বুধবার, জুলাই ১৬, ২০১৪

দিনবদলের প্রেম


বাঙলা বছরের শেষ প্রান্তরে সবকিছু বদলাতে শুরু করে
ক্ষয়িষ্ণু বর্ষা আর রাতের হালকা শীতে ঢেউ তুলে
যে জ্ঞান আসে তা তোমারই মতোনতুন ও সৃষ্টিশীল;
আমরা অবশ্য এসব বিষয়ে তেমন ভাবিনি;
কেননা খবরসন্ধানি আমরা লড়াইয়ের মাঠেই বুঝেছি
দুজন আর প্রতিদ্বন্দ্বি নই, হয়েছি সহযোগি;
হৃদয়ের ডাকবাক্সে জমেছে একঝাঁক ভালবাসা
আমরা অবশ্য খুঁজেছি আর কতটুকু গভীরে গেলে
শ্রমিক শ্রমিকের হয়, কৃষক কৃষকের,
নেতা জনগনের

শত শত মাইল দুরে থেকেই মুঠোফোনের মাধ্যমে আমাদের
লেনদেন হতো প্রিয় কিছু কথা ও কাজের,
কিছু শোরগোল, কটুতা, চটুলতা
এবং এসবের মাঝখানে কিছু অংশে শান্ত ঋজু ওলোটপালট
ভুলবোঝাবুঝি, আগ্রহ এবং সদিচ্ছার অভাব আর
তোমার অন্বেষণে একা একা শহরের রাস্তায় হেঁটে বুঝতে পারা
প্রেমের অভাববোধ

আমাদের সময়ের বোধ ও বুদ্ধি আমাদেরকে পৌঁছালো
একুশের দুরন্ত নেশায়, বিদ্রোহের কাব্যময় গানে
আমরা ক্ষয়েছি যারা সেইসব বিহ্বলতার দোরগোড়ায়
যা দুজনের শিল্পিত জীবনে এনেছিলো কালোত্তীর্ণ ছায়ামূর্তি,
সেই আমরা ব্যর্থতার জীবনানন্দীয় টানে সম্মোহিতের মতো জেনেছি
ত্রিভুজের তিনটি চিত্রের সমষ্টি কবিতার দুটি হৃদয়ের সমান,

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০০৪ কুষ্টিয়া

বিষের পেয়ালায় পোড়া দেশ


(রোমানাকে)

এমন বৃষ্টি হয়নি বহুকাল
শুরু হলো তোমাদের হাঘরে আকাল
বৃষ্টি, একগুঁয়ে ছন্নছাড়া অবিশ্রাম তুমুল
কদিনেই কাজ নেই, ঘর ও প্রান্তর বদলালো আমূল;
অন্ধকারে ঝাপসা আলো রুদ্ধ পথঘাট
কোথায় পালাবে তুমি, চৌদিকে আবদ্ধ কপাট,
কে তোমাকে দিতে পারে প্রাণের সাম্পান
কে তোমাকে দিতে পারে বুকভরা গান
তোমার চোখ ভরা এতো আভিমান;
দখিনের গাছগুলো দুলছে হাওয়ায়
চতুর্দশি ছিলে তুমি পূর্ণ কামনায়
কুমারি শরিরে তুমি পাওনিকো জীবনের স্বাদ
দেখেছিলে তালবন তালশাঁস, অনভিজাত
বাড়ির পাশে ঝোঁপে-ঝাড়ে বেঁচে থাকা
অজস্র কীট মানুষ নামের, তুমি তাদের থেকে ঢের বেশি একরোখা
ভালোবাসায় জন্ম নেয়া একুশ শতকের নারী
তুমি জান কি, তোমার মতোই দেহের তোমার প্রধানমন্ত্রি;
সেও পারেনি তোমাকে বাঁচাতে;
তোমার মা তো সামান্য এক বধু সংসারে টিকে আছে কোনোমতে,
তোমার বাবা পালিয়েছে বহু আগে কারাগার থেকে,
চতুর্দশি তুমি একেএকে
সংসার সন্তান ধর্ম রাষ্ট্র না দেখেই, মানসচক্ষে
দেখেছো পাশের বাড়ির শিঁকেয়
ঝুলে থাকা গোপন সম্বল থেকেই
জন্ম হয় জগত সংসার
আর
ভেবেছো, এক মুঠ চাল পেলে
রান্না হবে পুকুরের জলে
তারপর স্বপ্নে হবে খাওয়া
হাওয়া আর হাওয়া
কোনো ভাঁড়
বা চাটুকার
মন্ত্রী তোমাকে রক্ষা করবে না,
সরাতে পারবে না তোমার যন্ত্রণা।

