Tuesday, January 27, 2015

কাকডুমুর বাংলাদেশের পরিচিত উপকারি গাছ




কাকডুমুর গাছের ফল, ডাল ও পাতা, ফটো: অনুপ সাদি

বৈজ্ঞানিক নাম: Ficus hispida
সমনামঃ Ficus oppositifolia Roxb. Ficus compressa, Covellia hispida
ইংরেজি নাম: Hairy Fig, devil fig, opposite-leaved fig-tree, rough-leaved fig.
বাংলা নাম: কাকডুমুর

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae
বিভাগ: Angiosperms
অবিন্যাসিত: Eudicots
অবিন্যাসিত: Rosids
বর্গ: Rosales
পরিবার: Moraceae
গণ: Ficus
প্রজাতি: Ficus hispida L.f.
পরিচিতি: কাকডুমুরের ফল ছোট এবং খাওয়ার অনুপযুক্ত। এই গাছ অযত্নে-অবহেলায় এখানে-সেখানে ব্যাপক সংখ্যায় গজিয়ে ওঠে। গাছও তুলনামূলকভাবে ছোট হয়ে থাকে। এদের পাতা অত্যন্ত খসখসেএই পাতা দিয়ে গ্রামাঞ্চলে অনেকে শিং, মাগুরজাতীয় মাছ কাটার আগে ঘষে পিচ্ছিলতা পরিষ্কার করেনঅনেক ক্ষেত্রে বাড়িতে গবাদিপশু জবাই করার পর মাংসে পশুর লোম লেগে গেলে এই পাতা ঘষে সেই লোম ছাড়ানো হয়এ ছাড়া কাকডুমুর পাখপাখালির ও নানা পতঙ্গের প্রিয় খাদ্যএর পাতা প্রজাপতির মথের খাবার পাখিরাই প্রধানত এই প্রজাতির ডুমুরের ফল খেয়ে থাকে এবং পাখির বিষ্ঠার মাধ্যমে বীজের বিস্তারণ ঘটে থাকে
প্রাপ্তিস্থান: মূলতঃ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকাসমূহেই এ প্রজাতির গাছ দেখা যায়বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন প্রমূখ দেশসসহ এশিয়ার অনেক অঞ্চলে এবং অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া যায়
ভেষজ গুণ: ডুমুর খুবই উচ্চমানের ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদবিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় স্মরণাতীতকাল থেকে ডুমুরের পাতা, কাঁচা ও পাকা ফল, নির্যাস, বাকল, মূল প্রভৃতি কার্যকরভাবে ব্যবহূত হয়ে আসছেপ্রতি ১০০ গ্রাম ডুমুরে খাদ্যশক্তি ৩৭ কিলোক্যালরি, ১২৬ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিনসহ ভিটামিন এ, বি, সি এবং অন্যান্য উপাদান আছেগুটিবসন্ত, ডায়াবেটিস, হূদরোগ, কিডনি ও মূত্রসংক্রান্ত সমস্যা, স্নায়বিক দুর্বলতা, মস্তিষ্কের শক্তিবৃদ্ধি, সর্দিকাশি, ফোড়া বা গ্রন্থস্ফীতি (টিউমার) ও স্ত্রীরোগের চিকিৎসায় জগডুমুর কার্যকরসরকারি উদ্যোগে বাংলাদেশ জাতীয় ইউনানী ফরমুলারীতে ডুমুর নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা হচ্ছেভারতে ব্যাপক গবেষণা হয়েছে

প্রচলিত কুসংস্কার আছে যে, যে ব্যক্তি ডুমুরের ফুল দেখতে পায় সে অনেক ভাগ্যবান হয়; ডুমুরের ফুল যদি সত্যি ভাগ্য পাল্টাত তাহলে মনে হয় মানুষ গাছটি রক্ষা করার চেষ্টা করত। বাড়ি বাড়ি ডুমুর গাছ রক্ষা করা  দরকার। এ গাছ লাগাতে হয় না; পাখির বিষ্ঠা থেকে যত্রতত্র জন্মায়। আমরা নিজের জন্য নয় পাখির জন্য গাছটি বাঁচাতে চাইআমরা কি পারি না পাখির জন্য গাছটি রক্ষা করতে? পরিবেশের বন্ধু এই গাছটি আমাদের একটি উপকারী বন্ধু। আসুন এটিকে বাঁচাই

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

৪. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

Monday, January 26, 2015

স্থলপদ্ম বাংলাদেশের আলংকারিক ফুল




স্থলপদ্ম, বেলা বাড়ার সাথে রঙের পরিবর্তন, ফটো: উইকিপিডিয়া থেকে

বৈজ্ঞানিক নাম: Hibiscus mutabilis  
সমনাম: নেই   
ইংরেজি নাম: Confederate rose বা  cotton rosemallow,
বাংলা নাম: স্থলপদ্ম,

