বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৯, ২০২২

বাংলাদেশে অন্য জাতিসমূহের উপর বাঙালিদের নিপীড়ন

 

পলাতক বম গ্রামবাসী, ১ ডিসেম্বর ২০২২

বাংলাদেশে অন্য জাতিসমূহের উপর বাঙালিদের নিপীড়ন একটি নিয়মিত এবং সাধারণ ঘটনা। এক্ষেত্রে সরকারে থাকা সবগুলো সংগঠনই নানাভাবে অন্য জাতি সত্ত্বার লোকদের উপর নিপীড়ন এবং গণহত্যা চালিয়েছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের ক্ষমতাসীনরা পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনা বিচারের আওতায় না এনে উলটো বিভিন্ন সময় দমনপীড়নকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেছে। বিশেষত ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধি কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে জনসংহতি সমিতির নেতাকর্মী ও সাধারণ পাহাড়িদের দীর্ঘদিন বিনা বিচারে আটকে রাখা হয়েছিল।
.
এই আইন থাকার পরেও ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান পার্লামেন্টে 'অস্থিতিশীল অঞ্চল বিল' উত্থাপন করেন। এই বিলে অস্থিতিশীল অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত এলাকার পুলিশ, তৎকালীন বিডিআর ও সেনবাহিনীর নিম্নপদস্থ সদস্যদেরও যে কাউকে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত থাকার সন্দেহেগ্রেফতার কিংবা গুলি করার ক্ষমতা দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। এমনকি এই বিলের কার্যবিধি ও ক্ষমতাকে কোন বিচার বিভাগীয় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করার সুযোগও ছিল না। পার্লামেন্টে এই বিল উত্থাপনে সেনাবাহিনীর তৎপরতা উদ্ধত গতি নিয়েছিল। তৎকালীন পার্লামেন্ট সদস্য উপেন্দ্রলাল ত্রিপুরা এই বিলকে পার্বত্য সমস্যার গণহত্যামূলক সমাধান আখ্যায়িত করেছিলেন। শেষাবধি প্রবল বিরোধিতার মুখে বিলটি পার্লামেন্টে গৃহীত হয় নি।
.
১৯৯২ সালের সন্ত্রাস দমন আইন (CTAA) পার্বত্য চট্টগ্রামে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও বিচার বহির্ভূত কার্যক্রমকে আরো সম্প্রসারিত করে। CHT কমিশনের রিপোর্ট মতে, এই আইনটি প্রনয়ণের দেড় বছরের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে এই আইনের আওতায় ২০০ এর অধিক মামলার বিচারকার্য চালানো হয়েছে। যার অধিকাংশই জনসংহতি সমিতি ও তার অঙ্গসংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছিল। এই আইনের সর্বনিম্ন সাজা ৫ বছরের কারাদন্ড ও সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসি ছিল। ১৯৯৫ সালে সরকার আইনটি বাতিল করে।
.
এসব ঘটনা থেকে পার্বত্য সমস্যার সমাধান বিষয়ে শাসকগোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গী পরিষ্কার হয়ে উঠেস্পষ্টতই একটা বৃহত জনগোষ্ঠির আত্মনিয়ন্ত্রণের (Right of Self-Determination) অধিকার তথা সর্বোচ্চ রাজনৈতিক অধিকার প্রশ্নে একটি পশ্চাৎপদ, দমনপীড়নমূলক এবং বিধ্বংসী সামরিক সমাধান খোঁজার দিকেই সবকটি সরকারের নজর ছিল। এ এক অভূতপূর্ব রাষ্ট্রীয় পাপ। কেননা মাত্র আগের দশকেই পাকিস্তান রাষ্ট্রটি বাঙ্গালি জাতির উপর সর্বোচ্চ মানবিক বিপর্যয় আরোপ করে এই প্রকারের ভুলেরই মাশুল দিয়েছিল এবং সেই ঘটনায় নিপীড়িত স্বয়ং বাঙ্গালি জাতিই সেই একই দমনপীড়ন শুরু করেছিল পাহাড়ের অধিবাসীদের উপর। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধ থেকে কোনো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের শিক্ষা না নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী চিন্তারই সম্প্রসারণ।

বুধবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০২২

পেশাগত জীবনে টাকার ভূমিকা

 


পুঁজিবাদ যে সমাজ আমাদের সামনে হাজির করেছে, সেখানে পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিকতা বিলুপ্ত হবার পথে। পেশাগত জীবনে একজন অধ্যাপক এবং একজন ব্যাসের সহায়কের পার্থক্যগুলো এখন ঘুচে যাচ্ছে। অথবা একজন বিজ্ঞানীর সাথে একজন মুদি দোকানদারের একই আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে বিজ্ঞানাগারে গবেষণাকারী একজন বিজ্ঞানী যেমন টাকালোভী হয়ে গেছেন তেমনি একজন সরল কৃষক আর সরল নেই, তিনিও লোভে পড়ে বিষক্রিয়ায় মারা যাচ্ছেন পর্যন্ত।

আমি সব ক্লাসে একটি গল্প বলি, শিক্ষকদের বুঝতে আপনার কাজে লাগবে। আমরা বাস স্টপে দেখি, বাসের হেলপার চেঁচাচ্ছে, এই আসেন, মতিঝিল ২০ টাকা, ডাইরেক্ট মতিঝিল ২০ টাকা, আসেন সিট আছে খালি ২০, নন স্টপ মতিঝিল ২০ টাকা।

অন্যদিকে একজন শিক্ষক অবিরাম ডেকে চলেছেন, কেমিস্ট্রি খালি ৫০০ টাকা, ইংরেজি খালি ৫০০ টাকা, ৪ মাসে কোর্স শেষ, প্রতি মাসে খালি ৫০০। আগে আসলে আগে শুরু, জনপ্রতি খালি ৫০০। আর ডাক্তারদের কথা তো বলাই বাহুল্য, ডাক্তার মানেই দোকান খুলে বসা।

