Thursday, January 31, 2013

সমাজতান্ত্রিক মানুষের স্বরূপ




সমাজতান্ত্রিক মানুষ
এরিখ ফ্রম সমাজতান্ত্রিক ধারার দার্শনিক লেখকএই দার্শনিক মানুষটি আগাগোড়াই জানতেন পুঁজিবাদ জানে কেবল মানুষের সামনে মিথ্যার আকর্ষণীয় পসরা সাজিয়ে মুনাফা লুটতেতিনি কার্ল মার্কসের ছাত্র হিসেবে পুঁজির অধীনতা থেকে মানুষের সর্বাঙ্গীন স্বাধীনতা ছেয়েছিলেন

এই মহান মানুষটির একটি উক্তি আমরা সর্বদাই মনে রাখিউক্তিটি হচ্ছে, মানুষ পরিস্থিতির তৈরি, তবে সেই পরিস্থিতিও মানুষের তৈরিএক অনন্য ক্ষমতা মানুষকে বাকি সব জীবন্ত জিনিস থেকে আলাদা করেছে; তা হলো নিজ আর নিজ পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন হওয়াতাই সেই সচেতনতা অনুযায়ী নিজেদের কাজ ঠিক না করলে মানুষ হওয়া যায় না

কার্ল মার্কস মানুষকে খুবই গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, মানুষ মানুষের কাছে সবচেয়ে সমুন্নত জীব।... উতখাত করো বর্তমানের এমন সকল সম্পর্ক যেখানে মানুষ হয়ে রয়েছে হেয়, দাসে পরিণত, বিস্মৃত ঘৃনিত জীব।

মানুষ সম্পর্কে মাও সেতুং-এর ধারণা ছিলো চমকারযেমন তিনি বলেছেন, দুনিয়ার সব জিনিসের মধ্যে মানুষই সবচেয়ে মূল্যবানকমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে যতদিন জনগণ থাকবেন ততদিন যে কোনো বিস্ময়কর ব্যাপার ঘটিয়ে দেয়া যাবে।... বিপ্লব সব কিছু পালটে দিতে পারে

চে গ্যেভারা মানুষ সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছেন, পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিটির সমস্ত সম্পদের চেয়েও ১০ লক্ষ গুণ অধিক মূল্যবান একজন মানুষের জীবন

সমাজতান্ত্রিক মানুষ পুঁজিবাদের ভেতর থেকে উদ্ভুত হলেও তারা মানুষ হিসেবে অবশ্যই নতুন মানুষ। তারা এমন মানুষ যাদেরকে মানব সভ্যতার ইতিহাসে অতীতে দেখা যায়নি। পুঁজিবাদ মানুষকে লোভি ও হিংস্র নেকড়েতে পরিণত করে। সমাজতান্ত্রিক মানুষের চিন্তা গড়ে উঠেছে ঠিক তার বিপরীত চিন্তাকে ধারণ করে।
ফিদেল ক্যাস্ত্রো গিয়ান্নি মিনার সাথে সাক্ষাতকারে বলেছিলেন সমাজতন্ত্রে মানুষ স্বদেশ এবং জাতীয় স্বাধীনতাকে তো ভালোবাসেই, সেই সাথে সমাজকেন্দ্রিক মূল্যবোধগুলোকে বিশেষ করে মানবিক সৌহার্দ্যকে উর্ধে তুলে ধরতে চায়।

তথ্যসুত্রঃ
১. এরিখ ফরম; Our Way of Life Makes us Miserable, 1964.
. মাও সেতুং; ইতিহাসের ভাববাদি ধারণার দেউলিয়াপনা থেকে; ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৯।
৩. ফিদেল ক্যস্ত্রো; ফিদেল ক্যস্ত্রোর মুখোমুখি, জাহানারা নূরী অনূদিত, শিখা প্রকাশনী, ঢাকা; পৃষ্ঠা, ১৩৮।

