Saturday, March 28, 2015

প্রকৃতি সংরক্ষণে জীববিচিত্রার সহায়ক কাজ




৮ মার্চ, ২০১৫তে তিলা ঘুঘু অবমুক্ত করছেন অনুপ সাদি, ফটো: হাসান জামিল

জীববিচিত্রা ১৫ অক্টোবর, ২০০৯ তারিখে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রাণ প্রকৃতি পরিবেশ রক্ষায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন। এটির কর্ম এলাকা প্রধানত ময়মনসিংহ এবং সাময়িকভাবে সারা দেশে বিস্তৃত। এটির সদস্যসংখ্যা ২৬ জন। সংগঠনটির সভাপতি অনুপ সাদি এবং সাধারণ সম্পাদক হাসান জামিল। শুরু থেকেই সংগঠনটি নানা কাজকর্ম সযত্নে করে আসছে। গত প্রায় পাঁচ বছরে সংগঠনটি বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে পেরেছে। তাদের এসব কাজ করার উদ্দেশ্য ছিলও জনগণের সেবা করা। এসব কাজের দ্বারা জনগণের কতটুকু সহায়তা হয়েছে তার মূল্যায়ন সময়ের উপর ছেড়ে দেয়া যায়। এছাড়াও জীববিচিত্রা প্রকৃতি সংরক্ষণে নানান সহায়তামূলক কাজ করেছে, যেসবের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এখানে দেয়া হচ্ছে।
মানবের লম্বা পথ পরিক্রমায় রয়ে গেছে সেই আদিমতা, প্রাণী পাখি আর গাছ হত্যার আদিমতা। ফলে প্রাণী কিংবা পাখি দেখলেই, এমন কি নিরীহতম প্রাণীটি দেখেও সে ছুঁড়ে দেয় ঢিল; অবচেতনেই ভেঙে দেয় হাতের কাছের ছোটো গাছের মাথা কিংবা ডগাঅবচেতনেই, অচেতনেই।
তাই চাই সচেতনতা! সচেতনতা এবং সচেতনতা। সেই লক্ষ্যেই জীববিচিত্রা প্রধানত ফোকাস করে পরিবেশ সংক্রান্ত সচেতনতা গঠনে, বৃদ্ধিতে। জীববিচিত্রা তার ছোটো সাংগঠনিক পরিসর থেকে সভা সেমিনার প্রদর্শনী ইত্যাদি বারংবার করার মাধ্যমে জন সচেতনতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে জন্মলগ্ন থেকেই। বোঝাবার চেষ্টা করেছে একটি শিয়ালও কী করে তার জীবনকালে করছে লাখ টাকার উপকার। কিংবা সামান্য ফিঙে পাখিটি কি করে তার জীবনকালে দিচ্ছে গ্যালন গ্যালন কীটনাশকের কাজ কোনো ক্ষতি না করেই।
জীববিচিত্রা কৃষককে পৌঁছে দিচ্ছে দেশি বৃক্ষের তালিকাটি। কৃষক তা নিয়ে বসে থাকছে না, খুঁজে লাগাচ্ছে সঠিক গাছটি। ইউক্যালিপটাস, রেইন ট্রি কিংবা অপরাপর অপকারি গাছের অপকারিতার কথা প্রচার করেছে সাধ্য মতো। জীববিচিত্রা যাদের কাছে পৌঁছুতে পেরেছে অন্তত ঐখানে কিছুটা হলেও কমেছে ইউক্যালিপটাসের বা আকাশমণিমতো গাছ লাগানোর হিড়িক। 
জনবহুল স্থান সমূহে প্রদর্শনীর মাধ্যমে সব শ্রেণি পেশার মানুষকে লক্ষ্যদলের আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন শ্রেণি ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে সামান্য প্রভাব হলেও পড়েছে বলে জীববিচিত্রা মনে করে।