অন্যদিকে আছে ইঞ্জিনিয়াররা, তারা যে কত ভাবে টাকা পয়সা নয় ছয়ের সাথে জড়িয়ে পড়েছে তা ভাবা যায় না। এগুলা কয়েকটি পেশার আলোচনা মাত্র। বাস্তব পুঁজিবাদ এভাবে হাজার হাজার পেশাগুলোকে পুঁজির জোয়ালের নিচে বন্দি করেছে।

বাসের হেলপারের সাথে শিক্ষকের বা ডাক্তারের পার্থক্য কোথায়? একেবারেই পেশাগত পার্থক্যগুলো ঘুচে গেছে। যেসব শিক্ষক বা ডাক্তার ব্যবসা করতে পারে না, তারা অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষকের সাথে ঘোট পাকায়, কমিটি হান তান ভাউচার লইয়া থাকে।

টাকালোভী মানুষকে বোঝার জন্য, এই পুঁজিবাদী সমাজকে বোঝার জন্য, এইসব উদাহরণ দেখা যায়। ব্যক্তিগতভাবে দেখলে, আপনি শুধু একটি গাছ দেখতে পাবেন, জঙ্গল দেখতে পাবেন না; আর শুধু জঙ্গল দেখলে আবার গাছ দেখতে পাবেন না। আপনাকে সার্বিক এবং বিশেষ দুভাবেই দেখতে হবে। সত্য দেখে এই সমাজকে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে শিক্ষকের কাজ, কিন্তু শিক্ষকরা দেখার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেত্ন নয়। যারা দেখে না, তাদেরকে অন্ধ বলা হয় এই সমাজে।

একজন গোবিন্দ গৌতম এবং নেপাল ভারত সীমান্ত

 


গোবিন্দ গৌতমকে সশস্ত্র সীমা বল, যা আসলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী, কাঞ্চনপুর জেলার আনন্দবাজারে হত্যা করেছে ৯ মার্চ ২০১৭ তারিখে। তিন দিন পর আজ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দুধা নদীর তীরে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষ হয়েছে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার দিন হোলি হওয়া সত্ত্বেও হাজারো মানুষ তাঁর শবযাত্রায় যোগ দেয়।

তাঁর মারা যাবার দিন থেকে তিন দিনে হাজারো মিছিল চলেছে পুরো নেপালে। কাঠমান্ডুসহ নেপালের সর্বত্র হাজারো মানুষ শ্লোগান দিয়েছে গোবিন্দ গৌতম অমর হও, ঘাতকদের ফাঁসি চাই। আজ ভিড় ছিলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হত্যার নিন্দা জানিয়েছে এবং গুরুতর উদ্বেগের সঙ্গে এই ব্যাপারে ভারত সরকারের উচ্চ কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দোষীদের বিচারের সম্মুখীন করার জন্য ভারতকে উদ্যোগ নিতে বলেছে। এই পরিস্থিতিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী প্রচণ্ডের কাছে টেলিফোনে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।

রাজপথে জনতাকে শান্ত করতে গত পরশু নেপালের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিমলেন্দু নিধি গৌতমকে শহীদ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। পার্লামেন্টে দেয়া বিবৃতিতে তিনি গৌতমের পরিবারকে ইতিমধ্যে ১০ লাখ নেপালি রূপি ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দেন এবং তার সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্র নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, সিপিএন-ইউএমএল-এর জ্যেষ্ঠ নেতা বামদেব গৌতম মঙ্গলবার বলেছেন যে নেপাল সরকারের উচিত গোবিন্দ গৌতম হত্যার জন্য নেপালের কাছে ভারতকে দুঃখ প্রকাশ করা। একই সময়ে, গৌতম বলেছিলেন যে ভারতের উচিত শোকাহত পরিবারকে ১০ মিলিয়ন টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

সুদূর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আঞ্চলিক পুলিশ অফিসের প্রধান ডিআইজি রোমেন্দ্র সিং দেউজার মতে, গৌতমের দেহ থেকে গুলিটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং কাঠমান্ডুর পুলিশ সদর দফতরের অধীন কেন্দ্রীয় পুলিশ ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে কোন বন্দুক থেকে গুলি করা হয়েছিল তা নির্ধারণ করতে।

ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ প্রতিরোধে গৌতম গোবিন্দের আত্মবলিদানকে শির নিচু করে গোটা জাতি সম্মান জানিয়েছে। তাঁকে মহান শহীদ হিসেবে উল্লেখ করে সাংবাদিক কৃষ্ণ মহরা লিখেছেন, মাতৃভূমি নেপালের মাটি, সীমানা এবং জায়গা রক্ষায় চির অম্লান হয়ে থাকবে এই শহীদের আত্মবলিদান।

ঘটনার ছয় দিন পরও সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি এবং আন্তঃসীমান্ত পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্য এখনও সম্ভব হচ্ছিল না।

বাংলাদেশের জনগণ কি কিছু শিখবেন এই ঘটনায়?

বাংলাদেশের নদী নিয়ে আমার কাজ

 


বাংলাদেশের নদী নিয়ে আমি প্রায় এক যুগ ধরে কাজ করছি। আমার সম্পাদনায় ২০১০ সালে প্রকাশিত বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা গ্রন্থটি  দেশের মৃত আধা মৃত নদীদের উৎসর্গ করি। এই উৎসর্গটি দেখে পানি বিশেষজ্ঞ জনাব ম ইনামূল হক বলেছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসর্গপত্র।

আমরা ১৪ মার্চ আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস পালন করি। আপনারা অনেকেই নদীর ব্যাপারে কাজ করেছেন। কিন্তু আমরা হয়ত ভুলে গেছি নদীতেই থাকে এমন এক প্রাণী যার নাম কচ্ছপ। খুবই নিরীহ গোছের এই প্রাণীগুলো এখন বাংলাদেশে মহাবিপন্ন। বাংলাদেশে যে মোট ২৯ প্রজাতির কচ্ছপ পাওয়া যায় সেগুলোর ভেতর পাঁচটি প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যেকোনো প্রজাতিই সুখে নেই। বিলুপ্তির প্রহর গুণতে থাকা সুন্দর নিরীহ এই প্রাণীগুলোকে আমরা কী বাঁচাতে পারি না।

অন্য প্রসঙ্গে বলি, আমি বাংলা উইকিপিডিয়ার নদীর তালিকার প্রায় সবগুলো নিবন্ধেই সম্পাদনা করেছি, প্রায় সবগুলো নিবন্ধ তৈরি করেছি। আপনারা নদীগুলোকে অনেক ভালোবাসেনসেগুলোকে নিয়ে ভাবেন। আপনারা অনুগ্রহ করে আমাকে নদীগুলো সম্পর্কে জানাবেন। নদীগুলোর যেসবের চিত্র নেইসেগুলো উইকিপিডিয়ায় যুক্ত করবেন। কীভাবে যুক্ত করতে হবে তা বোঝার চেষ্টা করবেন। নদী বাঁচলেই প্রাণ ও প্রকৃতি বাঁচবেবাঁচবে মানুষ। কিন্তু সহজে নদী বাঁচবে নাতীব্র রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রয়োজন পড়বে। এবং আমার আস্থা আছেনদী বাঁচাতে জনগণ লড়বেই।

বাংলাদেশের নদী সম্পর্কে বলতে গেলেই আসে ফারাক্কা বাঁধের কথা। এটা সম্পর্কে একটাই মন্তব্যফারাক্কা বাঁধ গুড়িয়ে দিন। ভারতে বাঁধটির বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে অনেক মানুষ। পরিবেশবাদীদের সাথে যোগ দিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারসহ আরো অনেক সুপরিচিত মুখ।

প্রতিবাদকারীর আরেকজন হচ্ছেন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার বিজয়ী রাজেন্দ্র সিং। তাকে ভারতের ওয়াটারম্যান বলে অভিহিত করা হচ্ছে। তিনি ফারাক্কা বাঁধ গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেনফরাক্কা হলো বিহারের কাছে অশুভ। এটা একটা অভিশাপ- যাকে সরানোর প্রয়োজন। কারণযতক্ষণ তা না হচ্ছেততক্ষণ এগিয়ে যাওয়া অসম্ভব।


সোমবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০২২

সত্য হচ্ছে ধ্যান-ধারণা ও নৈর্বক্তিক বাস্তবতার অনুরূপতা

 


ধ্যান-ধারণা ও নৈর্বক্তিক বাস্তবতার অনুরূপতাই সত্য। এধরনের অনুরূপতা সাধারণত আংশিক ও সন্নিকটবর্তী হয়। কোন সত্যকে আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারি তা সব সময়েই সত্য আবিষ্কার করার ও তাকে প্রকাশ করার জন্য আমাদের হাতে যে উপায়গুলি আছে তাদের ওপর নির্ভর করে, কিন্তু তারই সঙ্গে এই অর্থে আপেক্ষিক হলেও ধ্যান-ধারণার সত্যতা সেই সমস্ত নৈর্বক্তিক তথ্যের ওপর নির্ভর করে যাদের সঙ্গে ঐ ধ্যান-ধারণার সাদৃশ্য রয়েছে। আমরা কখনোই পরিপূর্ণ, সম্পূর্ণ বা চরম সত্যকে জানতে পারি না, কিন্তু সর্বদা তার দিকেই এগিয়ে চলেছি।

ট্রুথ অর্থে সত্য শব্দটি প্রাচীন দাস যুগ থেকেই আছে। আর সমস্ত চিন্তারই শ্রেণি চরিত্র আছে। আর বিজ্ঞান দাস যুগে ছিলো, সামন্তযুগে পিছিয়ে গেছিল, তখন আলকেমি এবং আরো কিছু ব্যাপার ছিলো, তবে বিজ্ঞান ছিলো না মনে হয়। বিজ্ঞানকে বুর্জোয়ারা পুনরায় বাঁচিয়ে তোলে। মার্কসবাদী-লেনিনবাদীরা বিজ্ঞানকে অধীন করে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের, মাওবাদীরা অধীন করে দ্বন্দ্ববাদের। আর দর্শন হচ্ছে প্রকৃতি-বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের ঘনীভূত রূপ। ফলে শুধু বিজ্ঞানের পূজারিরা এখন সাম্রাজ্যবাদের সমর্থক হতে বাধ্য। একটি মজার প্রসঙ্গ, মোহনদাস গান্ধীর মতো পাজীর আত্মজীবনীর নাম মাই এক্সপেরিমেন্ট উইথ ট্রুথ

চরম ও আংশিক সত্য

আমরা দেখেছি যে, ধ্যান-ধারণার বিকাশে হরেক রকমের অধ্যাসের যেমন উদ্ভব হয়, তেমনি সত্যেরও আবির্ভাব ঘটে। তাহলে সত্য বস্তুটি কী? এটি হলো ধ্যান-ধারণা ও নৈর্বক্তিক বাস্তবতার মধ্যে অনুরূপতা, ঐক্য বা সাদৃশ্য।

আমাদের ধ্যান-ধারণা ও বাস্তবতার মধ্যে এই অনুরূপতা, ঐক্য বা সাদৃশ্য কিন্তু একমাত্র ধীরে ধীরেই প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তাও আবার প্রায়শঃই আংশিক ও অসম্পূর্ণ অনুরূপতা, ঐক্য বা সাদৃশ্যের বেশি নয়। কারণ, একটি ধারণা বা ভাব সমস্ত দিক থেকেই তার বাস্তব বিষয়ের অনুরূপ নাও হতে পারে, কিন্তু আংশিক অনুরূপ হতে পারে; আবার ঐ বিষয়ে এমন অনেক কিছুই থাকতে পারে যা ধারণায় আদৌ স্থান পায় না, যার ফলে ধারণা ও তার নৈর্বক্তিক বস্তুর অনুরূপতা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এইসব ক্ষেত্রে অবশ্য একথা আমাদের বলা উচিত নয় যে আমাদের ধারণাটাই ভুল ছিল, কিন্তু তাহলেও তা সর্বাংশে, সম্পূর্ণভাবে চরম সত্য বলে বিবেচিত হবে না। অতএব, সত্য এমন কোনো সম্পত্তি নয় যে একটি ধারণা বা প্রতিজ্ঞা, হয় তার অধিকারী, নয় তো তা নয়; একটি নির্দিষ্ট মাত্রায়, নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে এবং কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রেই সত্য একটি ধারণার উপাদান হতে পারে।

তথ্যসূত্র

১. মরিস কর্নফোর্থ, দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ, অনুবাদ ভোলানাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ, প্রকাশকাল নভেম্বর ১৯৮৭, পৃষ্ঠা ৫৩২-৫৩৩। 

সাম্যবাদ ও ধর্মের পার্থক্য লেখ



১. সাম্যবাদ ব্যক্তিমালিকানাকে অস্বীকার করে থাকে। কিন্তু সকল ধর্মই সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করে।

২. সাম্যবাদ বলে বস্তুর বিকাশের ফলে চেতনা এসেছে, ধর্ম উল্টোভাবে বলে যে চেতনা থেকে বস্তু এসেছে পরম চেতনা সব বস্তু তৈরি করেছে।

৩. সাম্যবাদ নারী-পুরুষে ভেদ করে না, কিন্তু বেশিরভাগ ধর্ম নারী-পুরুষের সামাজিক-রাজনৈতিকসহ বহু বিভেদ তৈরি করে। কিছু ধর্ম তো নারীকে বুদ্ধিহীন প্রাণী হিসেবেই উপস্থাপন করে।

৪. সাম্যবাদ মুনাফা ও বৈষম্যের বিরোধী, কিন্তু ধর্ম মুনাফার স্বীকৃতি দেয় এবং ধনী-গরিবের বৈষম্যকে টিকিয়ে রাখে।

৫. সাম্যবাদ বলে, এই পৃথিবীতেই লড়তে হবে, ধর্ম বলে পরকালের আশায় বসে থাকো।

কুসংস্কার এমন বিশ্বাস বা অনুশীলন যা অযৌক্তিক বা অতিপ্রাকৃত বলে বিবেচিত

 


কুসংস্কার (ইংরেজি: Superstition) হচ্ছে এমন কোনো বিশ্বাস বা অনুশীলন যা অ-চর্চাকারীদের দ্বারা অযৌক্তিক বা অতিপ্রাকৃত বলে বিবেচিত হয়, যেটি ভাগ্য বা জাদু, অনুভূত অতিপ্রাকৃত প্রভাব বা অজানা ভয়ের জন্য দায়ী হয়ে থাকে। এটি সাধারণত ভাগ্য, তাবিজ, জ্যোতিষশাস্ত্র, কপাল বলার, আত্মা এবং কিছু অলৌকিক সত্তাকে ঘিরে বিশ্বাস এবং অনুশীলনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, বিশেষ করে এই বিশ্বাস যে ভবিষ্যতের ঘটনাগুলি নির্দিষ্ট (আপাতদৃষ্টিতে) সম্পর্কহীন পূর্বতন ঘটনাগুলির দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী করা যেতে পারে।

এছাড়াও, কুসংস্কার শব্দটি প্রায়শই এমন একটি ধর্মকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয় যা একটি প্রদত্ত সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠদের দ্বারা অনুশীলন করা হয় না; যদিও সেটা প্রচলিত ধর্ম হিসেবে টিকে থাকে এবং সংখ্যা গরিষ্ঠরা সেটাকে কুসংস্কার হিসেবে দেখে অথবা ধর্মবিরোধীদের দ্বারা সমস্ত ধর্মের জন্য সেটাকে কুসংস্কার হিসেবে দেখানো হয়। মধ্যযুগীয় বর্বর ইউরোপে ডাইনি শিকারের ঘটনাগুলি সাধারণত ধর্মীয় কুসংস্কার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়। 

কুসংস্কার হিসাবে বিকল্প ধর্মীয় বিশ্বাস

একটি প্রদত্ত সংস্কৃতিতে সাধারণভাবে গৃহীত ধর্ম থেকে ভিন্ন ধর্মীয় অনুশীলনকে কখনও কখনও কুসংস্কার বলা হয়; একইভাবে, একটি প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আনা নতুন অনুশীলনগুলিকে বাদ দেওয়ার প্রয়াসে নতুন অনুশীলনগুলোকে কুসংস্কার হিসাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। একইভাবে, ভক্তির অত্যধিক প্রদর্শনকে প্রায়ই কুসংস্কারপূর্ণ আচরণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রাচীনকালে, ল্যাটিন superstitio শব্দটি, এর সমতুল্য গ্রীক deisidaimonia শব্দটির মতো, অতিরঞ্জিত আচার এবং ভবিষ্যদ্বাণীর প্রতি অত্যধিক বিশ্বাসপ্রবণ মনোভাবের সাথে যুক্ত ছিল। গ্রীক এবং রোমান বহুঈশ্বরবাদীরা, যারা রাজনৈতিক এবং সামাজিক শর্তে দেবতার সাথে তাদের সম্পর্কের মডেল তৈরি করেছিল, সেই ব্যক্তিকে তিরস্কার করত যে ক্রমাগত দেবতাদের চিন্তায় ভয়ে কাঁপত, যেমন একজন ক্রীতদাস একজন নিষ্ঠুর এবং খামখেয়ালী প্রভুকে ভয় পায়। দেবতাদের প্রতি এমন ভয়কেই রোমানরা কুসংস্কাররূপে বোঝাত (Veyne 1987, p. 211)দিদেরো তাঁর Encyclopédie-তে কুসংস্কারকে সাধারণভাবে ধর্মের যে কোনো বাড়াবাড়ি হিসাবে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন এবং এটিকে বিশেষভাবে পৌত্তলিকতার সাথে যুক্ত করেছিলেন।

কুসংস্কারজীবী প্রসঙ্গে

সমাজে কিছু জীবিকা নির্বাহী মানুষ আছে, যারা কুসংস্কার বিক্রি করে বেঁচে থাকে, যেমন তাবিজ, কবচ, যাদু টোনা, ভুত প্রেত থেকে ঝাড়ফুঁক, এমনকি বন্য প্রাণীর দেহ বা দেহাবশেষ ওষুধ হিসেবে বিক্রি করে। এরাই মূলত কুসংস্কারজীবি। পরিস্থিতির জটিলতায় হয়ত এরা এমন জীবনে এসেছেন, এরা লুম্পেন অনেকটা আর পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পুরোটা। মানবতাবাদ শুধু মানুষের মঙ্গল দেখেছে, ফলে মানবতাবাদীর কাছে পণ্য বা মুনাফা খারাপ কিছু নয়। ফলে মানবতাবাদীরা যে কোনো ব্যবসাকেই বৈধ বলে। সেটি যত বিপন্ন প্রাণীর ব্যবসাই হোক না কেন, সেই ব্যবসাও তারা চালাতে চায়।

সামন্তবাদ আর কুসংস্কারের সম্পর্ক একটি আঠালো সম্পর্ক। ফলে একজন কুসংস্কারজীবী কোনোভাবেই সমাজের কাজে লাগে না, কুসংস্কারজীবীরা কলা বা ঝালমুড়ি বেচেও জীবনধারণ করতে পারে।

রবিবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০২২

সতীশ পাকড়াশী ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা

বিপ্লবী সতীশচন্দ্র পাকড়াশী (১৩ ডিসেম্বর ১৮৯১  ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৭৩) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম নেতা এবং বাঙালি সশস্ত্র বিপ্লববাদী মুক্তিযোদ্ধা।

ছাত্র থাকাকালীন মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি প্রখ্যাত বিপ্লবী ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী মহারাজের সংস্পর্শে আসেন। তার ফলশ্রুতিতে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় তিনি তৎকালীন গোপন বিপ্লবী দল অনুশীলন সমিতির সদস্য হন। তাঁদের চেষ্টায় পার্শ্ববর্তী সাটিরপাড়া গ্রামে অনুশীলন সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে তারা লাঠি, ছুরি এবং ড্রিল নিয়ে শারীরিক ব্যায়ামের জন্য নিয়মিত জড়ো হতে থাকেন। প্রমথনাথ মিত্র যুবকদের বলেছিলেন যে বিদেশী পণ্যের বিরুদ্ধে পিকেটিং দিয়ে স্বাধীনতা পাওয়া যাবে না, যা শুধুমাত্র সহিংস বিদ্রোহ দ্বারা স্বাধীনতা অর্জন করা যেতে পারে; তাই দলে দলে নিজেকে সংগঠিত করতে হবে। তাই তারা সশস্ত্র সংগ্রামের পথ ধরেন। 

সতীশ পাকড়াশী ম্যাট্রিক পরীক্ষায় পাশ করেন ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে। ঐ বছরই অস্ত্র আইনে সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করা আরম্ভ করেন। মুক্তি পেয়ে নরসিংদীতে ফিরে এসে আবার গোপন দলের কাজে যোগ দেন। তাকে মালদহে পাঠানো হয়। ১৯১৪ সালে তিনি কলকাতা যান। তৎকালীন আধুনিক বর্বর ব্রিটিশ সরকার একাধিক রাজনৈতিক ডাকাতির অপরাধে তার নামে ওয়ারেন্ট জারি করেছিল।

১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় পুলিশের দমননীতির জন্যে সহকর্মী নলিনীকান্ত বাগচীর সাথে আত্মগোপনে চলে যান। সমিতির আরো কয়েকজন সদস্যসহ তারা আসামের গৌহাটিতে গিয়ে সেখান থেকে সারা বাংলাদেশের সশস্ত্র বিপ্লবের কাজ পরিচালনা করতে থাকেন। পুলিশ ১২ জানুয়ারি ১৯১৮ তারিখে তাদের গোপন আস্তানা ঘিরে ফেললে তারা ৭ জন নিকটের নবগ্রহ পাহাড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন এবং পুলিশবাহিনীর সাথে রিভলভার নিয়ে যুদ্ধ করতে থাকেন। ৫ জন ধরা পড়লেও তিনি ও নলিনীকান্ত বাগচি পালাতে সক্ষম হন। দুজনেই পদব্রজে কলকাতায় চলে যান। নলিনীকান্ত বাগচি এই ঘটনার কিছুকাল পরেই ঢাকা শহরে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন।

সতীশ পাকড়াশী ১৯১৮ সালে কলকাতায় ধরা পড়লে প্রথমে তাঁকে প্রেসিডেন্সি জেল ও পরে রাজশাহী জেলে বন্দি করে রাখা হয়। তিন বছর পরে তিনি মুক্তি পান। ১৯২৩ সালে সোভিয়েত রাশিয়া থেকে আগত অবনী মুখোপাধ্যায়ের সাথে তাকে রাশিয়ায় পাঠানোর চেষ্টা করে সমিতি, তবে তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ১৯২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি আবার গ্রেফতার হন এবং রাজবন্দী হিসেবে ৫ বছর জেল খাটেন। এই সময় তিনি আলিপুর, মেদিনীপুর, ঢাকা, মহারাষ্ট্রের যারবেদা এবং কর্ণাটকের বেলগাঁও জেলে বন্দি থাকেন। ১৯২৯ সালে মেছুয়াবাজার বোমা মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার হন। তাকে আন্দামান সেলুলার জেলে দ্বীপান্তর করা হয়। ১৯৩৩ থেকে পরবর্তী ছয় বছর সেলুলার জেলে বন্দি থাকেন। এই সময় তিনি সাম্যবাদে আকৃষ্ট হন। তার জীবনের ৩২ বছর কারান্তরালে কেটেছে। ১১ বছর আত্মগোপন করে ছিলেন।

সেলুলার জেলে কমিউনিস্ট কনসলিডেশনের সদস্য ছিলেন। জেলখানায় সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদ নিয়ে পড়াশোনা করতেন। কারামুক্তির পর ১৯৩৮ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন। পার্টি নিষিদ্ধ হলে আত্মগোপন করেন। বক্সা দুর্গে বন্দী ছিলেন অন্যান্য সাম্যবাদী বিপ্লবীদের সাথে। ১৯৬৪ সালে পার্টি ভাগ হলে তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)তে যোগ দেন। পরে পার্টির রাজ্য কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। বিপ্লবী সতীশচন্দ্র পাকড়াশী ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ তারিখে মারা যান।

ব্যক্তিগত একটি স্মৃতি

২০০৬-০৭ সাল হবেনরসিংদী গেছি। নরসিংদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা একদিন বিকেলে আমাকে নিয়ে ঘুরতে বের হলেন। এদিক-সেদিক এই রাস্তা সেই রাস্তা ঘুরিয়ে কোনো এক গ্রামের একটি বিশাল বটগাছের পাশে গাড়ি দাড় করালেন। গাছের থেকে একটু দূরে ঝোপঝাড়ের মাঝখানে এক পুরনো মন্দির। তিনি এরকম এক জায়গায় দাড়িয়ে বললেনএই অঞ্চলে ৪০-৫০ বছর আগেও ঘন জংগল ছিলোএসব জায়গায় লুকিয়ে থাকতেন সে সময়ের ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবীরা। সতীশচন্দ্র পাকড়াশী নামে এক বিপ্লবী পাশেই জন্মেছিলেন। তিনি এসব জায়গায় লুকিয়ে থেকেই কাজ করতেন।

সেই থেকে চিনি তাঁকে। শ্রদ্ধা নিবেদন করছি ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী সতীশচন্দ্র পাকড়াশীর প্রতি। আজ বাংলাদেশে অজস্র তুচ্ছ আর ইতরেরা মহামহিম সেজেছে মুখোশের আড়ালেঅথচ এই বিপ্লবীদের কে মনে রেখেছে?

নিকোলাই অস্ত্রভস্কি ছিলেন সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বাস্তববাদী লেখক

 


নিকোলাই আলেক্সিভিচ অস্ত্রভস্কি (রাশিয়ান: Никола́й Алексе́евич Остро́вский; ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ - ২২ ডিসেম্বর ১৯৩৬) ছিলেন ইউক্রেনীয় বংশোদ্ভূত সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বাস্তববাদী লেখক। তিনি তার উপন্যাস ইস্পাত-এর (ইংরেজি:How the Steel Was Tempered)  জন্য সর্বাধিক পরিচিত।

নিকোলাই অস্ত্রভস্কি মনে করতেন, জীবন এক অনন্য সৃষ্টি, একে কোনোভাবেই হেলাফেলায় নষ্ট করা উচিত নয়। সংগ্রামময় এই জীবনের ধাপে ধাপে বিভিন্ন পদ্ধতিতে আমরা সচেতন প্রয়াস করে থাকি নিজেদের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। দায়িত্বে, সামাজিকতায়, কর্তব্যবোধ সম্পন্ন একজন ব্যক্তি কখনোই পিছপা হন না। যতই প্রতিবন্ধকতা আসুক তিনি দৃঢ় মনোবল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, মুখোমুখি হন, জয় করেন বা পরাজয় থেকে শিক্ষা নেন আবার ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য।

সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ায় যিনি সাহিত্য ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সম্মান অর্ডার অব লেনিন’-এ পুরস্কৃত হয়েছিলেন। মাত্র ৩২ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনের প্রতিটি অধ্যায় ছিল সংগ্রামমুখর। শ্রমিক পরিবারে জন্ম, বেড়ে ওঠা। সোভিয়েত বলশেভিক আদর্শকে জীবন দর্শন হিসেবে গ্রহণ করেন।

নিকোলাই অস্ত্রভস্কি মাত্র ১৩ বছর বয়সেই পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। বহুবার যুদ্ধে অংশ নেন। আহত হন। তাতেও দমে যাননি। কিন্তু মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে শেষে চোখ হারান দৈহিক শক্তি হারান। কিন্তু এই প্রতিবন্ধকতাময় জীবন যে তাকে পঙ্গু করে দেয় তা নয়। মহান লেনিনের আদর্শ থেকে তিনি শিখেছিলেন জীবন কত গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই আবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা।

ঘুরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা থেকে শুরু করলেন নিজের লেখনী। জয় করলেন দুনিয়াকে, তার প্রথম উপন্যাস ইস্পাত দিয়ে। পাভেল নামের এক চরিত্র কিভাবে ছোট থেকেই সংগ্রাম করতে করতে বড় হচ্ছেন, বিভিন্ন জায়গায় ছুটে বেড়াচ্ছেন, শত্রুপক্ষ কে ঘায়েল করার চেষ্টা করছেন, আবার এই সবের মধ্যে তিনি শারীরিক ভাবে প্রায় অকেজো হয়ে পড়ছেন, তবু ভাবছেন কিভাবে এই সমস্ত কিছুকে তুচ্ছ করে জীবনের আনন্দ পাওয়া যায় সামাজিক দায়িত্ব পালনে ব্রতী হওয়া যায়। প্রকৃতপক্ষে নিকোলাই তার নিজের জীবনকেই এই উপন্যাসের পাভেল চরিত্রের মধ্য দিয়ে দেখাতে চেয়েছেন। জীবনের  শেষ পর্যায়ে সোভিয়েতের বড় বড় হাসপাতালে তার চিকিৎসা হলেও তাকে বাচাঁনো যায়নি। দুরারোগ্য ব্যাধি তার প্রাণ কেড়ে নেয়।

১৯৩৬ সালের ২২ সে ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু মৃত্যু হয়নি তার আদর্শের, তার সৃষ্টির। তিনি বলেছিলেন জীবন মানুষের সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ। আর জীবন মানুষ পায় মাত্র একটিবার। তাই এমনভাবে বাঁচতে হবে যাতে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে মানুষ বলতে পারে আমি আমার সমগ্র জীবন ব্যায় করেছি মানুষের মুক্তি সংগ্রামে, মানুষকে ভালোবেসে।

জীবন এবং মৃত্যু সম্পর্কে নিকোলাই অস্ত্রভস্কির এই গভীর ধারণা তাই এখনও অসংখ্য সংগ্রামী মানুষের চলবার শক্তি এগিয়ে যাবার প্রেরণা। বিশ্বের দেশে দেশে পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী বা ফ্যাসিবাদ বিরোধী প্রতিটি সংগ্রামে নিকোলাই এর জীবনবোধ আমাদের এগিয়ে দেবে প্রতিটি লড়াইয়ে। তিনি বাঙ্ময় হয়ে থাকবেন আমাদের হৃদয়ে, আমাদের দৃপ্ত পথচলায়।


বিপ্লব প্রতিরোধের সাম্রাজ্যবাদী অভিজ্ঞতা

 


ফরাসি বিপ্লবের পরে ফ্রান্সের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল ইউরোপীয় বুর্জোয়ারা। যুদ্ধ চাপিয়ে মুনাফা কামানো এবং বিপ্লব বিরোধিতার অভিজ্ঞতা তাঁদের তখনই হয়েছিল। ১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবের পর রাশিয়াকে আক্রমণ করতে তাই ইউরোপীয় বুর্জোয়ারা দেরি করেনি। ইউরোপে বিভিন্ন দেশের সরকার এবং প্রতিষ্ঠানকে উচ্চ সুদে ঋণদানই ছিল রথচাইল্ড পরিবার নামে একটি সাম্রাজ্যবাদী সন্ত্রাসী পরিবার। এর পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের ব্যবসাও ছিল তাদের। বলা হয়ে থাকে, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধিয়ে দিয়ে উভয় সরকারকেই ঋণ দিতো রথসচাইল্ড। বিনিময়ে বন্ধক রাখতে হতো রাষ্ট্রের জমিজমা আর ধন-সম্পদ।  

ফরাসি বিপ্লবের পরে ফ্রান্স এবং ‍ব্রিটেনের মধ্যকার ওয়াটারলুর যুদ্ধে দুই দেশকেই ঋণ দিয়েছিল এই যুদ্ধংদেহী বর্বর পরিবারটি। সেইই যুদ্ধে কেবল ১৮১৫ সালেই ইংল্যান্ডের মিত্রদের ৯৮ লাখ পাউন্ড ঋণ দিয়েছিল তারা, বর্তমান হিসাবে তা প্রায় ১ হাজার ১ কোটি মার্কিন ডলারের সমান। সেইসময় এর পাশাপাশি আরো একটি লাভজনক ব্যবসা চালাতে পেরেছিল রথসচাইল্ড পরিবার। ওয়াটারলুর যুদ্ধে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে সব ধরনের জাহাজ চলাচলই বন্ধ ছিল। চলতো কেবল এই পরিবারটির জাহাজ। কারণ দুই দেশের সরকারই তাদের জাহাজের নিরাপত্তা দিত।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপের বিশেষভাবে ফ্রান্স এবং ইটালির কমিউনিস্ট পার্টি ছিল যথেষ্ট শক্তিশালী। কিন্তু এই মেরুদণ্ডবিহীন নপুংসক সংশোধনবাদীরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ক্ষমতা দখল না করে বসে বসে আঙুল চুষছিল। যার ফলাফল বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের জন্য খুব ক্ষতিকর হয়েছিল।

অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকছে বুর্জোয়ারা। লেনিন যে বলেছিলেন সমস্ত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে প্রলেতারিয়েত হয়ে উঠবে অগ্রণী শ্রেণি, তা বাংলাদেশে কী পর্যায়ে আছে? বাংলাদেশে মাঝে মাঝেই  শ্রমিক ও কৃষকগণ আন্দোলনে অস্ত্র হাতে তুলে নেন, কিন্তু তারপরও শান্তিবাদী হয়ে থাকে কেন কমিউনিস্টরা? কেন তারা দুদিনের হরতাল পর্যন্ত ডাকে না? এই প্রশ্নের উত্তর পেলেই বোঝা যাবে এইখানে কমিউনিস্ট নামধারী নেতারা মার্কস-লেনিনকে আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে ফেলেছেন!

বাংলাদেশে সাম্রাজ্যবাদ প্রধান শত্রু। এখানে মৌলবাদ তাঁর জানের দোস্ত। ফুকুয়ামার মতবাদ অনুসারে সাম্রাজ্যবাদ চলছে সভ্যতার সংঘর্ষকে কার্যকর করতে। এই দ্বন্দ্বের জন্য সাম্রাজ্যবাদ মৌলবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা করে। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধ শক্তিকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারলে আমরা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াই চালাতে পারব। দ্বন্দ্ব নিয়ে যদি বস্তু তৈরি হয় তবে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধ শক্তিকে মিলেই একটি বস্তু তৈরি হয়।

তথ্যসূত্র

১. রাশেদ শাওন, ৬ জুন, ২০১৭, গোনিউজ২৪.কম, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী, সবচেয়ে রহস্যময় রথচাইল্ড পরিবারের উত্থান, ইউআরএল: https://www.gonews24.com/international/news/26734/

সাম্রাজ্যবাদীদের হত্যাকে ধর্মীয় পরিচয় দেয়া যাবে না

 


ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া, উত্তর কোরিয়া, ফিলিপাইন, চিলি, নিকারুগুয়া, নাইজেরিয়া ইত্যাদি দেশে কোটি কোটি মানুষ হত্যা করেছে সাম্রাজ্যবাদীরা। তাদের কিন্তু বৌদ্ধ বা নাস্তিক হিসেবে হত্যা করা হয় নি।

সংখ্যার বিচারে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা সবচেয়ে বেশি অত্যাচারিত হয়েছে, নিহত হয়েছে এসব যারা বলেন, তারা আসলে সাম্রাজ্যবাদীদের তৈরি করা আখ্যান অনুসারে কথা বলেন। সাম্রাজ্যবাদীরা চায় নিপীড়িতেরা ধর্মীয় পরিচয়ে নিজেদের পরিচিতি দিক, যাতে হত্যাকে আধুনিক বর্বর ইউরোপীয় চিন্তার লোকজনের কাছে বৈধ করা যায়।

আমাদেরকে বলতে হবে, লিখতে হবে যে, গরিবদের নিপীড়িতদের শোষিতদের হত্যা করা হয়েছে। মুসলমান বা ধর্মীয় পরিচয় সামনে আনলে সাম্রাজ্যবাদীদের সুবিধা হয়। নিপীড়িতের বা গরিবের প্রতিবাদকে মুসলমানদের বলে চালালে সাম্রাজ্যবাদীদের তৈরি করা ন্যারেটিভ দিয়েই প্রতিবাদ করা হয়। এতে কাজ হয় খুব অল্প। বিশ শতকে দুটি বড় সাম্রাজ্যবাদী মহাযুদ্ধের বিপরীতে লড়াই করে জয়ী হয়েছিলেন, লেনিন, স্তালিন ও মাও সেতুং। আমরা তাঁদের দেখানো পথে চলি, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী বিশ্ব গড়ি।

তবে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন কীভাবে হবে এই নিয়ে একটা কৌতুক পড়া যেতে পারে:

দুই বিপ্লবীর তুমুল বিতর্ক চলছে
১ম বিপ্লবী: সাংস্কৃতিক সংগ্রাম দিয়েই কেবল সাম্রাজ্যবাদকে উৎখাত করা সম্ভব। আমাদের সাংস্কৃতিক সংগ্রামকে জোরদার করতে হবে।

২য় বিপ্লবী: আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে সশস্ত্র বিপ্লবের বিরোধিতা করা। সশস্ত্র হলে সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদ বিপ্লবীদের আক্রমণ করার সুযোগ পায়। ফলে সশস্ত্র সংগ্রাম পুঁজিবাদ সাম্রাজ্যবাদকে শক্তিশালী করে।

৩য় বিপ্লবী: আপনাদের বিতর্ক থেকে বুঝলাম রবীন্দ্রসংগীত আমাদের বিপ্লবের প্রধান অস্ত্র। জয় রবীন্দ্রসংগীতের জয়।

সোমবার, জানুয়ারি ১১, ২০২১

শিক্ষা বিষয়ক অনলাইন ফুলকিবাজ ডট কম চালু হয়েছে


নতুন বছর ২০২০ খ্রিস্টাব্দের ৮ জানুয়ারি
ফুলকিবাজ (ইংরেজি: fulkibaz.com) নামের একটি শিক্ষা বিষয়ক অনলাইন পাঠকের সামনে এসেছে। অনলাইনটি গত ৪ জানুয়ারি ২০২০ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়ে তাদের কার্যক্রম প্রচার করছে। অনলাইনটিতে মোট ৮টি ক্যটাগরী বা বিষয়শ্রেণি রাখা হয়েছে। বিষয়শ্রেণিগুলো হচ্ছে সাহিত্য, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস, অর্থশাস্ত্র, দর্শন, সংস্কৃতি, জীবনী ও চলচ্চিত্র। ইতিমধ্যেই ফুলকিবাজে বিশের অধিক লেখা প্রকাশ করা হয়েছে।

আটটি বিষয়শ্রেণিতে বিভক্ত অনলাইনটি মূলত উচ্চ শিক্ষার সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের সকল ক্ষেত্রকে সামনে নিয়ে আসতে চায়। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে অনলাইনটিতে সেই ধরনের বিষয়শ্রেণি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়গুলো সম্পর্কে সাধারণ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ধারণা থাকলেও উচ্চ শিক্ষায় এসব বিষয়ে মনোযোগ কম দেয়া হয়। এই সাতটি বিষয়ের মধ্যে আটটি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দাপটের সাথে বিরাজ করলেও সংগীত এবং চলচ্চিত্রের স্থান তেমন নেই। সংস্কৃতি বিষয় শ্রেণিতে সংগীত ও চলচ্চিত্রের লেখাসমূহ প্রকাশ হবে বলে সম্পাদক দোলন প্রভা আমাদের জানিয়েছেন।

সংগীত এবং চলচ্চিত্রও আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলে মনে করেন এই অনলাইনের সম্পাদক। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই দুটি বিষয় যেমন জ্ঞান প্রচার ও জনমত তৈরির ক্ষেত্রে কাজে লাগে, তেমনি বিষয় দুটির বিশাল বাজার সারা বিশ্বেই রয়েছে। তাই আমরা এই বিষয় দুটিকে আমাদের বিষয় শ্রেণিতে যুক্ত করেছি

ফুলকিবাজের সম্পাদক দোলন প্রভা ৩ অক্টোবর ২০১৭ থেকে রোদ্দুরে ডট কম সম্পাদনা করে আসছেন। নতুন এই অনলাইনটি নিয়ে তিনি যথেষ্ট আশাবাদী। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, রোদ্দুরে ডট কমে বহু বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকায় এটি পাঠকদের কাছে নির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয় যথাযথ মনোযোগের সাথে তুলে ধরতে পারছিল না। ফুলকিবাজ ডট কম প্রত্যাশা করে, পাঠকের কাছে শিক্ষা, পাঠ এবং গবেষণার বহু বিষয় যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারবে।

অনুপ সাদি নতুন অনলাইন ফুলকিবাজের অন্যতম লেখক। এছাড়াও রোদ্দুরে ডট কমের অনেক লেখক ফুলকিবাজ ডট কমেও লিখতে সম্মতি প্রদান করেছেন। এনামূল হক পলাশ, পূরবী সম্মানিত ও ইভান অরক্ষিত এই নতুন শিক্ষা বিষয়ক অনলাইনে নিয়মিত লিখবেন। এছাড়াও ধ্রুপদী ধারার অনেক লেখকের লেখাও ফুলকিবাজে প্রকাশ করা হবে।

ফুলকিবাজের সকল শুভানুধ্যায়ী, সমর্থক, অনুসারী ও লেখকদের কাছে পাঠকের প্রত্যাশা সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে। জনগণের শিক্ষার ধারায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে ফুলকিবাজ অঙ্গীকারবদ্ধ। ফুলকিবাজ আশা করে, এই অনলাইনটি পাঠকদের প্রতিদিনের সঙ্গী হবে। পাঠকগণ সপ্তাহে একদিন হলেও তাদের জ্ঞানের ক্ষুধা মেটাতে এখানে হাজির হবেন।