Wednesday, January 30, 2013

সুবিধাবাদ কী এবং কেন বর্জনীয়




সুবিধাবাদ বা Opportunism বলতে বোঝায় শ্রমিক শ্রেণির আন্দোলনে এমন তত্ত্ব প্রয়োগ, যা প্রলেতারিয়েতের যথার্থ স্বার্থের বিরোধি এবং বুর্জোয়ার সংগে শ্রমিক শ্রেণিকে একটা আপস-রফায় পৌঁছানোর প্ররোচনা যোগায়এটি মূলত বুর্জোয়া ও প্রলেতারিয়েতের পারস্পরিক সহযোগিতার নীতি এবং শ্রেণিসংগ্রাম বিরোধি। শ্রেণিগত সামাজিক চরিত্রের বিবেচনায় সুবিধাবাদ হলো পেটি-বুর্জোয়া ভাবাদর্শ কর্মনীতির একটা অভিব্যক্তি, আর তত্ত্বীয় বিবেচনায়, কখনো সংশোধনবাদ, কখনওবা অন্ধবিশ্বাস
রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে আত্মসেবা করার প্রবণতাকেই সুবিধাবাদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যখন ব্যক্তি নিজেরটাকে ভাল বোঝে এবং অন্যের প্রয়োজনকে উপলব্ধি করতে পারে না তখনই বিচ্ছিন্নতা বাড়ে এবং সুবিধাবাদিতা বাড়ে। পুঁজিবাদী বাজারের কর্মকাণ্ড সব কিছুতেই নানাভাবে সুবিধাবাদকে জাগিয়ে তোলে। 
শ্রেণিযুদ্ধ ও ন্যায়যুদ্ধ চললেই জনে জনে যোদ্ধা আসে, শ্রেণিযুদ্ধ ও ন্যায়যুদ্ধ না চললে খাসি হওয়া সংস্কৃতিবান মধ্যবিত্তই আসবেযারা যুদ্ধের নেতা সেজে যুদ্ধের প্রহসন দেখাচ্ছেন, দোষটা তাদেরই। একেই বলা হয় লাল ঝাণ্ডা দিয়া লাল ঝাণ্ডা ঠেকানো আপাতত নেতাদের প্রতারণা সরানোটাও একটা রাজনীতি, আর এইজন্যই সুবিধাবাদ সম্পর্কে লেনিন-স্তালিন-মাওসেতুং কী বলেছিলেন সেই উদ্ধৃতিগুলো জানা প্রয়োজন।
ভি. আই. লেনিনের মতে
সুবিধাবাদের অর্থ হলো সাময়িক ও আংশিক সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে মৌলিক স্বার্থগুলি বিসর্জন দেয়া।[১]  
ভি. আই. লেনিন সুবিধাবাদ সম্পর্কে আরো লিখেছেন, 
আমরা যখন সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার কথা বলি তখন প্রত্যেকটি পরিক্ষেত্রে সমগ্র বর্তমানকালীন সুবিধাবাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ, যেমন, তার অস্পষ্টতা, বিক্ষিপ্ততা, কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার বৈশিষ্ট্যগুলোকে আমাদের কখনোই ভুলে গেলে চলবে না। একজন সুবিধাবাদি, খোদ তার স্বভাব প্রকৃতি অনুযায়ীই, সবসময় একটি বিষয়কে সুস্পষ্টভাবে ও নিশ্চিতরূপে সুত্রায়িত করাটা কৌশলে এড়িয়ে যায়, সে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে চায়, দুটি পারস্পরিকভাবেই স্বতন্ত্র মতামতের মধ্যে সে সাপের মতোই মোচড়ে মোচড়ে চলে, উভয় মতের সাথে একমত হওয়ার চেষ্টা করে এবং তুচ্ছ সংশোধনী উপস্থাপনা, সংশয় প্রকাশ, নিরপেক্ষতা অবলম্বন এবং সহজ সরল পরামর্শ প্রদান, ইত্যাদি ইত্যাদির মধ্যে তার মত- পার্থক্যকে নামিয়ে আনে।[২]       
ভি. আই. লেনিনের এই কয়েকটি কথা সম্পর্কে জে. ভি. স্তালিন লিখেছেন,   
একজন সুবিধাবাদির ছবি এখানে পরিস্ফুট, যে সুস্পষ্টতা ও সুনিশ্চয় হওয়াকে ভয় করে এবং যে প্রকৃত অবস্থাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার, পার্টির মধ্যে প্রকৃত মত-পার্থক্যকে উপেক্ষা করে যাওয়ার চেষ্টা করে।[৩]   
এছাড়া সুবিধাবাদের কর্মনীতি সম্পর্কে জে. ভি. স্তালিন লিখেছেন,   
যথার্থভাবে মতানৈক্যকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া, পার্টির অভ্যন্তরীণ প্রকৃত পরিস্থিতিকে ঢাকা দিয়ে রাখা, স্বীয় অবস্থানকে পর্দাবৃত করে রাখা এবং পার্টির পক্ষে পরিপূর্ণ স্পষ্টতা অর্জন অসম্ভব করে তোলার প্রয়াসই হলো সুবিধবাদের কর্মনীতি।[৪]     
সুবিধাবাদ সম্পর্কে বলতে গিয়ে মাও সেতুং আরও বলেছেন,  
“শত্রুদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার জন্য দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতায় আমরা এই ধারণায় উপনীত হয়েছি যে, রণনীতির দিক থেকে সমস্ত শত্রুকে আমাদের তুচ্ছ করে দেখতে হবে, যুদ্ধকৌশলের দিক থেকে তাদেরকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবেঅর্থাৎ সামগ্রিকভাবে শত্রুদেরকে অবশ্যই আমাদের তুচ্ছ করে দেখতে হবে, কিন্তু এক একটা বিশেষ প্রশ্নে তাদেরকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। যদি আমরা সামগ্রিকভাবে শত্রুদেরকে তুচ্ছ করে না দেখি, তাহলে আমরা সুবিধাবাদের ভুল করবোমার্কস, এংগেলস যখন কেবল দুজনমাত্র ছিলেন, তখনই তারা ঘোষণা করেছিলেন যে, সমগ্র পৃথিবীতে পুঁজিবাদের উচ্ছেদ হবেইকিন্তু বিশেষ বিশেষ প্রশ্নে, এক একটা প্রশ্নে, যদি আমরা গুরুত্ব দিয়ে তাদের না দেখি, তাহলে আমরা হঠকারিতাবাদের ভুল করবো[৫]  
তবে সুবিধাবাদ কোনো ব্যক্তির আকস্মিক অধপতন বা পাপ বা বিশ্বাসঘাতকতা নয়। সুবিধাবাদ ক্ষুদে-বুর্জোয়া অরথনিতির ফল। লেনিন এ-সম্পর্কে বলেছেন;
“সুবিধাবাদ কোনো ব্যক্তিবিশেষদের ক্ষেত্রে দৈবাৎ ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা, কোনো পাপকর্ম, পদস্খলন কিংবা বিশ্বাসঘাতকতার ব্যাপার নয়, একটা গোটা ঐতিহাসিক কালপর্বের সামাজিক সৃষ্টি এটা।”[৬]   
সামগ্রিকভাবে রক্ষণশীল, প্রতিক্রিয়াশীল ও মৌলবাদিদেরকে তুচ্ছ করে না দেখার ফলেই বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ২০০৪ সালের পর ভয় পেয়ে আওয়ামি সুবিধাবাদি নৌকায় উঠেছিলো, আওয়ামি লিগকে সহযোগিতার নীতি গ্রহণ করে সংশোধনবাদকে পার্টির লাইন হিসেবে গ্রহণ করেছিলো।
সুবিধাবাদি আর সংস্কারবাদিদের পাকাপোক্ত স্থান পার্টিতে থাকলে কোনো শ্রমিক শ্রেণির পার্টি বিকশিত হতে পারে না। এ বিষয়ে স্তালিনের মতটি হলও,
নিজেদের মধ্য থেকে সুবিধাবাদি এবং সংস্কারবাদিদের, সমাজতন্ত্রের ধ্বজাধারি সাম্রাজ্যবাদী আর জঙ্গি জাতিয়তাবাদিদের, ভণ্ড দেশপ্রেমের ধ্বজাধারি আর শ্রেণি-শান্তিকামিদের দূর করে দিয়েই শ্রমিকশ্রেণির পার্টিগুলি বিকাশ লাভ করে, শক্তিশালি হয়ে উঠেসুবিধাবাদিদের বিতাড়ন করেই পার্টি শক্তিশালী হয়[৭]
দক্ষিণপন্থী সুবিধাবাদঃ দক্ষিণপন্থী সুবিধাবাদ হলও কতিপয় তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশলগত নীতির সমষ্টি যা স্বতস্ফূর্ত শ্রমিক আন্দোলনের পক্ষপাতি এবং পুঁজিবাদের ক্রমশ সমাজতন্ত্রে রূপান্তরের একটি সংশোধনবাদি প্রবণতা। দক্ষিণপন্থী সুবিধাবাদ মূলত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ও শ্রমিক শ্রেণি দ্বারা ক্ষমতা দখলকে প্রত্যাখ্যান করে।
মাও সেতুং দক্ষিণপন্থী সুবিধাবাদ সম্পর্কে লিখেছেন,  
প্রায়ই দেখা যায়, চিন্তা বাস্তবের পিছনে পড়ে আছে, এর কারণ মানুষের জ্ঞান বহু রকম সামাজিক অবস্থার দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকেবিপ্লবী বাহিনীর মধ্যে আমরা গোঁড়াদের বিরোধি, তাদের চিন্তা পরিবর্তনশীল বাস্তব পরিস্থিতির সংগে সংগে এগিয়ে যেতে পারে না এবং ঐতিহাসিকভাবেই দক্ষিণপন্থী সুবিধাবাদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে[৮]
বামপন্থী সুবিধাবাদঃ বামপন্থী সুবিধাবাদ হলও কতগুলি অতিবিপ্লবি ও হঠকারি নীতির সংমিশ্রণ; এবং এটির ভিত্তি হচ্ছে বৈপ্লবিক বলপ্রয়োগ-এর সর্বশক্তিমত্তা সম্পর্কে স্বতপ্রবৃত্ত ধারনা। বামপন্থী সুবিধাবাদ সামাজিক বিকাশের পর্যায়সমূহ অস্বীকার করে এবং শ্রমিক আন্দোলনকে রাজনৈতিক হঠকারিতা ও অনর্থক ক্ষয়ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়। 
সুবিধাবাদের সাথে নৈরাজ্যবাদের সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে লেনিন লিখেছেন,
নৈরাজ্যবাদ হলো প্রায়শই শ্রমিক আন্দোলনের সুবিধবাদি পাপের এক ধরনের দণ্ড।[৯]