জীববিচিত্রা বিভিন্ন সময় পরিবেশ বক্ষা আন্দোলনে অপরাপর সংগঠনের সাথে মিলে কাজ করেছে। যেমন, গ্রাম সাহিত্য কেন্দ্র, গফরগাঁও থিয়েটার, মাটি ও মানুষ, গফরগাঁও সরকারি কলেজ, সরকারি ময়মনসিংহ কমার্শিয়াল ইন্সটিটিউটএতে করে অপরাপর সংগঠনের সাথে সৌহার্দের সম্পর্কের পাশাপাশি অন্য সংগঠনের মধ্যেও পরিবেশ সচেতনতা বিষয়ে প্রভাবকের ভূমিকা নিয়েছে। যা পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।
জীববিচিত্রা বিকল্প গণমাধ্যমে ফেসবুক ব্লগে তার কর্মপরিধি বিস্তৃত করেছে। এই সব বিকল্প মাধ্যমে তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় দেশের বিভিন্ন স্থানে তো বটেই দেশের সীমা স্বল্প পরিসরে হলেও অতিক্রান্ত করতে পারছে বলে জীববিচিত্রা মনে করে। ফলে এর কিছু প্রভাব পছে, এখানে সেখানে সর্বত্র, সামান্য হলেও। 
জীববিচিত্রা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে তাদের কেন্দ্রিয় মনোযোগে রাখে। ফলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রদর্শনী, সেমিনার ইত্যাদি আয়োজন করে থাকে। ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে জীববিচিত্রা বরাবরই খুব উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পেয়ে থাকে যা বরাবরই সংগঠনের জন্য প্রেরণাদায়ক। তারা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের শপথ নেয়। জীববিচিত্রার মন্তব্যখাতা এসব সাক্ষ্য দেয়।
জীববিচিত্রার কাজের কাটা-পত্রিকা
জীববিচিত্রা শুধু মাত্র প্রদর্শনী সর্বস্ব হয়ে থাকতে চায় না। ফলে তারা প্রদর্শনী ও সচেতনতামুলক কাজ করেই ক্ষান্ত নয়। বিভিন্ন সময় শিকারি ও পাখি বিক্রেতাদের কাছ থেকে পাখি অবমুক্ত করে। শিকারি বিক্রেতা যেন আর কখনো পাখি শিকার বা বিক্রয় না করে তদুদেশ্যে মুচলেকাও আদায় করে। উপরন্তু একাধিকবার আইন রক্ষা বাহিনির কাছে সোপর্দ করে। জনবহুল স্থান থেকে এসব পাখি অবমুক্ত করায় এইসব কাজে ব্যাপক সাধারণ মানুষের সম্পৃক্তি ঘটে।
জীববিচিত্রা বরাবরই বিরল প্রজাতির পাখি ও প্রাণী সংরাক্ষণে তৎপর। বিভিন্ন সময়ে বিরল প্রজাতির পাখি ও প্রাণী অবলোকন ও অনুসন্ধান করে আসছে জীববিচিত্রা। এর ধারাবাহিকতায় ২১ মার্চ, ২০১১ তারিখে গফরগাঁও-এর বীরখারুয়া গ্রামে শুমারি পূর্বক ৯৪টি এশীয় শামখোল পাখি দেখে এবং পরিচিত করায়, জনগণকে এদের দেখে রাখার জন্য অনুপ্রাণিত করে। যা বিশেষ ভূমিকা রেখেছে বলে জীববিচিত্রা মনে করে। এছাড়া ও, ২০ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে ব্রহ্মপুত্র নদে একটি বিরল ডলফিন দেখে।
এ ছাড়াও জীববিচিত্রা চার বছরের পথ পরিক্রমায় গাছে পাখির বাসা স্থাপন, প্রায় দশ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির দেশি গাছের চারা বিতরণ করে যা সরাসরি পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলেই জীববিচিত্রা মনে করে। 

