Thursday, March 28, 2013

উৎপল দত্ত বাংলার এক মহান নাট্যকার



উৎপল দত্ত
পল দত্ত (মার্চ ২৯, ১৯২৯- আগস্ট ১৯, ১৯৯৩) একজন বাঙালি অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক লেখকরাজনৈতিক দর্শনের দিক থেকে তিনি ছিলেন বামপন্থী মার্কসবাদীআধুনিক ভারতীয় থিয়েটারের ইতিহাসে অভিনেতা, নাট্যনির্দেশক নাট্যকার  হিসেবে তার স্থান সুনির্দিষ্ট
তাঁর জন্ম বাংলাদেশের বরিশালে। পিতা গিরিজারঞ্জন দত্ত ও মাতা শৈলবালা দত্ত। তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ইংরেজি বিষয়ে পড়াশোনা করেন এবং তখন থেকেই শেকপিয়ারের নাটকের অভিনয়ের নাট্যচর্চার সুত্রপাত। জেফরি কেনডাল-এর শেকসপিয়ারানা সম্প্রদায়ের সংগে ভারত পর্যটনে বিভিন্ন পরিবেশে বিভিন্ন রকমের দর্শক সমাবেশে ধ্রুপদি নাটক পরিবেশন করেন। ১৯৪৭ সালে লিটল থিয়েটার গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করে শেকসপিয়ার, বার্নাড শ, ক্লিফর্ড ওডেটস প্রমুখের নাটক ইংরেজিতে প্রযোজনা করতে করতেই সীমিত দর্শক সমাজের সীমাবদ্ধতায় বিব্রত হয়ে লিটল থিয়েটার গ্রুপ (এলটিজি)-কে বাংলা প্রযোজনার দিকে পরিচালিত করেন। সংগে সংগেই বৃহত্তর দর্শক সমাজের কাছে পৌঁছবার আত্যন্তিক আগ্রহে গণনাট্য সংঘে ও রাজনৈতিক পথ-নাটিকার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করেন। ১৯৫৯ সালে লিটল থিয়েটার গ্রুপ কর্তৃক মিনার্ভা থিয়েটার অধিগ্রহণ ও নিয়মিত নাট্যাভিনয়ের কর্মসূচি গ্রহণ এবং তার পরিচালনায় তারই লেখা অঙ্গার, ফেরারি ফৌজ, কল্লোল প্রভৃতি নাটকে রাজনৈতিক বোধ, আঙ্গিক প্রয়োগ নাটক ও নাট্যাভিনয়ের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তাঁকে গ্রুপ থিয়েটার অঙ্গনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের অন্যতম হিসাবে ণ্য করা হয়।
১৯৭১ সালে পিপলস লিটল থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করে টিনের তলোয়ার নাটক তার একটি বড় পদক্ষেপ। কৌতুক অভিনেতা হিসাবেও তাঁর খ্যাতি রয়েছে। তিনি কৌতুক চলচ্চিত্র গুড্ডি, গোলমাল ও শৌখিনে অভিনয় করেছেন। তিনি সত্যজি রায়ের পরিচালনায় হীরক রাজার দেশে, জয় বাবা ফেলুনাথ এবং আগন্তুক সিনেমায় অভিনয় করেছেন ।
পল দত্তের বিখ্যাত নাটকের মধ্যে রয়েছে টিনের তলোয়ার, মানুষের অধিকার, মেঘ, রাইফেল, সীমান্ত, ঘুম নেই, মে দিবস, দ্বীপ, রাতের অতিথি, মধুচক্র, কল্লোল, সমাজতান্ত্রিক চাল, সমাধান ইত্যাদি। উপল দত্তের রাজনৈতিক নাটকগুলোর মধ্যে আবার পাওয়া যায় শ্রেণিচেতনা, ইতিহাস চেতনা ও মধ্যবিত্ত চেতনা। টিনের তলোয়ার, রাতের অতিথি, ছায়ানট, সূর্যশিকার, মানুষের অধিকারপ্রভৃতি নাটকে যেমন পাওয়া যায় শ্রেণি সচেতনতা, তেমনি টোটা, লাল দুর্গ, তিতুমীর, কল্লোল, দিল্লী চলো, ক্রুশবিদ্ধ কুবাপ্রভৃতি নাটকের ইতিহাস চেতনা,অঙ্গার’, ‘ফেরারী ফৌজপ্রভৃতি নাটকের মধ্যবিত্ত চেতনা তাঁর নাটককে দেয় ভিন্নমাত্রা।
নিজের সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন - আমি শিল্পী নই। নাট্যকার বা অন্য যে কোনো আখ্যা লোকে আমাকে দিতে পারে। তবে আমি মনে করি আমি প্রপাগাণ্ডিস্ট। এটাই আমার মূল পরিচয়।