তথ্যসূত্র:
১. আর-সি-পি(বি)-এর মস্কো সংগঠনের অ্যাক্টিভিস্টদের সভায় প্রদত্ত বক্তৃতা, ৩১ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১২
২. ভি. আই. লেনিন; এক পা আগে দুই পা পিছে, ফেব্রুয়ারি-মে ১৯০৪।
৩. জে. ভি. স্তালিন; সি.পি.এস.ইউ.(বি.)তে দক্ষিণ বিচ্যুতি; এপ্রিল, ১৯২৯।
৪. জে. ভি. স্তালিন; সি.পি.এস.ইউ.(বি.)তে দক্ষিণ বিচ্যুতি; এপ্রিল, ১৯২৯।
৫. বিভিন্ন দেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও শ্রমিক পার্টির মস্কো সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণ; ১৮ নভেম্বর, ১৯৫৭
৬. ভি. আই. লেনিন; দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের অবসান; প্রগতি প্রকাশন, মস্কো-১৯৭৬; পৃষ্ঠা-৫৬।
৭. জে. ভি. স্তালিন; লেনিনবাদের ভিত্তি ও সমস্যা; এনবিএ, কলকাতা, চতুর্থ মুদ্রণ, সেপ্টেম্বর ২০০৮; পৃষ্ঠা ৭৬।
৮. মাও সেতুং; অনুশীলন সম্পর্কে; নির্বাচিত রচনাবলী, প্রথম খন্ড; চলন্তিকা বই ঘর; ঢাকা, পৃষ্ঠা ৩০১।
৯. ভি. আই. লেনিন; কমিউনিজমে বামপন্থার শিশুরোগ