তুমি পছন্দ করতে পাড়া বেড়াতে,
ফুল কুড়াতে, নোলকে নাকে রেখে ফুল পরতে,
আদুরে বিড়াল ছানাকে খেলায় মাতাতে আনমনে;
তবুও এই জ্বরজীর্ণ বাঙলার এক কোণে
তুমি ঠাঁই না পেয়ে,
এক কৌটা বিষ হাতে ঢুকে পরলে লাফায়ে
অন্ধকার গহ্বরে, তোমার অভিমানী হাসিকে দিলে জলাঞ্জলি,
এক য কালো মৃত্যু ভীত পল্লির
ক্ষুদ্রতম গৃহে, তোমার জীবনে এক টুকরো
পরহিতব্রত ছিলো কী না কারো
কাছে এ-প্রশ্ন জাগেনি,
তদুপরি তুমি নিরাশ হতে চাওনি,
তবু কেন শেষ মুহূর্তের কামনায় চলে গেলে মৃত্যুর আঙিনায়,
তুমি আর কখনো আমাদের জানালায়
উঁকি দিবে না, কেননা তুমি সহজেই
ছুঁড়ে ফেলেছো বিষাক্ত পল্লীকে শুরুতেই
আর আমরা আজো আছি বিষের মাঝখানে
হাতে বিষের পেয়ালা,
ভীতু আত্মভোলা।

১৯ সেপ্টেম্বর ২০০৪; কুষ্টিয়া

সোমবার, জুন ০২, ২০১৪

পাতি শিলাফিদ্দা বাংলাদেশের সুলভ পরিযায়ী পাখি


পাতি শিলাফিদ্দা, চিত্রগ্রাহক: কিরণ খান, বাংলাদেশ
বৈজ্ঞানিক নাম: Saxicola torquatus
সমনাম: Ciconia javanica, Horsfield, 1821 
বাংলা নাম: পাতি শিলাফিদ্দা,
ইংরেজি নাম: Eurasian Stone Chat (Common Stone chat).

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Animalia
বিভাগ: Chordata
শ্রেণী: Aves
পরিবার: Muscicapidae
গণ: Saxicola, Bechstein, 1802;
প্রজাতি: Saxicola torquatus (Linnaeus, 1766)
ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকাSaxicola গণে পৃথিবীতে  ১২ প্রজাতির পাখি রয়েছে এবং বাংলাদেশে রয়েছে তার প্রজাতি। সেগুলো হলো ১. পাকরা ঝাড়ফিদ্দা, ২. মেটে ঝাড়ফিদ্দা,. ধলাগলা ঝাড়ফিদ্দা, . জার্ডনের ঝাড়ফিদ্দা, . ধলালেজ শিলাফিদ্দা এবং ৬. পাতি শিলাফিদ্দাআমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম পাতি শিলাফিদ্দা
বর্ণনা: পাতি শিলাফিদ্দা একটি ছোট পোকা-শিকারি পাখি। এদের দৈর্ঘ্য ১৩ সেমি, ওজন ১২ গ্রাম, ডানা ৬.৭ সেমি, ঠোঁট ১.৪ সেমি, পা ২.২ সেমি এবং লেজ ৪.৮ সেমি।
স্বভাব: পাতি শিলাফিদ্দা সাধারণত গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রত্যন্ত অঞ্চল, ঝোপ আছে এমন তৃণভূমি ও আবাদযোগ্য জমিতে উপরন্তু শীত মৌসুমে নলতল ও বাদাভুমির কাছের ঝোপে বিচরণ করে।
বিস্তৃতি: পাতি শিলাফিদ্দা বাংলাদেশের সুলভ পরিযায়ী পাখি; শীত মৌসুমে সব বিভাগে পাওয়া যায়। এশিয়ার মধ্যে এর বিস্তার ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন, সাইবেরিয়া, জাপান, কোরিয়া, ইরান, আরব, ইরাক, মায়ানমার, থাইল্যান্ড ও ইন্দোচীনে।
অবস্থা: পাতি শিলাফিদ্দা বিশ্বে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
বিবিধ: পাতি শিলাফিদ্দার বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ গলাবন্ধযুক্ত শিলাবাসী
আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