পল দত্ত পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্র সম্পর্কে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি পুঁজিবাদি মানুষ ও পুঁজিবাদ সম্পর্কে বলেছেন, মানুষ সম্পর্কে তাঁর গভীরতম ধারনা তাঁর নাটকগুলোকে সফল করেছে। তাঁর মানুষ সংক্রান্ত চেতনা শ্রেণিসমাজের বাস্তব চেতনাকে ধারন করেই। শেকসপিয়ারের সমাজ চেতনা গ্রন্থে তিনি দাস-সামন্ত-পুঁজিবাদী সমাজের মানুষের বিশ্লেষণ হাজির করেছেন যা পাঠকদেরকে বাস্তব মানুষ বুঝতে সাহায্য করে।
নিজেকে নিয়ে মেতে আছে বলেই পুঁজিবাদি সমাজে মানুষ আর মনুষ্যপদবাচ্য থাকে না; তার মনুষ্যত্বই হয়ে যায় পঙ্গু বিকৃত[]
নির্ভেজাল ভোগবৃত্তির উপাসনাই আজ পুঁজিবাদের একমাত্র ধর্ম।[২]  

উনিশ শতকের বঙ্গীয় রেনেসাঁসেরও এক বিশ্লেষক। উনিশ শতকের বঙ্গীয় সামন্তশ্রেণির বিরুদ্ধে মধুসূদনের বিদ্রোহকে তিনি মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেছেন, মধুসূদন শেষ পর্যন্ত উনিশ শতকের ঘুণধরা ও বিকলাঙ্গ সমাজের বিরুদ্ধে মূর্তিমান বিদ্রোহ।[৩] 
১৯৯৩ খ্রীস্টাব্দের ১৯শে আগস্ট তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন

তথ্যসূত্র ও টিকাঃ
১. উপল দত্ত; প্রতিবিপ্লব; এম সি সরকার এন্ড সন্স প্রা. লি.; কলকাতা; দ্বিতীয় সংস্করণ; ভাদ্র ১৪০০; পৃষ্ঠা-১৪।
২. পল দত্ত; প্রতিবিপ্লব; এম সি সরকার এন্ড সন্স প্রা. লি.; কলকাতা; দ্বিতীয় সংস্করণ; ভাদ্র ১৪০০; পৃষ্ঠা-১
৩. অরূপ মুখোপাধ্যায়, উপল দত্ত জীবন ও সৃষ্টি; ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট, ইণ্ডিয়া; প্রথম প্রকাশ ২০১০; পৃষ্ঠা ২৪৭।