Monday, January 28, 2013

কালো ভাল্লুক, Asiatic/Tibetan Black Bear, Ursus thibetanus.



বাংলা নামঃ কালো ভাল্লুক,  
ইংরেজি নাম/Common Name: Asiatic/Tibetan Black Bear,
বৈজ্ঞানিক নাম/Scientific Name: Ursus thibetanus,
সমনামঃ Ursus torquatus, helarctos tibetanus.  

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগ/রাজ্যKingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Mammalia
বর্গ/Order: Caniformia,
পরিবার/Family: Ursidae,
গণ/Genus: Ursus, Linnaeus, 1758;
প্রজাতি/Species: Ursus thibetanus, (Cuvier, 1823)
বর্ণনাঃ বাংলাদেশের স্তন্যপায়ীদের মধ্যে ভাল্লুক ছিলো তিন প্রজাতির। মাঝারী লোমের কালো কুচকুচে মসৃণ দেহ। মজবুত শরীর। বুকে সাদা লোমের উপর V কিংবা অর্ধচন্দ্রাকার আকৃতির চিহ্ন স্পষ্ট দেখা যায়। কান অন্য ভাল্লুকের তুলনায় বড়। নিচের ঠোঁট সাদাটে। দেহের আকার মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত ১২০ থেকে ১৯৫ সেমি। কাঁধের উচ্চতা ৭০ থেকে ১০০ সেমি। লেজ খুব ছোট ১১ সেমি। পুরুষের ওজন ৫০ থেকে ২০০ কেজি এবং স্ত্রী ভাল্লুকের ওজন ৪০ থেকে ১২৫ কেজি।
স্বভাবঃ বন্দী অবস্থায় ৩০ বছর পর্যন্ত বাঁচার তথ্য আছে। কালো ভাল্লুক দিন রাত সমান সক্রিয়। এরা জঙ্গলাকীর্ণ পাহাড়ি বনে, সমতল বনে থাকতে পারে। কালো ভাল্লুক পাহাড়ে এবং গাছে উঠতে দক্ষ। এরা একা থাকে। কালো ভাল্লুক বিভিন্ন কীটপতঙ্গ, ফলমূল, মধু খায়কালো ভাল্লুক সাধারণত মানুষকে খাবারের উদ্দেশে আক্রমণ করে না। ভয়-পেয়ে বা নিজের বা বাচ্চার নিরাপত্তার কারণে মানুষকে আক্রমণ করে থাকে। এরা লোকালয়ে আসেনা, গভীর বনে থাকতে পছন্দ করে।
বিস্তৃতিঃ কালো ভাল্লুক বাংলাদেশের সিলেট ও চট্টগ্রামের বনাঞ্চলে পাওয়া যায়। বৈশ্বিকভাবে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত, চিন সহ এশিয়ার অধিকাংশ বনাঞ্চলে পাওয়া যায়।   
অবস্থাঃ কালো ভাল্লুক বাংলাদেশে মহাবিপন্ন এবং বিশ্বে সংকটাপন্ন। ১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণি আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
বিবিধঃ বাসস্থান ধ্বংস, চামড়া, লোম, পিত্তথলি, দাঁত, নখের জন্য শিকারের ফলে কালো ভাল্লুক বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্তির দারপ্রান্তে। দ্রুত এদের সংরক্ষণে পদক্ষেপ না নিলে বাংলাদেশ থেকে চির বিদায় নিবে সুন্দর এই প্রাণীটি।

Recommended