Wednesday, November 27, 2013

দুরে কোথাও সূর্য ডাকছে আমাদের



নৃত্যে ছন্দে মধুচন্দ্রিমাতে কেটেছে গতকাল,
আমার সামনে তুমি তারার আলোয় ভরাট
এক উজ্জ্বল দাবানল, ঘুরছো নিজের আঙিনায়,
আমি জানি গতকালের রাতই জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়
উৎসাহে আবেগে আমার শুদ্ধতাকে করেছি রচনা
সুন্দর প্রকৃতি দিয়েছিল সমগ্র উজাড় করে,
চাঁদহীন রাতে বিশুদ্ধ আকাশ ছিলো ধীর ভীরু পায়ে,
এমন রাতে আমি উদ্বেগহীন আবেগে কাটিয়েছি,
সারারাত তোমার সুগন্ধে ডুবসাঁতার,
দুইপারে উড়ে উড়ে উদভ্রান্ত কল্পনার ভরা নদী,
তোমার আবেশে সারারাত তন্দ্রাচ্ছন্ন নেশার ঘোর, মহাজগতে;

আমার ফুলগুলো উছলে উঠেছে হৃদয়ের গহবরে
উচ্ছল চঞ্চল আমি তোমার স্পর্শে পেয়েছি বিহ্বল জীবন,
মিলনের আহবানে আবাহন করেছি আমরা গতকাল,  
আরেক পৃথিবী জন্ম দেবে বলে দুরে কোথা ও সূর্য ডাকছে আমাদের ...

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৪, কুষ্টিয়া

প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি তোমায়, আসবো আবার



এসো, এসো কথা বলি নিরবে নিভৃতে
ছোট রোদ ডালে ডালে, কে আর জোরে কথা বলে,
শব্দ করো না কোনো, আমি তোমাকে ভাবছি,
বুকের ভেতরে টিপ, ঝড়ে বাজে শিশিরের গান,
শুনে শুনে কেটে যাবে দুইপারের কল্পলতা ঘ্রাণ;

কাউকে বলো না কিছু, কেউ যেন শোনে নাক কথা,
আমি নীল আকাশের পাখি, তুমি লাল আলোর ভুবন,
এই মৃত ব্যথা
জেগে থাক টর্চলাইট মুখে নিয়ে   
ভাসমান আউলানো ক্ষণ পাবো নাকো আর,
চলো উঠি নাগরদোলায়, তৈরি হোক প্রাণের বায়োযান;

আজকের দিনটি পাকুক আলো পূর্ণপ্রাণ
আমরা ঘুম চোখেই কাটাবো সারা নভোযান,
আবার বাজবে বাঁশি দুই হৃদয়ে
আবার জাগবে লাল স্মৃতি-নকশি কাঁথা
আবার পহেলা ফাগুন পলাশে-বরুণে,
আবার রক্তে আগুন বারুদে-কামানে,
আবার নতুন তুমি নতুন পাখনায়
জ্বলছে পুরানো খাতা, নতুন ভাবনায়
হৃদয়ে উড়ছে আজ অমোঘ ডানায়
ওখানেই থাকে সবার একমুখী পথ
সে পথেই যাবে আমার সমস্ত সম্পদ... ... ...

