Monday, April 27, 2015

ভুবন চিল বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি




ভুবন চিলের ছানা, ফটো: অনুপ সাদি, তারিখ ১২.০৪.২০১৫ ময়মনসিংহ

দ্বিপদ নাম/Scientific Name: Milvus migrans
সমনাম: Falco migrans, Boddaert, 1783
বাংলা নাম: ভুবন চিল,

ইংরেজি নাম/Common Name: Black kite, Pariah Kite.


জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য/Kingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Accipitridae
গণ/Genus: Milvus, Lacepede, 1799;
প্রজাতি/Species: Milvus migrans (Boddaert, 1783)
ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকাMilvus গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতেও রয়েছে ২টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতিটি হচ্ছে ভুবন চিল।
বর্ণনা: ভুবন চিল লম্বা চেরা লেজঅলা কালচে বাদামি শিকারি পাখি। এদের  দৈর্ঘ্য ৬১ সেমি, ডানা ৪৩.৮ সেমি, ঠোঁট ৩.৬ সেমি, পা ৫.২ সেমি ও লেজ ২৬.৫ সেমি। মার্চ থেকে মে মাস এদের প্রজনন মৌসুম। ছেলে ও মেয়েপাখির চেহারা অভিন্ন। ৭টি উপপ্রজাতির মধ্যে M. m. govinda বাংলাদেশের আবাসিক পাখি।
স্বভাব: ভুবন চিল পর্বত, নদীর পাড়, বেলাভূমি, নগর, শহর ও গ্রামে বিচরণ করে। সচরাচর ছোট দলে লোকালয়ে থাকে। এরা মাংসাশী প্রাণী।
বিস্তৃতি: ভুবন চিল বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি। সব বিভাগের লোকালয়ে পাওয়া যায়। শীতে বিপুলসংখ্যক পরিযায়ী ভুবন চিল এসে দেশে আবাসিক পাখির দলে যোগ দেয়।
অবস্থা: ২০০৯ সালে এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষে এটিকে বাংলাদেশে ও বিশ্বে বিপদমুক্ত বলে বর্ণনা করা হয়েছে। বাংলাদেশের ১৯৭৪ ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
ছবির ইতিহাস: ১০ এপ্রিল, ২০১৫ তারিখে ঝড়ে বাসা থেকে পড়ে যাওয়া দুটি ছানা। ময়মনসিংহ রেল স্টেশনের পাশে নারকেল গাছে কয়েকটি বাসা ছিল। কালবৈশাখী ঝড়ে সেগুলো থেকে তিনটি ছানা পড়ে যায় নিচে। সেখান থেকে হোটেল বয় এই দুটি ছানাকে টেবিলের উপরে রেখে দেয়। সে এই ছানা দুটিকে ভাত আর কলা খাইয়ে অসুস্থ করে ফেলে।  এরা মূলত মাংসাশী, ক্বচিত মাছ খায়, ফলে আহত বা পিতামাতা হতে বিচ্ছিন্ন ছানাকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাংস এবং কদাচিৎ মাছ খাওয়ানো যেতে পারে। আহারে বেচারা ভুবন চিলের ছানা!! পরে বন বিভাগে খবর দিলে তারা ছানা দুটিকে তারা নিয়ে যায়। সম্ভবত পরে ময়মনসিংহ চিড়িয়াখানায় শুশ্রূষা দেবার কথা।


আরো পড়ুন:

Friday, April 24, 2015

এমা গোল্ডম্যান এক মহান নৈরাজ্যবাদী-সাম্যবাদী লেখিকা




যদি ভোটে কোনোকিছু বদলাতো, ওরা ভোটকেও অবৈধ করতো, ---এমা গোল্ডম্যান

এমা গোল্ডম্যান (ইংরেজি: Emma Goldman) (জুন ২৭, ১৮৬৯ - মে ১৪, ১৯৪০) একজন নৈরাজ্যবাদী রাশিয়ান লেখক যিনি লেখা, বক্তৃতা এবং রাজনৈতিক সক্রিয়তার মাধ্যমে পরিচিত ছিলেন। বিংশ শতকের প্রথম ভাগে উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপে নৈরাজ্যবাদী রাজনৈতিক দর্শনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তিনি ১৮৮৫ সালে অভিবাসী হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন। ১৮৮৬ সালে শিকাগোর হে মার্কেটের মে দিবসের ঘটনার পর ‘হে মার্কেটের চক্রান্ত মামলা’ ও সেই মামলায় চারজন শ্রমিকের ফাঁসি তাঁর চিন্তাধারার মধ্যে বড় রকমের পরিবর্তন সৃষ্টি করে। এর অল্পদিন পরই তিনি তাঁর স্বল্পস্থায়ী ও অসুখী বিবাহ বিচ্ছেদ করেন। তিনি ছিলেন ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। একজন নারীবাদী হিসেবে তিনি মনে করতেন যে চার্চ অথবা রাষ্ট্রের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই নারী পুরুষ প্রত্যেকের নিজের সঙ্গী নির্বাচনের স্বাধীনতা থাকা দরকার। যৌন সম্পর্ক বিষয়ে তাঁর মত তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে প্রচার করেন ও তাঁর জন্য নন্দিত ও নিন্দিত হন। তিনি বলেছেন,  
প্রেমের তো কোন নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই; সে নিজেই নিজের নিরাপত্তা। যতদিন পর্যন্ত প্রেম জীবনের জন্ম দেয় কোন কিছুই পরিত্যক্ত হয় না, অভুক্ত থাকে না, ভালবাসায় ক্ষুধার্ত থাকে না। আমি এটাকে সত্য বলে জানি। আমি নারীদের জানি যারা স্বাধীনভাবে যে পুরুষটিকে ভালবাসবে তার দ্বারা মা হতে চায়। স্বাধীন মাতৃত্ব যে যত্ন, নিরাপত্তা, মনোযোগ দিতে সক্ষম, বিবাহ-জন্ম খুব কম শিশুই তা ভোগ করে।
১৫ জুন ১৯১৭ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দুবছরের জন্য কারাবাস করতে হয়। তিনি ২৭ অক্টোবর ১৯১৯ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পান। তিনি তাঁর মতামত প্রচারের উদ্দেশ্যে ব্যাপকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন এবং নৈরাজ্যবাদ, নারীবাদ, জন্মনিয়ন্ত্রণ, নাটক ইত্যাদি বিষয়ে অসংখ্য সভায় বক্তৃতা দেন। তিনি নির্বাচনকে বুর্জোয়াদের হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে লিখেছেন,
“যদি ভোট কোনোকিছু পালটাতো, ওরা ভোটকেও অবৈধ করতো”।
তিনি বলশেভিক বিপ্লবে প্রাথমিকভাবে সহায়ক ছিলেন, ক্রোনস্ট্রাট বিদ্রোহের প্রাক্কালে গোল্ডম্যানের বিপরীত মতাদর্শ এবং স্বাধীন কণ্ঠ দমনের কারনে সোভিয়েত ইউনিয়নকে নিন্দা জানান। মাই ডিসইলিউসনমেন্ট ইন রাশিয়ানামে ১৯২৩ সালে একটি বই প্রকাশ করেন। ইংল্যান্ড, কানাডা এবং ফ্রান্সে বসবাসকালেলিভিং মাই লাভনামক একটি আত্মজীবনীমূলক বই রচনা করেন। স্পেনের গৃহযুদ্ধ পরবর্তীকালে তিনি নৈরাজ্যবাদী বিপ্লব সমর্থনে স্পেন ভ্রমণে যান। তিনি ১৪ মে ১৯৪০ সালে ৭০ বছর বয়সে টরেন্টতে মারা যান।

তথ্যসূত্র
১. তাহা ইয়াসিন ও অনুপ সাদি সম্পাদিত, নারী, কথাপ্রকাশ ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০০৮, পৃষ্ঠা ৩৪৯।
২. বাংলা উইকিপিডিয়া, নিবন্ধ, এমা গোল্ডম্যান।

আরো পড়ুনঃ

০১. এদুয়ার্দ বের্নস্তাইন এক সংশোধনবাদি সমাজ-গণতন্ত্রী

০২. মাও সেতুং কেন প্রাসঙ্গিক

০৩. ভিয়েতনামের জাতিয়তাবাদি বিপ্লবী নেতা হো চি মিন

০৪. ফ্রানয মেহরিং জার্মানির সমাজতান্ত্রিক তাত্ত্বিক ও নেতা

০৫. সাম্যের লেনিন, শ্রমিকের লেনিন, লেনিনময় পৃথিবী

Thursday, April 23, 2015

কুকুরচিতা বাংলাদেশের সুলভ ভেষজ বৃক্ষ




কুকুরচিতা, ফটো: বেণুবর্ণা অধিকারী

বৈজ্ঞানিক নাম: Litsea glutinosa,
সমনাম: Litsea sebifera, Sebifera glutinosa
সাধারণ নাম: soft bollygum বা bolly beech বা Bollywood বা bollygum বা brown bollygum বা brown Bollywood বা sycamore বা brown beech
বাংলা নাম: মেন্দা, চাপাইত্তা, কুকুরচিতা, কারজুকি, রতন, খারাজুরা

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae
বিভাগ: Angiosperms
অবিন্যাসিত: Magnoliids
বর্গ: Laurales
পরিবার: Lauraceae
গণ: Litsea
প্রজাতি: Litsea glutinosa, (Lour.) C.B.Rob.
পরিচিতি: মেন্দা বা চাপাইত্তা ফুল, দেখার মত ফুল ঝাঁকে ঝাঁকে ফুটে থাকে গাছ জুড়ে বছরে কয়েকবার ফোটে। মাঝে মাঝে  মাত্র ২ মাস অন্তর ফোটে। আবার ফুল ও ফল হয়। ফল পাখিদের খুব পছন্দের খাবার। পাখিদের বিষ্ঠার মাধ্যমে বংশবিস্তার হয়। এই পাতার রস খুব উপকারি সকালে খালি পেটে একগ্লাস খেলে পেট এবং শরীর ঠান্ডা থাকেহজমে সহায়ক।
ব্যবহার: বাংলাদেশে ময়মনসিংহ অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। এখানে ব্যবহৃত ছবিটি ২০১৪ সালে চিত্রগ্রাহক কর্তৃক তোলা।

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

৪. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা