণার জন্য এই প্রাণীটিকে ব্যবহার করেআসলে বনরুই মানব জাতির জন্য অত্যন্ত উপকারী প্রাণী

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৪. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