০৭ সেপ্টেম্বর, ২০০৪; ঢাকা

Saturday, November 23, 2013

কিষেনজীর শহীদি আত্মদান গণমানুষের মুক্তির সকল সংগ্রামে এক চিরঞ্জীব মাইলফলক



মাল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেনজি



মাল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও (২৬ নভেম্বর, ১৯৫৪ ২৪ নভেম্বর, ২০১১), সাধারণভাবে পরিচিত তাঁর কিষেনজি  ছদ্মনামে তিনি ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)র একজন পলিটব্যুরো এবং পার্টির কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সদস্য, এবং ছিলেন পার্টির সামরিক নেতাতাকে "ভারতে মাওবাদের মুখ"রূপে দেখা হয়।
তার জন্ম ১৯৫৬ সালে অন্ধ্রপ্রদেশ এর করিমনগর জেলায়১৯৮০ সালে এক স্কুল শিক্ষক কন্দাপালি সিথামাইয়াহ নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় পিপলস্ ওয়ার গ্রুপ” (PWG) এবং এটি গঠনের সময় অন্যতম সহযোগী ছিলেন কিষেনজী। এই সংগঠনটিই পরে ২০০৪ সালে মাওবাদী কমিউনিস্ট সেন্টার অফ ইন্ডিয়া’র সাথে একীভুত হয়ে গঠন করে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)
২০১০ সালের জানুয়ারিতে তিনি প্রচারমাধ্যমের কাছে ৮ পৃষ্ঠার লিখিত বিবৃতি ফ্যাক্স করেন এবং সেই লেখায় তিনি জ্যোতি বসুকে পশ্চিমবঙ্গের জংগল অধ্যুষিত জেলাগুলোতে “অনুন্নয়ন” এবং তার “ফলশ্রুতিতে অশান্তি”র জন্য দায়ী করেন। এমনকি তিনি বসু বাবুর সাম্যবাদ সম্পর্কিত বোধ নিয়েও প্রশ্ন করেন। তিনি লেখেন,
প্রধান অপরাধীটি হলেন জ্যোতি বসু। তিনি সারা দেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের এক নঞর্থক আদর্শ। আর এজন্যই বুর্জোয়া আর জমিদারদের কাছে তিনি এত প্রিয়। ... ... এজন্যই দেশের পুরো শাসকগোষ্ঠী তার অসুস্থতায় তার সাথে সাক্ষাত করতে হুমড়ি খায়। 
তিনি পশ্চিমবঙ্গে একটি মুক্ত এলাকা প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছি শিরোনামের এক সাক্ষাতকারে এক চরম ও পরম সত্য উচ্চারণ করেছিলেনতিনি সেখানে বলেন ভারত যে অন্ধকার গর্তে ঢুকছে “তার জন্য মনমোহন সিং, পি চিদাম্বরম ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মতো লোকরাই দায়ী”। 
কিষেনজী এক ঐতিহাসিক বিপ্লবীর নাম, যিনি ভারতের শ্রেণিসংগ্রামকে উঠিয়ে দিয়েছিলেন হিমালয়ের চূড়ায়। ২৪ নভেম্বর ২০১১ তারিখ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বুড়িশোল জঙ্গলে ঠাণ্ডা মাথায় তাঁকে হত্যা করে ভারতীয় ফ্যাসিস্ট দস্যুরা। এই মহান নেতাকে নিয়ে কবি ও গীতিকার কবীর সুমন লিখেছিলেন গান,  
কোটেশ্বর রাও রাও রাও
শাহাদাত বৃথা যায় না একটাও।।
ওরা মারবেই যাকে পাবে ওরা সামনে
ওরা ধরবেই যাকে পাবে ওরা একলা
ওরা পারবেই কিছু ক্ষয় ক্ষতি ঘটাতে
ওরা পারবেই মিছে কথা গুলো রটাতে।
প্রলেতারিয় একনায়কত্বের কথা শুনলে বাংলাদেশে যে-সময় ভুয়া-কমিউনিস্টদেহাঁটু কাঁপতে থাকত সেই সময় কিষেনজীর শহীদি আত্মদান গণমানুষের মুক্তির সকল লড়াই-সংগ্রামে এক চিরঞ্জীব মাইলফলক।
তথ্যসূত্র ও টিকাঃ   
. জ্যোতি বসু (১৯১৪-২০১০) ভারতের ফ্যাসিবাদী ডানপন্থী রাজনীতিক। তিনি সারা জীবন ফ্যাসিবাদী কংগ্রেসকে ক্ষমতায় রাখার জন্য প্রাণপাত করেন এবং কমিউনিস্ট ও শ্রমিকবিরোধী ভূমিকা পালন করেন।
. হিন্দুস্তান টাইমসের খবর; লিংক কিষেনজি বসুরে চটকাইলেন 
. কবীর সুমন (জন্ম ১৬ই মার্চ, ১৯৪৯ -) একজন ভারতীয় বাঙালি গায়ক, গীতিকার, অভিনেতা, বেতার সাংবাদিক, গদ্যকার ও সংসদ সদস্য। পুরো গানটি পড়ুন এই লিংক থেকে।

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের