Sunday, March 30, 2014

পাখির প্রতি অনুপ সাদির ভালোবাসা



পাখি রক্ষার জন্য প্রকাশিত বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের একটি পোস্টার
পাখির প্রতি আমার কেজো আগ্রহ জন্মেছিল ২০০৯ সালে। সেই আগ্রহটি জন্মেছিল সৌরভ মাহমুদের এক প্রতিবেদন পড়ে। সেবছর অক্টোবরে প্রথম আলোতে ছাপা হয় পদ্মার চরে বিরল বাংলা বাবুইপাখির বাসা শিরোনামের এক প্রতিবেদন। সেই প্রতিবেদনটি আমাকে তীব্রভাবে আলোড়িত করে। তাৎক্ষনিকভাবে প্রথম আলো থেকে সৌরভের ফোন নম্বর সংগ্রহ করি এবং তাঁর সাথে কথা বলি। অক্টোবরের ২৩ তারিখে তার সাথে সাক্ষাত ঘটে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে। ফলস্বরূপ আমার অনেক কাজের ভিতর পাখিদের বাঁচানোর কাজটিও ঢুকে পড়ে। আমি পাখি বিষয়ক বই কিনতে থাকি, বুনো পাখি বিক্রি-শিকার-হত্যা প্রতিরোধ করতে থাকি, বন্য পাখি উদ্ধার চালাতে থাকি, পাখি সংক্রান্ত কোনো কিছু জানার প্রয়োজন পড়লে শরীফ খান, ইনাম আল হক এবং সৌরভ মাহমুদকে ফোনে জ্বালাতন করতে থাকি।
প্রাণকাকলি ব্লগে আমার লেখা প্রকাশের একটি ঠিকানা তৈরি হলে ২০১২ সালের জানুয়ারি মাস থেকে প্রাণ ও প্রকৃতি বিষয়ক লেখা সেখানে অনবরত প্রকাশ করতে থাকি। সেই ধারাবাহিকতায় আমার ব্লগটিতে আগস্ট ২০১৪ পর্যন্ত ১৫০টি পাখির পরিবার ও গণের নামসহ সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা য়েছে। আমি বাংলাদেশের পাখিদের একটি তালিকাও সেখানে লিখে দিয়েছিলাম ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১২ তে। এই কাজটি আমি করেছিলাম পাখিদের বাঁচাতে পাখিদের প্রতি ভালোবাসা থেকেই। আমার ব্লগটিতে যেসব প্রাণের ছবি আছে সেগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন যেসব বন্ধুরা তাদের উল্লেখ না করলে অপরাধ হবে। শুরু থেকে ব্যবহার করেছি সৌরভ মাহমুদের তোলা বেশ কিছু আলোকচিত্র। এছাড়া ব্যবহার করেছি কিরণ খান, রেজাউল হাফিজ রাহী, Syed Tarik এবং Firoz Al Sabah-এর বেশ কিছু আলোকচিত্র। আমি আমার এই বন্ধুদের কাছে কৃতজ্ঞ শুধু তাদের চিত্রগুলোর জন্যই নয়, তারা প্রতিনিয়ত বন্যপ্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষার জন্য চেষ্টা করছেন সেই অসামান্য অবদানের জন্যও। আর পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণ বাঁচাতে একজন কর্মকর্তা প্রতিনিয়ত খেটে চলেছেন যার নাম Mollah Rezaul Karim. পাখি বাঁচাতে গিয়ে বন বিভাগের নানা অফিসে এতো সময় দিয়েছি যে সেই কষ্টের কথাগুলো অন্যত্র বলার জন্য তোলা রইলো। আপনারা যারা পাখি বাঁচাতে চেষ্টা করেন তাঁরা মোল্লা রেজাউল করিমকে নির্দ্বিধায় জ্বালাতন করবেন। আমার আশা তিনি সেই জ্বালাতন সানন্দে সহ্য করবেন।
পাখির প্রতি শৈশবে আগ্রহ জন্মিয়েছিলেন আমার মা, প্রকৃতিকেও ভালবাসতে শিখিয়েছিলেন তিনি;- যার কথা আপনাদের কোনোদিনই শোনাইনি। তাঁর কথা তোলা থাকলো অন্য কোনো সময়ের জন্য।
আমার বন্ধুরা আমার এই প্রকৃতিপ্রেম নিয়ে মাঝে মাঝে ঠাট্টাও করে। কিন্তু কী আর করা যাবে। তাঁদেরসহ সকল জনগণের উদ্দেশ্যে আমি বলে যাই, আমরা মানুষ জন্মাতে পারি, কিন্তু পাখি জন্ম দিতে পারি না। শুধুমাত্র পাখিরাই তাঁদের ছানা জন্ম দিতে পারে। তাই একটি প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেলে সেটি আর প্রকৃতিতে ফিরে আসবে না। 
উল্লেখ্য, আমি পাখিবিশারদ নই। পাখির প্রতি ভালোবাসা থেকেই এতো কিছু করা। আমার ব্লগের লেখাগুলোর বেশিরভাগ অংশই নেয়া হয়েছে এশিয়াটিক সোসাইটি প্রকাশিত বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের পাখি খণ্ড থেকে। বাংলাদেশের পাখির তালিকাটি পড়তে পারবেন এই লিংকটি থেকে এবং সেই লিঙ্কে গেলে আরো ১৫০ প্রজাতির আলাদা লিংকগুলো পাবেন। আপনাদের সহযোগিতা আমি সর্বদাই প্রত্যাশা করি।


আরো পড়ুনঃ

হায় মুসা ইব্রাহীম, হায় ধাপ্পাবাজি



বিধ্বস্ত রানা প্লাজার ভেতরে মুসা

তিকণ্ঠ আর আমিষুল লামার কল্যাণে প্রথমে মনে হয়েছিল মুসা ইব্রাহীম (জন্ম: ১৯৭৯) রবীন্দ্রনাথের চেয়েও বড় ও মহান। কিন্তু দিন যাইতে থাকিল আর মশার বুজরুকি ধরা পড়তে থাকিল। আমরা যারা কোনোদিন পাহাড় দেখি নাই তাদেরকে ঘোলা ছবি দেখাইয়া ঘোলা পানিতে মুসা প্রচুর মাছ শিকার করিলেন। আর রানা প্লাজা ধ্বসের পর উদ্ধারকারীদের মাঝে খাড়াইয়া হাসি মুখে পোজ মারা একখানা ফটো দেখাইয়া আমাদের কৃপানুভুতি পাইতে তিনি ব্যর্থ হইলেন।
মিছা ইব্রাহীমের গাছ লাগানোর ভণ্ডামো

আর আমি ১৯ জুলাই ২০১১ সালে, প্রথম আলো পত্রিকার সপ্তম পৃষ্ঠায় এক ফটো দেখিলাম, শ্রদ্ধাস্পদ দ্বিজেন শর্মা (জন্ম: ১৯২৯) গাছ লাগাইতেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আর মুসা গাছের গোড়ায় ঘোলা পানি ঢালিতেছে। পত্রিকা লিখা দিছে ১৬ কোটি মানুষের দেশে চার বছরে মুসা ১৬ কোটি গাছ লাগাইবেনআমি আপ্লুত হইয়া মুসা ইব্রাহীমের সাথে জীবনে একবার কথা কহিয়াই বুঝিলাম তিনি এখন ধাপ্পাবাজি করিয়া চলিতেছেন। ১৬টি গাছকে তিনি ১৬ কোটি বলিয়া চালাইয়া দিয়াছেন আজ প্রায় চার বছর হইয়া গেল মুসা গাছ লাগানোর কথা ভুলিয়া গিয়াছেন।

আর একদিন খবর বাহির হইল ‘সাগরতলের সাঁতারের পোশাক আর মাছের মতন কৃত্রিম পা পরে সাঁতারের প্রস্তুতি নিয়েও সাঁতার না দিয়ে ট্রলারে চড়ে গন্তব্যে পৌছালেন মুসা ইব্রাহীম। তার বিরুদ্ধে এভারেস্ট জালিয়াতির অভিযোগের ন্যায় বাংলা চ্যানেল জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে

জনগণের সাময়িক বেকুবিকে বাগে আনিয়া আপনি যাহা দেখাইলেন তাহা আমাদের স্মরণে থাকিবে বহুকাল। মীরজাফর হইতেও প্রচুর টাকা খরচ করিতে হয় তাহা ওইতিহাসিক মীরজাফর (১৬৯১-১৭৬৫) ও আপনি_ দুজনেই আমাদেরকে শিখাইলেন।

তথ্যসূত্র ও টিকা:
১. প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের (জন্ম: ১৯৪৬) নামানুসারে প্রথম আলোকে ব্যঙ্গ করে মতিকণ্ঠ বলা হয়। মতিউর রহমান মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী এক প্রতিক্রিয়াশীল কর্পোরেটের সেবাদাস।
২. আনিসুল হক (জন্ম: ১৯৬৫) একজন প্রতিক্রিয়াশীল মতিউর রহমানপন্থী সেবাদাস এবং প্রথম আলোর সহসম্পাদক। লীগ-বিএনপির রাজনীতিকে টিকিয়ে রাখার জনপ্রিয় দুই কাণ্ডারী মতিউর রহমান ও আনিসুল হক। শেষের জনকে ব্যঙ্গ করে আমিষুল লামা বলা হয়।
৩. দ্বিজেন শর্মা প্রকৃতিবিদ ও লেখক। মার্কসবাদী রাজনীতির প্রতি অনুরাগী এই মানুষটি বাংলা ভাষায় প্রকৃতিবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের ওপর বেশ কিছু বই লিখেছেন।
৪. মীরজাফর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী লর্ড ক্লাইভের সাথে ষড়যন্ত্র করে বাংলাকে পরাধীন করেন। মীরজাফর শব্দটি বাঙলায় এখন বিশ্বাসঘাতক ও প্রতারক ও ধাপ্পাবাজ অর্থে ব্যবহৃত।

Recommended