Monday, June 17, 2013

কিছু রক্তই সবকিছু




১৫.
আমরা শ্রমিককে মজুরি দিয়ে বোঝাতে চাই
ঘুম এলেও কবিতা লেখা যায়,
এবং কবিতা জীবনের অধিক গুরুত্ব বহন করে,
হারানো দিন ফুটিয়ে তোলে
নিপীড়িতের অসংগতি, ক্ষমতাহীনের উপর অবিচার
নাটকে প্রদর্শিত রাষ্ট্রী নিষ্ঠুরতা
তেরো হাত লাঠি দিয়ে অভাবীকে নাচানো
গানের মাধ্যমে মানুষের মাঝখানে ফিরে যাওয়া শ্রমিক,
জীবনকে পাল্টাতে গিয়ে যারা নিজেরাই পাল্টে যায়
শ্রমিক দেখলেই মারতে আসে,
ইত্যাদি সবকিছু কবিতায় চলে;

প্রগতির বারুদ কার জ্বালানোর কথা আর কে এখন জ্বালায়?
হলদে পাড়ার একটি বাড়িকে সাজানো হলো লাল রঙে
খাপ না খাওয়া রঙ, পছন্দের পরিবর্তন কতো দ্রুত_  
যেন উল্কার গতি,
একজন বিজ্ঞানী পছন্দ সত্য,
সেই সত্য রঙ প্রথমে একজনই চিনতে পারে
ক্রমাগত সেই রঙ সবার বুকে রঙ ছড়ায়
নিয়ে যায় প্রিয় মাটির কাছে;
ওখানে অপেক্ষা করছে আমাদের শিল্পনগরী,  
আধুনিকতার কোলাহল, শালিকের ডানা,
সাময়ি ব্যস্ততা, সময়ের শেষ সংকট,
আরও পথ বাকি কমরেড, ওই দুরে আমার স্বদেশ
দুপারেই আমার দেশ আমার বাঙলা,
তোমাদের চোখে যে স্বপ্ন খেলা করে তা
আমার ভালবাসা ঘৃনার মাঝে একটি সেতু বাঁধে,
সেই সেতুর নিচে আমরা লাফাবো সাঁতরাবো
অথবা আত্মহত্যা করবো অথবা দাঁড়াবো নিজ শক্তিতে;
টেকনাফ হতে তেতুলিয়ায়, এশিয়া হতে আফ্রিকায়
একটি কথাই শোনা যায়
আমরা আসছি, সমস্ত রাষ্ট্রীয় মরচে ছুটিয়ে
আমরা রক্ষা করবো আমার শ্রমিক আমার কৃষক,
বাঁচাবো আমার সোঁদা মাটি গন্ধ,
তুমিই আমাদের প্রথম ঝলকিত প্রেমের গন্তব্য,
আমরা পৌঁছাবোই তোমার মুক্তির বন্দরে

সাধারনের দাসত্ব



১৪.
আমাদের বাড়ির এক লেজহী বানর জিগায় আমি জানতে চাই
অথচ সক্রেতিসের কথার সাথে বাঙালির কথা
কোনোদিনই মিলবে না,
কারন ভাষাই পরম প্রেম ভাষাই প্রতীক
তোমাকে ভেবেছে যারা সবাই লিখেছে ভাষা
ভাষাই সবার প্রেম রাজদুলালি
ভাষাই সর্বশ্রেষ্ঠ সর্ব শক্তিশালি
ভাষাই তোমাকে ডাকে অভিজ্ঞতার ঘরে
ভাষাই তোমাকে নেয় রাতদুপুরে
ভাষাই শোনায় রাজপথের গল্প
হকারের সিটি বাজানো টিটকারি;
আর খুঁড়িয়ে হাঁটা ভিক্ষু, তাঁর যৌনানুভুতি, অন্যান্য ব্যর্থ অনুভুতি
হাবা শিরোমনি মুর্খ মানুষেরা জানে
একটা কিছু আছে জগতে একটা কিছু মহান
কেননা তাকে জানানো হয়নি একটা মহান কিছু নেই
প্লেটোর প্রেতাত্মা খুঁজলে কিছুই মিলবে না,
সে বোঝেনি মীরকাশিম দিল্লি শহরে কী কারনে ভিক্ষা করে,
শরচন্দ্র কেনো রেঙুনে স্বদেশির মঙলচিন্তায় ব্যস্ত
এইসব সাধারনের কোনো শক্তি থাকে না এখনকার নিয়মে
একালে কেবল শ্রম বিক্রি করা যায়,
শ্রমদাসরা শক্তি পাবে তখনই যখন
কোনো রাজা ভাববাদি সিজোফ্রেনিয়ায় ভুগবে না
কিংবা বলবে না আহা কী সুন্দর দিন কাটাইতাম
দাসমালিকের আমলে
আর জনগন বলবে না কী মজা
নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে অন্যের পায়ের তলে,
আর এখন চিন্তা দায়িত্ব বেড়ে গেছে
এর চেয়ে অনেক সহজ মাথার উপরে ছাতা পেলে
রক্ষা করেন বস, আপনেই প্রাচীন ঈশ্বর
আর ইতিহাস বলে ঠিক উল্টোটাই প্রয়োজন,
ঘোষনা করুন
আমরা ঈশ্বরের চেয়েও শক্তিশালি
সব কিছু করার সাহস আছে
ক্ষমতা অর্জন ক্ষমতা তৈরি,
আমরা হাসতে পারি হাসাতে পারি
কাঁদতে বা কথা বলতে বা গান াইতে পারি
অভিজ্ঞতাকে লিখতে, সঠিক কাজে ব্যস্ত থাকতে পারি
নতুন একটি কবিতার বই তোমাদের হাতে দিতে পারি
যদিও ভারতের সব মানুষ এখন দুধে আলতা রঙে সাজতে বেরোয়
বিউটি পারলারে যায় এদিক ওদিক তাকায়
র্স্মাট তরুন তরুনিরা টির্শাট মিনি স্কার্র্ট পরে
স্বস্বাধীনতায় ইটিশপিটিশ করে,
তারা গরুর গাড়ির বদলে হাওয়ার গাড়িতে চড়ে
অনুষ্ঠানে বেলুন ওড়ায়, টিভি ক্যামেরায় মুখ দেখে
এই তরুনিরা পুঁজি যুদ্ধের সংগে পাল্লা দিয়ে
নিজেদের নিতম্ব স্তন উরুকে সঠিক মাপে তৈরি করে,
এই তরুনেরা মাথাগুলোকে মোটা করে,
তৃপ্তির ঢেকুরের সংগে বের করে কার্বন মনোক্সাইড,
নিজের দম্ভে বিভোর, দখল করে আঞ্চলিক পুকুর নদী, সামুদ্রিক সম্পদ,
তারা হয়ে যায় প্রচলিত হাওয়ার মানুষ,
তীব্রভাবে হারিয়ে যায়, অনন্তকাল ভাবে,
ফিদেল চে যতই এগোক
এইসব তরুন তরুনিরা নিজেদের ভার বহন করতে পারে না