Saturday, September 28, 2013

বাংলা গুই বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক সরীসৃপ




বাংলা গুই, Bengal Monitor.
বৈজ্ঞানিক নাম: Varanus bengalensis
বাংলা নামঃ বাংলা গুই,
ইংরেজি নামঃ Bengal Monitor.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগ/রাজ্যঃ Animalia
বিভাগঃ Chordata
শ্রেণীঃ Reptilia
বর্গ: Squamata, Oppel, 1811
পরিবারঃ Varanidae, Gray, 1827
গণঃ Varanus Merrem, 1820
প্রজাতিঃ Varanus bengalensis (Daudin, 1802)

বাংলাদেশের সরীসৃপের তালিকায় বাংলা গুই এক চমকার  প্রাণি।
পরিচিতিঃ বাংলা গুই দুর্দান্ত সাহসী, জল-স্থল-বৃক্ষে চলতে সমান পারদর্শীতুখোড় দৌড়বিদ ও বুদ্ধিমান গুইসাপের ইংরেজি নাম Bengal Monitor বৈজ্ঞানিক নাম Varanus bengalensis. শুধু শরীরের মাপ ১৭৫ সেন্টিমিটার লেজটি ১০০ সেন্টিমিটারদিবাচরপানিরতলায় ডুব দিয়ে থাকতে পারে দীর্ঘ সময়বড় গাছের মাথায় চড়তে পারেবিষধর সাপ লেজ ধরে গাছে আছড়ে মেরে ফেলে
কথ্যভাষায় গুইলহিসেবে পরিচিত এই প্রাণির ভিন্ন একটি নাম শুনলাম আমাদের প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক আফসার আহমদের কাছ থেকেনাটক ও নাট্যতত্ত্বের এই শিক্ষক বললেন, মধ্যযুগের কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর চণ্ডিমঙ্গল কাব্যে এই প্রাণিকে গোধিকাবলা হয়েছেকিছু দেবত্বও আরোপ করা হয়েছে গোধিকার উপর প্রাণিকূলকে সুরক্ষা দেন দেবীচণ্ডিকাব্যে দেখা যায়, ব্যাধ কালকেতু স্বর্ণগোধিকাধরেছে পুড়িয়ে খাওয়ার জন্যকিন্তু দেবী স্বয়ং গোধিকার ছদ্মবেশ ধারণ করেছেন ব্যাধের হাত থেকে এই নিরীহ প্রাণিকে রক্ষা করতেছোটবেলায় শোনা আমাদের নেত্রকোনা অঞ্চলের ছড়া, “গুইল মারে না ভালা মাইনষে, গুইল মারে গুলাম জাতে” — নিশ্চয়ই মঙ্গলকাব্যে বিধৃত বিপন্ন প্রাণিকুলকে রক্ষার মতো আরও একটি লোকজ প্রয়াস
স্বভাব ও আবাসস্থলঃ প্রিয় আশ্রয়স্থল বন-বাগানের ভেতরের মাটির গর্ত, গোরস্থানের পুরোনো কবরের ভেতরটা, ইটের পাঁজা, ঘন ঝোপঝাড়ের তলা ইত্যাদিখাদ্য তালিকায় আছে: মাছ, ব্যাঙ, ইঁদুর, পাখি ও পাখির ছানা, কাঁকড়া অঞ্জন ইত্যাদিবয়স বেশি হলে বুদ্ধি বাড়েবাড়ে কৌশল, একেবারে ঘড়েলহয়ে যায়এ রকম ঘড়েল গুইসাপ পানিতে ডুব দিয়ে এগিয়ে সাঁতার কাটতে থাকা হাঁস ও হাঁসের ছানাসহ অন্যান্য পানিতে ভাসা পাখি ধরে দেয় ডুবশিকার না মরা পর্যন্ত ডুব দিয়েই থাকেপরে ডাঙায় উঠে খায়এরা অনেক সময় গরু-ছাগলের মড়াও খায়লম্বা জিভ বের করে উইপোকাসহ অন্যান্য পোকা খায়২৫-৩০টি ডিম পাড়েবাচ্চা ফোটে আট-দশ মাস পরছোট বাচ্চা দেখতে খুব সুন্দরউপকারী এই প্রাণীটি মানুষ ও পরিবেশের মহাবন্ধু এরা যে তল্লাটে চরে, সে তল্লাটে বিষধর সাপ থাকে নাএ জন্যই মানুষ এদের ভালোবাসেএরাও নির্ভয়ে ঘুরে মানুষের আশপাশেবন্ধু যেন হতে চায় মানুষের
 


আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৪. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ

Tuesday, September 24, 2013

চায়না বনরুই বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী মহাবিপন্ন প্রাণী



চায়না বনরুই, ফটোঃ কল্যাণ প্রসূণ

বাংলা নাম: চায়না বনরুই,
ইংরেজি নাম/Common Name: Chinese Pangolin.
বৈজ্ঞানিক নাম/Scientific Name: Manis pentadactyla
সমনাম:   

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Mammalia
বর্গ/Order: Pholidota
পরিবার/Family: Manidae,
গণ/Genus: Manis, Linnaeus, 1758;
প্রজাতি/Species: Manis pentadactyla Linnaeus, 1758 
ভূমিকা: বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণিদের মধ্যে চায়না বনরুই এক ধরনের আঁইশযুক্ত স্তন্যপায়ী। পৃথিবীতে ৭ প্রজাতির বনরুই রয়েছে, তন্মধ্যে এশিয়ায় আছে তিন প্রজাতির আর এই তিনটিই বাংলাদেশে পাওয়া যায়এশীয় বনরুইদের এই তিনটি প্রজাতি হলও ক. দেশি বনরুই, খ. মালয়ী বনরুই, ও আমাদের আলোচ্য গ. চায়না বনরুই
বর্ণনা: চায়না বনরুই দীর্ঘ ও সরু দেহের একটি প্রাণি পরিমাপ: মাথাসহ দেহের দৈর্ঘ্য ৪৮-৫৮ সেমিলেজ ২৬-৪০ সেমিবনরুই ওজনে ২ থেকে ৯ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে 
স্বভাব: উই-পিঁপাড়াভুক এই প্রাণীটি রাতে খুব সক্রিয়খাবারের সন্ধানে মাঝেমধ্যে দিনেও দেখা যায়জনন কাল ছাড়া বাকি জীবনটা একাই কাটিয়ে দেয় বনরুইঝোপঝাড়ের নিচে মাটির গর্তে এদের বসবাসশিকারি প্রাণীর হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করবার জন্য বনরুই নিজ শরীর গুটিয়ে বর্ম দারা আবৃত চাকতি বানিয়ে ফেলে নিশাচর ও আড়ালপ্রিয় এই প্রাণী সামনের দুপায়ের নখর দিয়ে ক্ষিপ্ততার সাথে মাত্র ৩ থেকে ৫ মিনিটের মধ্যে ৯ ফুট দীর্ঘ গর্ত খুঁড়তে পারেগর্তের গভীরতা ২০/৩০ ফুট পর্যন্তও হতে পারে_ ওটাই ওদের দিনের আশ্রয়স্থলবাচ্চাও তোলে ওখানেবাচ্চাদের দেখতে যা সুন্দর না! বাচ্চাদের এরা লেজের ওপরে বসিয়ে দিব্যি হেঁটে বেড়ায়- বাচ্চারা খুবই আরাম পায় তাতেবাচ্চা হওয়ার পরে এরা খুব সতর্ক থাকেএদের জিভ লালাভ-আঠালওই জিভে পোকা-পতঙ্গ-উইপোকা-উইপোকার ডিম ইত্যাদি সহজেই আটকায়- এগুলোই এদের মূল খাবারজোড়ায় জোড়ায় চলে এরাবসন্তে একটি বাচ্চা দেয়দুটিও হয় কচিৎআত্মরক্ষার কৌশলটা এদের দারুণবিপদে পড়লে পুরো শরীর কুণ্ডলী পাকিয়ে একেবারে গোলগাল ৫ নম্বরী ফুটবল হয়ে যায়_ এমনকি বাচ্চাকে বুক-পেটে রেখেও কুণ্ডলী পাকায় এ অবস্থায় ঢালু বেয়ে ফুটবলের মতোই গড়িয়ে নামতে পারে গাছেও খুব দ্রুততার সাথে বিচরণ করতে পারে এরা প্রতিদিন শত শত পোকামাকড় খায় পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখেমানুষের কোন ক্ষতি করে নাএদের প্রিয় খাদ্য পিঁপড়াসামনের দুপায়ের নখর দিয়ে ওরা মাটিতে গর্ত খোঁড়ে
বিস্তৃতিঃ চায়না বনরুই বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক প্রাণিযদিও এ-প্রজাতির বিস্তৃতির সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাছাড়া ভারত, হিমালয়ের পূর্বাঞ্চল বার্মা ও চিনে এ প্রজাতি পাওয়া যায় 
অবস্থা: চায়না বনরুই বাংলাদেশে মহাবিপন্ন ও বিশ্বে শঙ্কাগ্রস্ত বলে বিবেচিত
বিবিধ: শান্ত-নিরিহ এই বনরুই আমাদের ক্ষতি না করলেও আমরা মানুষেরা বাসস্থান ধ্বংস করে তাদের করেছি আশ্রয়হীনলোকজ ঔষধ বানাবার ওজুহাতে তাদের করেছি বিপন্নঅনেকেই হয়ত দেখে থাকবেন হাট-বাজারে কবিরাজ তার ঔষধের পশরা সাজিয়ে বসেছেমাছের মত বড় বড় আঁশযুক্ত দু-এক খণ্ড চামড়া আছে হয়ত সেখানেসেটিই বর্ম ধারী বনরুই এর করুণ পরিণতি! কুসংস্কারের কারণে মানুষ এদের হত্যা করেআবার গণকরাও মানুষকে প্রতারণার জন্য এই প্রাণীটিকে ব্যবহার করেআসলে বনরুই মানব জাতির জন্য অত্যন্ত উপকারী প্রাণী

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৪. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ

Saturday, September 14, 2013

মার্কসবাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাতা গিওর্গি প্লেখানভ




গিওর্গি প্লেখানভ

গিওর্গি ভালেন্তিনোভিচ প্লেখানভ (২৬ নভেম্বর, ১৮৫৭-৩১ মে, ১৯১৮) মার্কসবাদী পণ্ডিত ও তাত্ত্বিক, প্রখ্যাত রুশ চিন্তাবিদ, রুশ সমাজ-গণতন্ত্রী দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি রাশিয়ায় প্রথমদিকের সেইসব ব্যক্তিদের একজন যিনি নিজেকে মার্কসবাদী হিসেবে পরিচিত করেন।  ভি. আই. লেনিন তাকে মার্কসবাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাতা হিসেবে বর্ণনা করেন।

পুরনো ক্যালেন্ডারে ১৮৫৭ সালের ২৯ নভেম্বর রাশিয়ার তাম্বোভ প্রদেশের গুদালভকা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে প্লেখানভ জন্মগ্রহণ করেন। গিওর্গি প্লেখানভের পিতা, ভ্যালেন্তিন প্লেখানভ, তাতার নৃতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের সম্ভ্রান্ত সামন্তপ্রভু ছিলেন।

প্লেখানভের লেখাপড়া ১৮৬৬ সালে ১০ বছর বয়সে শুরু হয় যখন তিনি ভরোনেঝের কন্সতান্তিনভ মিলিটারি একাডেমিতে প্রবেশ করেন। ১৮৭৩ সাল পর্যন্ত সেখানেই তার শিক্ষকদের দ্বারা ভালোভাবে লেখাপড়া শেখেন। এরপর পিতার মৃত্যু হলে তিনি মিলিটারি একাডেমি ছেড়ে যান এবং সেন্ট পিটার্সবুর্গ Metallurgical Institute-এ ভর্তি হন। এখানে ছাত্র থাকাকালিন তিনি ১৮৭৫ সালে একজন তরুণ বিপ্লবি বুদ্ধিজীবী পাভেল আক্সেলরদের (১৮৫০-১৯২৮) সাথে পরিচিত হয়েছিলেন এবং পরে পাভেল আক্সেলরদ লিখেছিলেন যে প্লেখানভ তাক্ষনিকভাবে তার মনে ভাল ছাপ ফেলতে সক্ষম হন। 
"He spoke well in a business-like fashion, simply and yet in a literary way. One perceived in him a love for knowledge, a habit of reading, thinking, working. He dreamed at the time of going abroad to complete his training in chemistry. This plan didn't please me... This is a luxury! I said to the young man. If you take so long to complete your studies in chemistry, when will you begin to work for the revolution?"[১]

আক্সেলরদের প্রভাবে প্লেখানভ কর্মী হিসেবে পপুলিস্ট (নারোদনিক) আন্দোলনে প্রথমদিকের সেইসময়ের বিপ্লবি প্রতিষ্ঠান জমি ও স্বাধীনতায় যোগ দেন। প্লেখানভ ১৮৭৭ এবং ১৮৭৮ সালে দুবার গ্রেপ্তার হন এবং কিছুদিন পরই মুক্তি পান। তিনি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড প্রবণতার জন্য এই সংগঠন ত্যাগ করেন। তিনি রাশিয়া ত্যাগ করেন ১৮৮০ সালে এর পরবর্তী প্রায় চল্লিশ বছর যাবত নির্বাসনে থাকেন, অধিকাংশ সময়ই তিনি ছিলেন সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে। ১৮৮৩ সালে জেনেভাতে শ্রমিক মুক্তি সংঘ গ্রুপ গঠন করেন। এই শ্রমিক মুক্তি সংঘ রুশ মার্কসবাদী আন্দোলন তথা রুশ সমাজ-গণতন্ত্রী আন্দোলনে ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। ১৮৯৫ সালে প্লেখানভ তার বিখ্যাত গ্রন্থ ইতিহাসের অদ্বৈতবাদী ব্যাখ্যা বিষয়ে আলোচনা (The Development of the Monist View of History) প্রকাশ করেন। লেনিন বলেন, রুশ দেশে মার্কসবাদীদের গোটা একটা জীবনকালকে শিক্ষিত করে তুলতে এই গ্রন্থটি প্রভূত সাহায্য করে। এছাড়া তিনি সমাজতন্ত্র ও রাজনৈতিক সংগ্রাম(Socialism and the Political Struggle, 1883), আমাদের মতবিরোধ ইত্যাদি গ্রন্থ রচনা করেন। এসব পুস্তক রচনা ছাড়া তিনি রুশ ভাষায় মার্কস ও এঙ্গেলসের কমিউনিস্ট পার্টির ইস্তেহার ১৮৮২ সনে অনুবাদ করেন, যার ভূমিকা লেখেন কার্ল মার্কস। তিনি ও তার সহকর্মী ভেরা জাসুলিচ (১৮৪৯-১৯১৯), আক্সেলরদ প্রমুখ মার্কস ও এঙ্গেলসের মজুরি শ্রম ও পুঁজি, বৈজ্ঞানিক ও কাল্পনিক সমাজতন্ত্র প্রভৃতি প্রখ্যাত গ্রন্থ অনুবাদ করেন। মার্কসের উদ্বৃত্ত মূল্যের তত্ত্ব গ্রন্থটি তিনি সম্পাদনা করেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ড রাশিয়ার মার্কসবাদী আন্দোলনের মূল তাত্ত্বিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। ১৯০০ সালে শ্রমিক মুক্তি সংঘের সহযোগিতায় প্লেখানভ, আক্সেলরদ, জাসুলিচ, পেত্রসভ, মার্তভ প্রমুখের বিশেষ উদ্যোগে লেনিন সারা রাশিয়ার প্রথম মার্কসবাদী পত্রিকা স্ফুলিঙ্গ বা ইস্ক্রা প্রকাশ করেন। এসব যাবতীয় কর্মকাণ্ডের অন্যতম পুরোধা ছিলেন প্লেখানভ। ১৯০৩ সালে রুশ সমাজ-গণতন্ত্রী শ্রমিক দল প্রতিষ্ঠিত হয়। দলে প্লেখানভ এবং তার অনুসারীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেন। কিন্তু লেনিনের মতের বিরুদ্ধে যাওয়ায় পার্টিতে মেনশেভিক ও বলশেভিক এই দুটি পরস্পর বিরোধী ধারা পোক্ত হতে থাকে যা পরবর্তীকালে মতাদর্শগত বিরোধে পরিণত হয়। তিনি ১৯০৫ সনে রাশিয়ার বিপ্লব প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেননি। এবং তারপর থেকেই নিজেকে দূরে সরিয়ে নেন। ১৯১২ সালের জানুয়ারি মাসে প্রাগে ঐ দলের ষষ্ঠ সারা রুশ পার্টি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এই কনফারেন্সে মেনশেভিকরা অর্থা প্লেখানভ ও তার দল পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হন। তার শিল্পকলা ও সমাজ জীবন (Art and Social Life; 1912–1913) এবং ইতিহাসে ব্যক্তির ভূমিকা গ্রন্থদ্বয়ে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে শিল্প সাহিত্যকে দেখার চমকার বিশ্লেষণ রয়েছে।[২]
মার্কসের তত্ত্বকে দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ নামে তিনিই প্রথম ভূষিত করেন। তিনিই সর্বজনীনভাবে দ্বন্দ্বনীতি ও বস্তুবাদকে কেবল সমাজ অর্থনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে সাহিত্য দর্শন ও বিজ্ঞানে সার্বিকভাবে প্রযোজ্য বলে তুলে ধরেন। তিনি বলেন রাশিয়াতে বিপ্লব হবে দুই স্তরে। সামন্তবাদ ও জারতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক বিপ্লব। এরপর পুঁজিবাদী পর্যায়ে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। দুটির ভিতর বিরাট ব্যবধান কিছু নাও থাকতে পারে। এই কাজে শ্রমিকদেরই এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তবে রাশিয়ায় শ্রমিক-সংখ্যা কম, চেতনায় তারা পিছিয়ে সুতরাং এই বিপ্লবে বুদ্ধিজীবী অংশের এগিয়ে আসতে হবে। তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় রাশিয়াতে ফিরে এসে যুদ্ধ সমর্থন করেন। অক্টোবর বিপ্লবকেও তিনি অপ্রস্তুত এবং অপরিণত বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে বিপর্যয় ডেকে আনবে। ইতিহাসে ব্যক্তির ভূমিকা গ্রন্থ ও অন্যান্য কাজের জন্য প্রশংসা জানালেও লেনিন কঠোরভাবে প্লেখানভের সমালোচনা করেন।[৩]

১৯১৮ সনের ৩০ মে তিনি ফিনল্যান্ডের তেরিজোকিতে নির্বাসিত অবস্থায় যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত হয়ে ৬১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে সেন্ট-পিটার্সবুর্গের ভল্কোভো সিমেট্রিতে সমাহিত করা হয়।   

তথ্যসূত্র ও টিকাঃ
১. Samuel H. Baron, Plekhanov: The Father of Russian Marxism. Stanford, CA: Stanford University Press, 1963; pg. 31.
২. আফজালুল বাসার; বিশ শতকের সাহিত্যতত্ত্ব; বাংলা একাডেমী, ঢাকা; ফেব্রুয়ারি, ২০০৩; পৃষ্ঠা- ৩০১-২।
৩. সমীরণ মজুমদার; মার্কসবাদ, বাস্তবে ও মননে; স্বপ্রকাশ, কলকাতা; ১ বৈশাখ, ১৪০২। পৃষ্ঠা- ১৬৩।  

Recommended