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae - Plants
অবিন্যসিত: Angiosperms
অবিন্যসিত: Eudicots
অবিন্যসিত: Rosids
বর্গ: Malvales
পরিবার: Malvaceae
গণ: Hibiscus
প্রজাতি: Hibiscus mutabilis C. Linnaeus
পরিচিতি: স্থলপদ্ম হচ্ছে মালভেসি পরিবারের একটি উদ্ভিদ প্রজাতি। পাতার গঠনের দিক দিয়ে ঢেঁড়স এবং স্থলপদ্ম দেখতে একই রকমের। ঢেঁড়শ এবং স্থলপদ্ম একই Hibiscus গণের উদ্ভিদ।
বর্ণনা: স্থলপদ্ম গাছ ৩-৪ মিটার উঁচু, পাতা ও কাণ্ড খসখসে, পাতার দুপাশই লোমশ। পত্রমোচী গাছ। পাতা একক, তাম্বুলাকার, ৩-৫ লতি। পাতা ১০-১৮ সেমি লম্বা হয়। শরতের ভোরবেলা গাছে সাদা ফুল ফোটে, কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথে পাপড়ি পাটল বর্ণ ধারণ করে। ছবিতে রঙের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। 
চাষাবাদ ও ব্যবহার: এটি বাংলাদেশসহ নানা দেশের আলংকারিক উদ্ভিদ। এদেরকে ঠিকমতো ছেঁটে না রাখলে লম্বা লম্বা ডাল ছেড়ে আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে। শাখা কলম ও বীজ দ্বারা বংশ বিস্তার হয়। আলোকিত স্থানে জন্মানো উচিত। শীতকাল ছাঁটার সময়।

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

৪. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

লেনিনের পুস্তক 'গণতান্ত্রিক বিপ্লবে সোশ্যাল-ডেমোক্রাসির দুই রণকৌশল' সম্পর্কে আলোচনা




১৯৮৪ সালের বাংলা সংস্করণের প্রচ্ছদ

গণতান্ত্রিক বিপ্লবে সোশ্যাল-ডেমোক্রাসির দুই রণকৌশল (১৯০৫) (ইংরেজি: Two Tactics of Social Democracy in the Democratic Revolution) ভি. আই. লেনিনের লিখিত একটি পুস্তক। তিনি এই পুস্তকটি লেখেন ১৯০৫ সালের জুন-জুলাই মাসে রুশ সোশ্যাল-ডেমোক্র্যাটিক শ্রমিক পার্টির তৃতীয় কংগ্রেস এবং একই সময়ে জেনেভায় আয়োজিত মেনশেভিক সম্মেলনের পরে। বইটি বের হয় জেনেভা থেকে রুশ সোশ্যাল-ডেমোক্রাটিক শ্রমিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সংস্করণে; তখন লেনিন সেখানে থাকতেন এবং কাজ করতেন। সেই ১৯০৫ সালেই পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক এবং আলাদাভাবে মস্কো কমিটি কর্তৃক দশ হাজার সংখ্যায় বইখানা আবার পুনর্মুদ্রিত হয়। রাশিয়ায় বহু শহরে বেআইনিভাবে ছড়িয়ে দেয়া এই বইখানি আন্ডারগ্রাউন্ডে পার্টি এবং শ্রমিক চক্রগুলিতে অধ্যয়ন করা হতো। ১৯০৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পিটার্সবুর্গ প্রেস কমিটি বইখানায় প্রকাশিত ভাব-ভাবনাকে জার সরকারের বিরোধী অপরাধজনক কার্য বিবেচনা করে সেটিকে নিষিদ্ধ করেছিলো। মার্চ মাসে পিটার্সবুর্গ আদালত ঐ নিষেধাজ্ঞাটাকে অনুমোদন করে পুস্তিকাটিকে নষ্ট করবার হুকুম জারি করেছিল। তবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে_ ভি. আই. লেনিনের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ রচনাটি নষ্ট করতে সমর্থ হয়নি সরকার।[১]
লেনিন নতুন নতুন পাদটীকা দিয়ে এই বইখানির বয়ানটাকে সম্পূরিত করেছিলেন এবং রচনাটিকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন তার ‘বারো বছরে’ নামে রচনা-সংগ্রহের প্রথম খণ্ডে, সেটি পিটার্সবুর্গে প্রকাশিত হয়েছিলো ১৯০৭ সালের নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি। রচনা-সংগ্রহের ভূমিকায় তিনি বইটির তাৎপর্য সম্বন্ধে লিখেছিলেন,
“এখানে প্রণালীবদ্ধভাবেই বিশদে বিবৃত হয়েছে মেনশেভিকদের সংগে বুনিয়াদী রণকৌশলগত পার্থক্যগুলি। লন্ডনে রুশ সোশ্যাল-ডেমোক্র্যাটিক শ্রমিক পার্টির (বলশেভিক) বসন্তকালীন তৃতীয় কংগ্রেস এবং জেনেভায় মেনশেভিক সম্মেলনের প্রস্তাবগুলি এইসব পার্থক্যকে চূড়ান্ত আকার দিয়েছে এবং প্রলেতারিয়েতের কর্তব্যের দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের সমগ্র বুর্জোয়া বিপ্লবের মূল্যায়নে পার্থক্যগুলিকে মূলগত ভিন্নমুখীনতায় নিয়ে এসেছে।”[১]
এই বইয়ে লেনিন দেখান সশস্ত্র অভ্যুত্থান হচ্ছে জারতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্র উচ্ছেদের নির্ধারক উপায়। প্রলেতারিয়েত ও কৃষকসম্প্রদায়ের ক্ষমতা অর্থাৎ বিপ্লবী গণতান্ত্রিক একনায়কত্ব কায়েম করতে হবে; আগের বিপ্লবগুলোতে যা হয়েছে সেভাবে বিজয়ী অভ্যুত্থান থেকে বুর্জোয়ার ক্ষমতা স্থাপন চলবে না। অথচ মেনশেভিকরা মনে করত ক্ষমতা নেবে বুর্জোয়ারা, শ্রমিক শ্রেণির কর্তব্য হলো তাদের সমর্থন করা। মূলত এই বইয়ে লেনিন যে রণকৌশল রচনা করেন, তা ছিলো খাঁটি বৈপ্লবিক, বিপ্লবের বিজয় ছিলো তার লক্ষ্য।[২]
আর অন্যদিকে মেনশেভিকদের কৌশল ছিলো বুর্জোয়াদের সহযোগিতা করা। তারা ঘোষণা করে, বিপ্লব যেহেতু বুর্জোয়া, তাই তার নেতা হওয়া উচিত বুর্জোয়াদের, শ্রমিক শ্রেণির কাজ হলো তাঁকে শুধু সমর্থন করা। শ্রমিক শ্রেণি ও কৃষকের মৈত্রীর বিরোধী ছিলো তারা, কেননা কৃষকের বৈপ্লবিক শক্তিতে তারা বিশ্বাস করতো না। বিশেষ করে সশস্ত্র অভ্যুত্থানে ছিলো তাদের ঘোর আপ্ততি। লেনিন দেখালেন যে মেনশেভিক কর্মনীতি হলো বিপ্লবের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা, প্রলেতারিয়েতকে বুর্জোয়া নেতৃত্বের অধীনস্থ করার প্রয়াস। গণতান্ত্রিক বিপ্লবে প্রলেতারিয়েত শ্রেণির ভূমিকা সম্পর্কে এই গ্রন্থে লেনিন সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন,
মার্কসবাদ প্রলেতারিয়েতকে এই শিক্ষা দেয় যে, তারা যেন বুর্জোয়া বিপ্লব থেকে দূরে সরে না থাকে, এর প্রতি উদাসীন না হয়, বুর্জোয়াকে যেন বিপ্লবে নেতৃত্ব ছেড়ে না দেয়, বরং তারা যেন এতে খুবই প্রবলভাবে অংশগ্রহণ করে, সংগতিপরায়ণ প্রলেতারিয় গণতান্ত্রিকতার জন্য, বিপ্লবকে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাবার জন্যে তারা যেন অতি দৃঢ়তাসহকারে সংগ্রাম চালায়।”[৩]
বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে বিকাশের তত্ত্ব রচনা লেনিনের একটি বড় কীর্তি। লেনিনিয় তত্ত্ব খণ্ডন করে রুশ মেনশেভিক ও পশ্চিম ইউরোপীয় সুবিধাবাদীদের নীতি। সুবিধাবাদীরা শহর ও গ্রামের আধা-প্রলেতারিয়দের পক্ষে যা করা সম্ভব সেটিকে ছোট করে দেখত, সুবিধাবাদীরা মনে করত, যে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে প্রলেতারিয়েত নামবে একা, সহযোগী ছাড়াই, তাই সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ঘটতে পারবে শুধু যখন প্রলেতারিয়েত হবে দেশের অধিকাংশ। এই প্রতিপাদনের ভ্রান্তি ও ক্ষতিকারক দিক দেখিয়ে দেন লেনিন। রাশিয়ায় ১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লব পুরোপুরি প্রমাণ করে লেনিনীয় তত্ত্বের সঠিকতা।[৪]  
গণতান্ত্রিক বিপ্লবে সোশ্যাল-ডেমোক্রাসির দুই রণকৌশল পুস্তকে লেনিন যেসকল ধ্যান-ধারনা বিকশিত করেছেন, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের জন্য সংগ্রামে তা সারা বিশ্বের জনগণের কাছে প্রভূত তাৎপর্য ধারণ করে।

তথ্যসূত্র:
. ভি. আই. লেনিন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবে সোশ্যাল-ডেমোক্রাসির দুই রণকৌশল; প্রগতি প্রকাশন, মস্কো; ১৯৮৪, পৃষ্ঠা-১৩৫।
২. ঐ, পৃষ্ঠা-৬।
৩. ঐ, পৃষ্ঠা-৪২।
৩. ঐ, পৃষ্ঠা-৬-৭।

আরো পছন্দ করতে পারেন: অনুপ সাদির প্রবন্ধ