Friday, March 22, 2013

আফ্রিকান সাহিত্য জগতের খ্যাতিমান পুরুষ চিনুয়া আচেবে



চিনুয়া আচেবে



আফ্রিকান সাহিত্য জগতের খ্যাতিমান পুরুষ, নাইজেরিয়ার সাহিত্যিক আইকন, কয়েকটি উপন্যাসের লেখক চিনুয়া আচেবে (১৬.১১.১৯৩০-২২.০৩.২০১৩) ১৯৩০ সালে নাইজেরিয়াতে জন্মগ্রহণ করেছিলেনইজেরিয়ার ইবাদান বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষা সাহিত্যে শিক্ষা সমাপ্তির পর নাইজেরিয়ান বেতারে কর্মজীবন শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে তার লেখালেখি শুরু হয়। ১৯৬৭ সালে তিনি নিজেই একটি প্রকাশনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন তাঁর সংগে নাইজেরিয়ার একজন বিশিষ্ট কবিও যোগ দিয়েছিলেনগৃহযুদ্ধকালে আচেবে দেশ ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত থাকেনপরবর্তীকালে ১৯৭৩ সালে নাইজেরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষার অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন১৯৯০ সালে গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে আসছিলেন চিনুয়াএরপর তিনি প্রায় ২০ বছরের বেশি সময় কোনো বই লেখেননিতার পরবর্তী বছরগুলো বেশিরভাগই কেটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করে২০১৩ সাল২২ মার্চ এক বর্ণাঢ্য প্রতিবাদি জীবন শেষে তিনি মারা গেলেন
১৯৫৮ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস থিংস ফল অ্যাপার্ট-এর সুবাদে ব্যাপক পরিচিত লাভ করেন আচেবেউপন্যাসটি অনুবাদ হয়েছে ৫০টিরও বেশি ভাষায় তাছাড়া, বিশ্বজুড়ে উপন্যাসটি প্রায় কোটি কপি বিক্রি হয়তার আরেকটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস অ্যান্টহিলস অফ দি সাভানাপ্রকাশিহয় ১৯৮৮ সালে
থিংস ফল অ্যাপার্ট উপন্যাসের জন্য ২০০৭ সালে বুকার পুরস্কার লাভ করেন চিনুয়া আচেবে। চিনুয়া ২০টিরও বেশি লেখা লিখেছেন। এর মধ্যে কয়েকটি লেখায় তিনি রাজনীতিবিদ এবং নাইজেরিয়ার নেতাদের নেতৃত্বেব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা প্রকাশ করেছেন।
তার বইগুলোতে দেশটির ঔপনেবেশিক সময়ে ইবো সমাজের ঐতিহ্য, দেশটির সংস্কৃতিতে খৃস্টানদের আগ্রাসন এবং আফ্রিকা ও পশ্চিমাদের মধ্যকার প্রথাগত দ্বন্দ্বের বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে উঠে এসেছে। এছাড়াও তিনি অনেক ছ্টেগল্প, শিশু সাহিত্য এবং প্রবন্ধও রচনা করেছেন।
আচেবে শুধুমাত্র সাহিত্য অথবা রাজনীতির মানুষ ন, তিনি শুধুমাত্র আফ্রিকার মানুষের কন্ঠস্বর ন। তিনি গোটা বিশ্বে পুঁজিবাদী, সাম্রাজ্যবাদী কায়েমী শক্তির বিপক্ষে যুদ্ধবন্দী, দারিদ্রপীড়িত, শোষিত মানুষের প্রাণের আত্মীয়। তিনি কলম দিয়ে বলেছেন শোষিত মানুষের মুক্তির কথা।
চিনুয়া আচেবের লেখা কারাগারের দেয়ালও ভেঙে দেয়-বলে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা বর্বরখেতাব পাওয়া আফ্রিকার ভূমিহীন দেশহীন মানুষগুলোর কথা বলার এই লেখক অজস্র নিপীড়িত মানুষের অনুপ্রেরণার উস।
লেখক হিসাবে চিনুয়া আচেবি আফ্রিকা এবং পশ্চিমের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসাবে কাজ করেছিলেন।তার কাজকে মানদণ্ড ধরেই প্রজন্মান্তরে আফ্রিকান লেখকদের কাজের মূল্যায়ন হয়ে আসছে। আচেবে বেঁচে না থাকলে ও কোটি কোটি মানুষের কাছে আজীবন প্রেরনার উস হয়ে বেঁচে থাকবে তার থিংক ফল অ্যাপার্ট’, ‘গড অব অ্যারোর মত অসংখ্য রচনা।
তাঁর একটি ইংরেজি সাক্ষাতকার পড়ুন এখান থেকে এছাড়া আপনারা চিনুয়া আচেবের একটি বাংলায় অনূদিত সাক্ষাতকার পড়ুন এই লিংক থেকেঃ আপনি যা হারিয়েছেন তা ফিরে পেতে ইংরেজি একটি শক্তিশালী অস্ত্র


Wednesday, March 13, 2013

কালামাথা বেনেবউ বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি



কালামাথা বেনেবউ, Photo: Kiron Khan
বাংলা নাম: কালামাথা বেনেবউ,
বৈজ্ঞানিক নাম/Scientific Name: Oriolus xanthornus (Linnaeus, 1758)
সমনাম: Coracias xanthornus (Linnaeus, 1758) 
ইংরেজি নাম/Common Name: Black-hooded Oriole.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Corvidae
গণ/Genus: Oriolus, Linnaeus, 1766;
প্রজাতি/Species: Oriolus xanthornus (Linnaeus, 1758)
ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকাOriolus এই গণে পৃথিবীতে  ২৭ প্রজাতির পাখি রয়েছে। বাংলাদেশে রয়েছে তার ৫টি প্রাজাতি। সেগুলো হলো আমাদের আলোচ্য ১. কালামাথা বেনেবউ, ২. কালাঘাড় বেনেবউ, ৩. ইউরেশীয় সোনাবউ, ৪. সরুঠোঁট বেনেবউ, ও অন্যটি ৫. তামারঙ বেনেবউ। আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে কালামাথা বেনেবউ
বর্ণনা: কালামাথা বেনেবউ কমলা রঙের ঠোঁট ও গাঢ় লাল ঠোঁটের উজ্জ্বল সোনালি হলুদমাথা কালো, সারা শরীর হলুদ, এবং কিছু পালক কালো। ঠোঁটটি তার হাল্কা লাল। মেয়ে পাখি ছেলে পাখি দেখতে প্রায় একই রকম।
স্বভাব: চঞ্চল পাখি কালামাথা বেনেবউবসন্তের শেষদিকে প্রজনন সময়, ডিম দেয় এক সাথে দুই থেকে চারটি।
বিস্তৃতি: কালামাথা বেনেবউ বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি। সব বিভাগের বনে, গ্রামাঞ্চলে, বনে বাদাড়ে সহ বাড়ির আসে পাশে পাওয়া যায়।
অবস্থা: ২০০৯ সালে এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশ উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষে এটিকে বাংলাদেশে ও বিশ্বে বিপদমুক্ত পাখি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৪. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের