Friday, April 18, 2014

অনল চট্টোপাধ্যায় বাংলা গণসংগীতের এক প্রখাত গীতিকার



অনল চট্টোপাধ্যায়, দিন বদলের লগ্ন কি আর সত্যি অনেক দূর
অনল চট্টোপাধ্যায় (জন্ম: ২৪ অক্টোবর, ১৯২৭ -  ১৭ এপ্রিল, ২০১৪) বাংলা গানের একজন গীতিকার, সুরকার ও গায়ক। সাহিত্যপ্রেমী এই ব্যক্তি ১৯৪৬ সনে ভারতীয় গণনাট্য সংঘ বা আইপিটিএ-‘ সাথে যুক্ত হন। ভারতীয় গণনাট্য সংঘে যুক্ত হবার ফলেই সেখানে পরিচয় ঘটে সলিল চৌধুরীর সংগে। সলিল চৌধুরী তাকে নিজের সহযোগী হিসেবে যুক্ত করেন ১৯৫৪ সালে তার প্রথম রেকর্ড বের হয় হিজ মাস্টার্স ভয়েস থেকে। ১৯৫৫ সালে মৃণাল সেনের রাতভোর চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেন। সলিল চৌধুরীর সহকারী হয়ে ‘পাশের বাড়ি’, ‘আজ সন্ধ্যায়’, মহিলামহল’, ‘ভোর হয়ে এল’, ‘তাসের কেল্লা’, ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’ প্রভৃতি ছবিতে কাজ করেন। এছাড়াও জি টি রোড’, ‘রাজপুরুষ’, ‘দেবী গর্জনইত্যাদি চলচ্চিত্রে সুরকার ও গীতিকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। তাঁর লেখা গান কত গান হারালাম’, ‘কৃষ্ণনগর থেকে আমিগেয়েছিলেন গীতা দত্ত; ‘মধুমতী যায় বয়ে যায়গেয়েছিলেন তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মনের দুয়ারে দাঁড়িয়ে থেকো না’, ‘জানি এ ভুলইত্যাদি গেয়েছিলেন আরতি মুখোপাধ্যায় আর লোকগীতি ও ঠুংরির মিশেলে তাঁর দেয়া সুরে প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায় গেয়েছিলেন ছলকে পড়ে কলকে ফুলেগানটি এবং এই গান শুনে সুরকারের উচ্ছসিত প্রশংসা করেছিলেন পণ্ডিত রবিশঙ্করযাত্রাপালা গানেও তিনি সুরারোপ করেছিলেন।
অনল চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম হাওড়ার সালকিয়াতে১৯৪৬-এ 'দেব সাহিত্য কুটির' হতে তাঁর লেখা বই রত্নতৃষ্ণা কাহিনীবের হয়। সেই বছরই লেখক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় তাকে নিয়ে যান প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘে। প্রগতির সাহিত্যে তখন এই সংগঠনটির অবদান অনেক। অর্থাৎ ১৯৪৬ সালে ‘প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ’ এবং ‘ভারতীয় গণনাট্য সংঘ’র সাথে যুক্ত হওয়া তার জীবনের এক অনন্য ঘটনা।
সাহিত্যপ্রেমী এই ব্যক্তিটির বুঝতে হলে উনিশশো চল্লিশ ও পঞ্চাশের গণসংগীতের মর্ম বোঝা দরকার। বাংলা গানের বিষয় ও সুরে যে নবজাগরণ এসেছিলো তা হটাত নয়। জাতীয়তাবাদী ও স্বাদেশিক গানগুলোর পরেই বাংলা গানে আসে গণসংগীত। ১৯৪৭-এর সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত ও দেশিয় দালালদের ষড়যন্ত্রের আগে-পরের সব রকমের গণআন্দোলনে যেসব গান বাঙালি গেয়েছেন ও শুনেছেন তার এক অংশে আমরা অনল চট্টোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধার সংগে রেখেছি। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষকে কেন্দ্র করে লেখা তার একটি বিখ্যাত গান হচ্ছে আজ বাংলার বুকে দারুণ হাহাকার’। আর সেই ধারায় তার আরেকটি বিখ্যাত গান হচ্ছে ‘অনেক ভুলের মাশুল তো ভাই দিলাম জীবন ভরে’।
তথ্যসূত্র:
১. দৈনিক আজকাল, Aajkaal Publishers Limited, ১৮ এপ্রিল ২০১৪; সুরকার অনল চট্টোপাধ্যায়ের জীবনাবসান 
২. কবি অনল চট্টোপাধ্যায়; মিলনসাগর ডট কম; লিংক এইখানে। এই লিংকে তার কিছু গান অ কবিতা পাবেন।
২. সুধীর চক্রবর্তী, বাংলা গানের সন্ধানে; অরুণা প্রকাশনী, কলকাতা; ২৫ বৈশাখ, ১৩৯৭; পৃষ্ঠা- ১৮৪।

আরো পড়ুন:

০৪. সুধীরলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গানের খ্যাতিমান শিল্পী ও সুরকার  

০৫. পরেশ ধর বিশ শতকের মহান কবি ও গণসংগীত গীতিকার

০৬. তুলসী লাহিড়ী বাংলা ভাষার নাট্যকার, গীতিকার ও চলচ্চিত্রকার  

Thursday, April 17, 2014

তোমরা গেইলে কি আসিবেন মোর মাহুত বন্ধুরে



গেইলে কী আসিবেন মোর মাহুত বন্ধুরে
হস্তিনড়ান হস্তিরান হস্তির পায়ে বেড়ি  
রে সত্যি করিয়া কনরে মাহুত কোন বা দেশে বাড়িরে?
আর গেলে কি আসিবেন মোর মাহুত বন্ধুরে?
তোমরা গেলে কি আসিবেন মোর মাহুত বন্ধুরে?
 
হস্তিরাং হস্তিরাং হস্তির গালায় দড়ি
ওরে সত্য করিয়া কংরে কন্যা গৌরীপুরে বাড়ি রে
আর গেলে কি আসিবেন মোর মাহুত বন্ধুরে?
তোমরা গেলে কি আসিবেন মোর মাহুত বন্ধুরে?

খাটোখুটো মাহুতরে তোর গালে চাপা দাড়ি
ওরে সত্য করিয়া কনরে মাহুত ঘরে কয়জন নারী রে
আর গেলে কি আসিবেন মোর মাহুত বন্ধুরে?
তোমরা গেইলে কি আসিবেন মোর মাহুত বন্ধুরে?

হস্তিরাং হস্তিরাং হস্তির গালায় দড়ি
ওরে সত্য করিয়া কংরে কন্যা বিয়া নাই হয় মোরিরে
আর গেলে কি আসিবেন মোর মাহুত বন্ধুরে?
তোমরা গেইলে কি আসিবেন মোর মাহুত বন্ধুরে?

মুই নারীটা ঝাড়ং বন্ধুয়াক কেশের আগাল দিয়ারে
হস্তিরান হস্তিরান হস্তির পায়ে দড়ি
ওরে কি সাপে দংশিলেক বন্ধুয়াক বন্ধুয়া হৈল মোর খোরা রে
আর গেলে কি আসিবেন মোর মাহুত বন্ধুরে?
তোমরা গেইলে কি আসিবেন মোর মাহুত বন্ধুরে?

ওজায় ঝাড়ে গুণিকে ঝাড়ে ঢেকীয়ার আগাল দিয়া
ওরে মুই নারিটা ঝাড়ং বন্ধুয়াক কেশের আগাল দিয়ারে
আর গেলে কি আসিবেন মোর মাহুত বন্ধুরে?
তোমরা গেইলে কি আসিবেন মোর মাহুত বন্ধুরে?

ইউটিউবে ও মোর মাহুত বন্ধুরেগানটি দেখতে পারবেন এই লিংক থেকে
আরো পড়ুন:

০১. গোয়ালপাড়িয়া লোকগানের রাজকন্যা প্রতিমা বড়ুয়া পাণ্ডে

০৫. ফারুক ওয়াসিফ-এর বাহের দেশের ভাওয়াইয়া নারীর ব্যথাশিরোনামের লেখাটি পড়ুন এই লিংক থেকে 

Tuesday, April 15, 2014

বছরের একটি দিনকে ‘গ্রাম দিবস’ ঘোষণা করার দাবি



অন্তত বছরের একটি দিনকে গ্রাম দিবস ঘোষণা করা হোক
আমাদের কত কত দিবস আছে। গ্রামের মানুষদের সুখ-দুঃখের কথা স্মরণ করার জন্যে তো একটি দিবস থাকতেই পারে। সেইদিন আমরা গ্রামের মানুষদের কথা ভাবব, তাদের কথা শুনবো, তাদের জ্বালা-যন্ত্রণার ভাগিদার হবো। গ্রাম-শহরের বৈষম্য দূর করার প্রক্রিয়া বের করার জন্য একটি দিন ব্যয় করলে হয়ত সমাধান হবে না, তবে সেই একটি দিন গ্রামকে নিয়ে ভাবা যেতে পারে। গ্রামকে নিয়ে আমরা যত বেশি ভাবব গ্রাম আমাদের কাছে তত শক্তিশালী হয়ে ধরা দেবে। গ্রামীণ জনগণের শক্তিকে সামাজিক-বৈপ্লবিক শক্তিতে পরিণত করতে হবে।  গ্রামের জনগণকে, বিশেষ করে কৃষককে শহুরে শ্রমিকের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সত্যিই আমাদের একটি গ্রাম দিবস দরকার। তবে দিবসগুলোকে যেভাবে কর্পোরেট পুঁজি গ্রাস করছে তাতে একটি নতুন দিবস যুক্ত হলে গ্রামকে শোষণ করার প্রক্রিয়া বাড়তেই পারে। তবে গ্রামে গ্রাম দিবস উদযাপিত হলে গ্রামে পুঁজির লেনদেন বাড়বে; যদিও আমরা সাম্যবাদীরা পুঁজির উৎখাত চাই। গ্রাম-শহরের বৈষম্য দূর হতে পারে কেবল পুঁজি উৎখাতের মাধযমেই।

শফিকুল কাদিরের বাগানের এক অচেনা ফলগাছ
এই গ্রাম দিবসের কথা ভেবেছেন যে মানুষটি তার নাম শফিকুল কাদির। তার সঙ্গে আমার পরিচয় ময়মনসিংহের গফরগাঁয়ে ২০০৭ সালে। প্রকৃতি-অন্তপ্রাণ এই মানুষটি নানা রাজনৈতিক-সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন দীর্ঘদিন। তিনি একসময় অর্ঘ্যনামে একটি ছোটকাগজ সম্পাদনা করতেন। কান্দিপাড়া আব্দুর রহমান ডিগ্রি কলেজে শিক্ষকতা করে যে অর্থ পান তা দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করেই তার দিন-মাস-বছর কাটতে থাকে। গত পহেলা বৈশাখ, ১৪ এপ্রিল, ২০১৪-তে তার গ্রাম কুকসাইরে গিয়ে দেখি তিনি শাহাদত হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছেন। সেই মেলার একপাশে জিলাপি ভাজা হচ্ছে, শিশুদের খেলনা, চকলেট, বাতাসা বিক্রি হচ্ছে, এমনকি অন্যপাশে কয়েকটি গাছ পর্যন্ত বিক্রির জন্যে রাখা হয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিশুদের নানান প্রতিযোগিতার আয়োজনে ব্যস্ত। বিকেলের দ্বিতীয় পর্বে উপস্থিত হয়ে দেখি তিনি একটি সেমিনারের আয়োজন করেছেন। সেই সেমিনারের প্রবন্ধ উপস্থাপন করলেন তিনিই; আমি এবং আরেকজন আলোচক। পহেলা বৈশাখকে গ্রাম দিবস ঘোষণা করার জন্য তিনি প্রবন্ধে নানান যুক্তি উপস্থাপন করলেন। আমারও মনে হলো শত দিবসের ভিড়ে আমাদের একটি গ্রাম দিবস থাকলে মন্দ হতো না।

শফিকুল কাদির নিজ গ্রামে গ্রাম সাহিত্য কেন্দ্রনামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। সেই সাহিত্য কেন্দ্রে রয়েছে হাজারের বেশি বই, পুরনো পত্রিকা, বেশ কিছু ঐতিহাসিক আলোকচিত্র। গ্রামের মানুষকে জ্ঞান-গরিমায় শিক্ষিত করা তার ব্রত হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার উদ্ভিদপ্রীতি দেখে আগ্রহী হয়ে বাড়ির পাশে বছর চারেক আগে থেকে শুরু করেছেন বিপন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর কাজ। আজ তার সেই বাগানে ২০০ প্রজাতি ছাড়িয়ে গেছে। এই গণতান্ত্রিক মানুষটি কাজ করে চলেছেন হাজারো মানুষের জন্য। তাঁর কর্মময় জীবন দীর্ঘ হোক এই কামনা করি।


আরো পড়ুনঃ

০১. সিরাজগঞ্জে ৭০টি কচ্ছপ উদ্ধার, ৩ জনের কারাদণ্ড  

০৮. নওগাঁয় কচ্ছপ উদ্ধার, দুই জনের কারাদণ্ড

০৯. বগুড়ার পোড়াদহ থেকে ৭টি বিপন্ন প্রাণী উদ্ধার, দুই জনের কারাদণ্ড