Saturday, February 14, 2015

অপরূপ চাঁপা বা কানাঙ্গা বাংলাদেশের আলংকারিক উদ্ভিদ




অপরূপ চাঁপা বা কানাঙ্গা, ফটো: বেণুবর্ণা অধিকারী

বৈজ্ঞানিক নাম: Cananga odorata,
সমনাম: Cananga kirkii
সাধারণ নাম: cananga tree, ilang-ilang,
বাংলা নাম: অপরূপ চাঁপা, কানাঙ্গা

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae
বিভাগ: Angiosperms
অবিন্যাসিত: Magnoliids
অবিন্যাসিত: Magnoliales
পরিবার: Annonaceae
গণ: Cananga
প্রজাতি: Cananga odorata (Lam.) Hook.f. & Thomson
পরিচিতি: অপরূপ চাঁপা বা কানাঙ্গা অ্যানোনেসি পরিবারের একটি গাছ এই গণের একমাত্র প্রজাতি। এটিকে বাংলাদেশে বলধা গার্ডেনে দেখা যায়। তবে কীভাবে এসে থিতু হয়েছে সে ঐতিহাসিক সূত্র এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে নিশ্চিত করে বলা যায়, অন্যান্য ভিনদেশি গাছপালার সঙ্গে আফ্রিকার এ উদ্ভিদ প্রজাতিটিও ব্রিটিশ আমলে এখানে নিয়ে আসা হয়।
বর্ণনা: অপরূপ চাঁপা বা কানাঙ্গা গুল্ম শ্রেণির মধ্যে আদর্শ গাছ। উচ্চতায় ৮ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। অজস্র ডালপালায় ঝোপাল। শীর্ষভাগ সবচেয়ে বেশি নিবিড়। নতুন পাতা ক্ষুদ্র, রোমশ, একক, লম্বায় ৭ থেকে ১২ সেমি, ডিম্বাকার ও মসৃণ। ফুল একক ও সুগন্ধি। প্রথমে রঙ সবুজাভ থাকলেও পরে অনুজ্জ্বল গোলাপি রঙ ধারণ করে। তখন অনেকটা পরিণত কাঁঠালিচাঁপার মতো দেখায়। লম্বাটে পাপড়ির সংখ্যা দুই সারিতে ৬ থেকে ৭টি, বৃত্যাংশ ৩টি, শীর্ষ বাঁকানো, পুংকেশর অনেক। প্রস্টম্ফুটনকাল প্রায় বর্ষব্যাপ্ত হলেও মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেশি ফোটে। যে কোনো বাগানেই মানানসই। বংশবৃদ্ধি গুটিকলমে। জন্মস্থানে গাছের পাতা ও মূল থেকে বিভিন্ন রোগের ওষুধ বানানো হয়।
চাষাবাদ ও ব্যবহার: এটি বাংলাদেশসহ নানা দেশের আলংকারিক উদ্ভিদ।

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

৪. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ বাংলাদেশের মহাবিপন্ন প্রজাতি




হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ, ফটো: শাহরীয়ার সিজার রহমান, সৌজন্যে দৈনিক কালের কণ্ঠ

বৈজ্ঞানিক নাম: Indotestudo elongata
সমনাম:  Testudo elongata Blyth, 1853;  Peltastes elongatus Gray, 1869; Testudo parallelus Annandale, 1913; ইত্যাদি
বাংলা নাম: হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ,
ইংরেজি নাম: Elongated Tortoise.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
শ্রেণী: Reptilia
পরিবার: Testudines
গণ: Indotestudo
প্রজাতি: Indotestudo elongata
ভূমিকা: বাংলাদেশের কচ্ছপের তালিকায় মোট ২৯ প্রজাতির কচ্ছপ, কাইট্টা ও কাছিম আছে। এদের মধ্যে আমাদের আলোচ্য হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং মহাবিপন্ন প্রজাতি।
বর্ণনা: এই কচ্ছপের খোলস লম্বাটে হওয়ার কারণে এরা লম্বা কচ্ছপ নামে পরিচিত। প্রাপ্তবয়স্ক কচ্ছপের গড় দৈর্ঘ্য ৩০ সেমি এবং ওজন ৩.৫ কেজি।
স্বভাব ও আবাসস্থল: এরা ডাঙাতেই বেশি সময় থাকে। এর ফলে প্রাণীটি খুব সহজেই মানুষের নজরে পড়ে ডাঙায় থাকে বলেই এটিকে মানুষ প্রায়ই মাংসের জন্য শিকার করে। আর এভাবেই এদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এরা মূলত নিরামিষভোজী। এরা বিভিন্ন পাতা, সবুজ কচি ঘাস, ফুল, ফল ও ব্যাঙের ছাতা অর্থাৎ ফাঙ্গাস খায়। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে মেয়ে কচ্ছপ ১-৭টি করে ডিম পাড়েডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে সময় লাগে ৯৬-১৬৫ দিন।
বিস্তৃতি: এরা পাহাড়ি এলাকার চিরসবুজ বনে বাস করে, বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের মিশ্র চিরসবুজ বনেই এদের বসবাস। এই কাছিম প্রজাতির বিস্তৃতি এটি ভারত, নেপাল, চীন, মায়ানমার, লাওস, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশ।
অবস্থা: বিশ্বব্যাপী এই প্রজাতির কাছিম সঙ্কটাপন্ন এবং বাংলাদেশে মহাবিপন্ন। বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনানুসারে রক্ষিত বন্যপ্রাণীর তালিকায় তফসিল-১ অনুযায়ী এ প্রজাতি সংরক্ষিত। চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও ভারতে এদেরকে পোষা প্রাণী হিসেবে পালন করা হয়।
মন্তব্য: যেসব দেশে এই কাছিম পাওয়া যায়, সব দেশের মানুষ একে শিকার করে মাংসের জন্যবাংলাদেশের যেসব এলাকায় এ কাছিম পাওয়া গেছে, সেখানেও তার ব্যতিক্রম নয়। এভাবে কাছিম শিকার চলতে থাকলে বাংলাদেশে কাছিম নির্বংশ হতে খুব বেশি দিন সময় লাগবে না।


আরো পড়ুন:

Thursday, February 12, 2015

আমরা তো ভুলি নাই শহীদ---হেমাঙ্গ বিশ্বাস




আমরা তো ভুলি নাই শহীদ একথা ভুলবো না
তোমার কলিজার খুনে রাঙাইলো কে আন্ধার জেলখানা
যখন গহীন রাতে আন্ধার পথে চমতায় বিজলী
(তোমার) বুকের খুনের দাগে দাগে আমরা পথ চলি;
সেই কাল সাপেরই কুটিল গুহায় আমরা যে দেই হানা
তোমার বহুল বুকে ছোবল দিল যে নাগিনীর ফণা
বলো কি করে ভুলি সে কথা
খুন করে গোপনে তোমার জ্বালাইল চিতা,
সেই চিতার আগুন জ্বলে দ্বিগুণ
জ্বলে দিকে দিকে রে বন্ধু
জ্বলে বুকে বুকে রে বন্ধু
জ্বলে চোখে চোখে-
জ্বলে অগ্নিকোণে রক্তমেঘে কালবৈশাখীর ডানা।।
তুমি ছিলায় গরিব কিষাণ এই মাটির সন্তান
ঘাতে নিলায় তাই তো বন্ধু দুঃখীর এই লাল নিশান
রে সাথী সর্বহারার নিশান
সেই লাল নিশানের মান রাখিতে দিলায় বন্ধু জান
বন্ধু, লুটাইলায় পরাণ
তোমার রক্তে রাঙা নিশান দিল পথের নিশানা।। 


রচনাকাল: ১৯৫০

হেমাঙ্গ বিশ্বাসের কয়েকটি গান পড়ুন নিচের লিংক থেকে:
ডাউনলোড করুন:

আরো পড়ুন:

০২. অজয় ভট্টাচার্যের লেখা দশটি গান

০৪. লোকসংগীতের গণশিল্পী পিট সীগার