আরো পড়ুন:  

. পাখির প্রতি আমার ভালোবাসা,

. পাখি বাড়াতে করণীয়,

. বাংলাদেশের শকুনেরা ভালো নেই,

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় জীববিচিত্রার সম্পাদিত কাজ




জীববিচিত্রার পেপারকাটিং প্রদর্শনীতে অনুপ সাদি (ডানে) ফটো: কিরণ খান
জীববিচিত্রা একটি প্রাণ প্রকৃতি পরিবেশ রক্ষায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন। এটি ১৫ অক্টোবর, ২০০৯ তারিখে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটির কর্ম এলাকা প্রধানত ময়মনসিংহ এবং সাময়িকভাবে সারা দেশে বিস্তৃত। এটির সদস্যসংখ্যা ২৬ জন। সংগঠনটির সভাপতি অনুপ সাদি এবং সাধারণ সম্পাদক হাসান জামিল। শুরু থেকেই সংগঠনটি নানা কাজকর্ম সযত্নে করে আসছে। গত প্রায় পাঁচ বছরে সংগঠনটি যেসব কাজ করতে পেরেছে তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ এখানে তুলে ধরা হলও। এসব কাজ করার উদ্দেশ্য ছিলও জনগণের সেবা করা। এসব কাজের দ্বারা জনগণের কতটুকু সহায়তা হয়েছে তার মূল্যায়ন করার দায়িত্ব একান্তই আপনাদের।

সম্পাদিত কাজের বিবরণ: যারা শহুরে মধ্যবিত্ত তারা নিজের পাতে ঝোল নিতে, কৃতিত্ব নিতে মওকা পেলেই নানা সংগঠন করে ফেলেকিন্তু ‘জীববিচিত্রা’ মনে করে তারা প্রকৃত প্রস্তাবে বিশেষ কিছুই করেনি। যে কৃষকটি তার ফসল বাঁচাতেই জমিতে পুঁতে দিচ্ছেন কাকতাড়ুয়া, নিজের বাঁশের ঝাড়ে দিচ্ছেন পাখির নিশ্চিন্ত আশ্রয়, পাশের ঝোপটিতে অবচেতনে পুষে রাখছেন বন্য শিয়ালটি, যে ছেলেটি লুঙ্গি কুচা দিয়ে পাখি থাকবে বলে গাছে বেঁধে দিচ্ছে হাড়ি, নিজ মহল্লায় কিংবা পাশের বিলটিতে ঢুকতে দিচ্ছে না কোন শিকারি তার অবদান আমাদের থেকে অনেক বেশিআমরা সাংগঠনিক ভাবে কালেভাদ্রে তাদের উনুনে কিঞ্চিত জ্বালানী যোগ করেছি মাত্র-কৃতকর্ম এটুকুই। 
সেই সামান্য কৃতকর্মের কথা যদি বলতেই হয় তা হলে ‘জীববিচিত্রা’ গত প্রায় পাঁচ বছরে বিভিন্ন দেশি জাতের পাঁচ হাজার বৃক্ষ ও গুল্মের চারা বিতরণ করেছে। এসব গাছ বিতরণের সময় খেয়াল করেছে পাখিখাদ্য বান্ধব বৃক্ষ, যেমন বট, অশ্বত্থ, ডুমুর ইত্যাদি প্রদানের। এছাড়া জীববিচিত্রা জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৃক্ষ প্রাণী পাখির ছবি ও পেপার কাটিং প্রদর্শনী করেছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। পরিবেশ বান্ধব দেশি তিন শতাধিক বৃক্ষের নামের তালিকাসম্বলিত একটি লিফলেট প্রায় দুই হাজার বিতরণ করেছে। উক্ত লিফলেটে পরিবেশের শত্রু বিদেশি আমদানিকৃত গাছের একটি তালিকা দেয়া হয়েছে যেগুলো যাতে না লাগানো হয় সেজন্য লোকজনের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘুরে ঘুরে জনসচেতনতা তৈরি করা, ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক শিক্ষিকাদের সংগে কথা বলা, সেমিনার করা, বন্য প্রাণিপাখি উদ্ধারে প্রয়োজনে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রাখা ইত্যাদি বারবার করে আসছে।
গত চার বছরে ময়মনসিংহের বিভিন্ন জনবহুল স্থানে, যেমন হাটবাজার, স্টেশন, বাস স্টপ, পার্ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি স্থানে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাণী ও বৃক্ষ পরিচিতির নিমিত্তে প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। প্রতিটি প্রদর্শনীতে প্রাণী ও উদ্ভিদের বিবরণ সম্বলিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সংগৃহীত দেশি বিদেশি কাগজ, বই, পত্রিকা, অনেক ছবি ও পেপার কাটিং প্রদর্শিত হয়েছেপ্রতিটি প্রদর্শনেই বিতরণ করা হয়েছে লিফলেট।
যদিও জীববিচিত্রা প্রধানত ময়মনসিংহকেন্দ্রিক, তথাপি তারা ময়মনসিংহ সদর ও অন্যান্য থানা ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। গত পাঁচ বছরের বিভিন্ন সময় তারা সাতক্ষীরা জেলার ঝাউডাঙা বাজার, কলারোয়া উপজেলা সদর, আখড়াখোলা বাজার, রায়পুর বাজার; কুষ্টিয়ায় মাধবকাঠি বাজার, রাজার হাট, কোর্ট স্টেশন প্লাটফরম; দিনাজপুরের ফুলবাড়ির উর্বশী মার্কেট, ফুলবাড়ি বাস স্ট্যান্ড, ফুলবাড়ি স্টেশন; ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুরের দামোল, যাদুরানী বাজারে প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
ছাত্ররা যেহেতু প্রভাবকের ভূমিকা পালন করে, চিন্তায় প্রাগ্রসর হয় এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তারাই প্রদান করে সে কথা বিবেচনায় রেখে ‘জীববিচিত্রা’ ময়মনসিংহের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রদর্শনী ও সেমিনারের আয়োজন করে আসছে এছাড়াও ১৯ জুন, ২০১১ তারিখে চট্টগ্রামের ওমর গনি কলেজ ও চট্টগ্রাম মহিলা কলেজে সেমিনারের আয়োজন করেছে। 
ময়মনসিংহে বন্যপাখি উদ্ধার ও পরবর্তী অবমুক্তকরণে জীববিচিত্রা বিশেষ ভূমিকা রেখে আসছে। ৩০ জুন, ২০১২ সন্ধ্যার আগে ৫টি সবুজ টিয়া এবং ৪টি তিলা মুনিয়ার বন্দিত্ব থেকে উন্মুক্ত আকাশে ছেড়ে দেয়া হয়েছে ময়মনসিংহ বৃক্ষমেলা থেকেবৃক্ষ মেলায় ৬ নম্বর স্টলে প্রকাশ্যে দেশের বন্য এ-দুটি প্রজাতির পাখি বিক্রি করা হচ্ছিলজেলা বন বিভাগীয় কর্মকর্তাকে জানালে তিনি স্টল মালিককে পাখিগুলোকে সেখান থেকে সরানোর জন্য বলেন; কিন্তু তিনি অবমুক্ত করার জন্য কোনো দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করেননিএরপর জীববিচিত্রার সভাপতি অনুপ সাদি, বেশ কয়েকজনের সংগে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। নানা চেষ্টার পর তারা পাখিগুলোকে মুক্ত করতে সক্ষম হন। এছাড়া ৮ আগস্ট, ২০১২ তারিখে ৮টি সবুজ টিয়া ও ১০টি রং করা মুনিয়া ময়মনসিংহে অবমুক্ত করা হয়
১৭ অক্টোবর, ২০১২ ময়মনসিংহ শহরে এক পাখি বিক্রেতা কিছু কোয়েলের সাথে দুটো কালোমাথা মুনিয়া বেচার চেষ্টা করছিল। জীববিচিত্রার সদস্যরা তার সাথে অনেক কথাবার্তা বলেও মুনিয়া দুটো অবমুক্ত করার জন্য রাজি করাতে না পেরে সবশেষে তাকে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে গিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহায়তা নিয়ে মুনিয়া দুটো অবমুক্ত করপরে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে নওয়াব আলী নামে একজন কর্মকর্তার সাথে কথা বলন।
১৯ অক্টোবর, ২০১২ শহরের গাঙ্গিনার পাড় অঞ্চলে আরেক পাখি বিক্রেতাকে দুটি কানি বক বিক্রি করতে দেখা যায় আবার সেই লোকের সাথে ৪-৫ জন মিলে কথা বলা হয়; তাকে ভয় দেখানো হয়, বন বিভাগের লোকের সাথে যোগাযোগ করা হয়পরে বক দুটো অবমুক্ত করা হয়।
১৯ অক্টোবর, ২০১২ অনেক লোকের সাথে কথা বলে জানা গেল ময়মনসিংহ শহরের পাশে শ্যামগঞ্জের লোকজন পাখি শিকার করেময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার পাশে সাহেববাজারে সকাল সাতটার সময় পাখি বিক্রি হয়অর্থাৎ ময়মনসিংহে পাখি শিকার ও বিক্রি একটি সাধারণ ব্যাপার। সেসব এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে পাখি শিকার বন্ধের চেষ্টা করা হয়।
৮ মার্চ, ২০১৫তে অনুপ সাদি তিলা ঘুঘু অবমুক্ত করছেন
১ নভেম্বর ২০১২ তারিখে ৮টি কানিবকসহ এক পুরনো কানিবক বিক্রেতাকে আবার ধরা হয় যাকে প্রায় দুই বছর আগে ২০১০ সালেও একবার একই অপরাধে ধরা হয়েছিলো। এবার তাকে গাঙ্গিনার পাড় এলাকার বারী প্লাজার সামনে আটকে রেখেই বন বিভাগে ফোনে যোগাযোগ করা হলে বন বিভাগের লোকজন এসে তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে অফিসে মুচলেকা নিয়ে লোকটিকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে বিকেলে পাখিগুলোকে শহরের জয়নুল আবেদীন পার্ক এলাকায় অবমুক্ত করা হয়। এদিন একাজে চমৎকার সহযোগিতা করেন বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান ও জীববিচিত্রার সদস্য রেজাউল করিম। সেই পুরোনো বকবিক্রেতা লোকটির নিকট হতে আগেরবার ৬টি কানিবক উদ্ধার করা হয় এবং সেগুলোকে বন বিভাগের অফিসের ভেতরের পুকুরে অবমুক্ত করা হয়েছিলো। এছাড়া ২০১২ সালে অবমুক্ত করা হয় চারটি বাটান সর্বশেষ ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৪ শহরে অবমুক্ত করা হয় দুটি ছোট সরালি।
সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার দাবীতেবাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন’-এর উদ্যোগে দেশব্যাপী গণস্বাক্ষর ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ময়মনসিংহে ২১ ডিসেম্বর, ২০১৪ তারিখে জীববিচিত্রাজেলা প্রশাসক বরাবর ৩২৫টি স্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করে। এছাড়াও বর্তমানে ‘জীববিচিত্রা’ ব্রহ্মপুত্র নদ রক্ষায় উচ্চকণ্ঠ
জীববিচিত্রা ২০১১-২০১২ সালে বাংলাদেশে মহাবিপন্ন প্রজাতির ছোট মদনটাক পাখি নিয়ে কাজ করে। যা এই পাখিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে বলে জীববিচিত্রা মনে করে


গত ৮ মার্চ, ২০১৫ ময়মনসিংহের মেছুয়া বাজার থেকে তিনটি তিলা ঘুঘু উদ্ধার করা হয়। পরদিন ময়মনসিংহের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সেগুলোকে স্থানীয় বন বিভাগের অফিসের অভ্যন্তরের বাগানে অবমুক্ত করা হয়। উদ্ধারে সহযোগিতা করেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোবিন্দ রায়, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার, জীববিচিত্রার সভাপতি অনুপ সাদি, সম্পাদক হাসান জামিল এবং সদস্য এইচ কবির মামুন।   

আরো পড়ুন:  

৪. পাখির প্রতি আমার ভালোবাসা,

. পাখি বাড়াতে করণীয়,

. বাংলাদেশের শকুনেরা ভালো নেই