শনিবার, ডিসেম্বর ০৮, ২০১২

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, আমাদের আলোকবর্তিকা।



রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (ডিসেম্বর ৯, ১৮৮০- ডিসেম্বর ৯, ১৯৩২) উনবিংশ শতাব্দীর একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারকতাঁকে বাঙ্গালী নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়
 
োকেয়ার বাঙালিকে আত্মনির্ভর করতে চেয়েছিলেন। তাই নিরীহ বাঙ্গালী প্রবন্ধে লিখেছিলেন, আমরা অলস, তরল মতি, শ্রমকাতর, কোমলাঙ্গ বাঙ্গালী কিনা তাই ভাবিয়া দেখিয়াছি, সশরীরে পরিশ্রম করিয়া মুদ্রালাভ করা অপেক্ষা Old fool শ্বশুরের যথাসর্বস্ব লুণ্ঠন করা সহজ। তিনি সেই প্রবন্ধে আরো লিখেছিলেন দেশের দুর্ভিক্ষ নিবারণের জন্য পরিশ্রম করা অপেক্ষা আমেরিকার নিকট ভিক্ষা গ্রহণ করা সহজ।

তিনি সর্বদাই নারী-পুরুষের সহযোগিতামূলক মানবিক সম্পর্কে বিশ্বাস করতেন। অর্ধাঙ্গী প্রবন্ধে তাঁর সুদৃঢ় উক্তি জগতে দেখিতে পাই প্রত্যেকেই প্রত্যেকের নিকট কোন না কোন প্রকার সাহায্য প্রার্থনা করে, যেন একে অপরের সাহায্য ব্যতীত চলিতে পারে না। তিনি ভুলেন না বাংলাদেশে স্বামী-স্ত্রীর বিশাল বৈষম্যের কথাও। তিনি লিখেছেন স্বামী যখন পৃথিবী হইতে সূর্য্য ও নক্ষত্রের দূরত্ব মাপেন, স্ত্রী তখন একটা বালিশের ওয়াড়ের দৈর্ঘ্য প্রস্থ (সেলাই করিবার জন্য) মাপেন!


তিনি জানেন এ-পৃথিবীতে ক্রমাগত ভালো কাজ করা খুবই কঠিন। তাই স্ত্রীজাতির অবনতি প্রবন্ধে লিখেছেন এ পোড়া সংসারে কোন ভালো কাজটা বিনা ক্লেশে সম্পাদিত হইয়াছে? তিনি সেই প্রবন্ধে আরো লিখেছিলেন, “আমাদের অবস্থা আমরা চিন্তা না করিলে আর কেহ আমাদের জন্য ভাবিবে না। ভাবিলেও তাহাতে আমাদের ষোলো আনা উপকার হইবে না।”

পদ্মরাগ উপন্যাসের নায়িকা সিদ্দিকাকে তার ভাই বলছে, “তুই জীবন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হ! মুষ্টিমেয় অন্নের জন্য যাহাতে তোকে কোনও দুরাচার পুরুষের গলগ্রহ না হইতে হয় আমি তোকে সেইরূপ শিক্ষা-দীক্ষা দিয়া প্রস্তুত করিবতোকে বাল্য বিধবা কিংবা চিরকুমারীর ন্যায় জীবনযাপন করিতে হইবে; তুই সেজন্য আপন পাঁয়ে দৃঢ়ভাবে দাঁড়া


শনিবার, নভেম্বর ২৪, ২০১২

মুক্ত করো এই বর্বরতা থেকে




২৪ নভেম্বর, ২০১২, সাভারের আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত এক মা ।
সর্গঃ পুঁজিবাদের আগুনে পুড়ে কয়লা হওয়া বাংলাদেশের শ্রমিকদের

এলোমেলো লাশ
বাংলার আকাশ
কে দিতে পারে
সজীব বাতাস

এক গলা দুঃখ
মার খালি বুক
লুট হওয়া প্রাণ
স্বদেশ শ্মশান

আগুনের শিখা
রাখে নাক লিখা
রাখে পোড়া ছাই
বোঝে না ধানাই

এখনো কী আছে
একফোঁটা ভালো
এনে দিতে পারে
যা কিছু জ্বালালো।।

২৫ নভেম্বর, ২০১২; বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৩, ২০১২

তুলসি এক মহা উপকারি ভেষজ গাছ



তুলসি, এক মহা উপকারি ভেষজ গাছ

বাংলা নাম: তুলসি,
বৈজ্ঞানিক নাম: Ocimum tenuiflorum L. - holy basil
সমনাম: Ocimum sanctum L.
ইংরেজি নাম: Sacred Basil, Holy Basil.
আদিবাসি নামঃ তুলসি (Rakhaing), তুলসি (Tripura), Nung Na (Marma), Nung Gri (Marma), Tulosi (Tanchangya), Ramal (Tanchangya), Mida phular gaas (Tripura), তুলসি ফাং (Garo)

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae - Plants
উপরাজ্য: Tracheobionta - Vascular plants
অধিবিভাগ: Spermatophyta - Seed plants
বিভাগ: Magnoliophyta - Flowering plants
শ্রেণী: Magnoliopsida - Dicotyledons
উপশ্রেণি: Asteridae  
বর্গ: Lamiales
পরিবার: Lamiaceae - Mint family
গণ: Ocimum L. - basil
প্রজাতি: Ocimum tenuiflorum L. - holy basil
পরিচিতি: তুলসী একটি সুগন্ধি বিরুত্‍ জাতীয় উদ্ভিদ যার সাবেক বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ ছিলো পবিত্র স্থানএটির ইংরেজি নাম holy basil, বা tulasi. তুলসির সাধারণত দুটি রঙ দেখা যায়। একটি কৃষ্ণবর্ণের অন্যটি হরিৎবর্ণের। কৃষ্ণ বা কালো বর্ণেরটিকে বলে কালো তুলসি এবং হরিত বর্ণেরটিকে বলে রাধা তুলসি। হরিৎ বর্ণের ও কৃষ্ণবর্ণের দুটি তুলসীর একই গুণ। প্রধানত হিন্দুদের পুজোপচারে ব্যবহৃত এই তুলসিই বাংলাদেশ ভারতের সর্বত্র পাওয়া যায়।
হাজার হাজার বছর ধরে সাধারণত কৃষ্ণ ও রাধা তুলসী এই দুই প্রকারে প্রাপ্ত তুলসী হিন্দু গৃহে পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে পূজিত হয়ে আসছে যেহেতু এর পিছনে রয়েছে ধর্মীয়, পরিবেশগত ও বৈজ্ঞানিক কারণ
তুলসি সম্পর্কে আরো বিস্তারিত পড়তে এই লিংকে যান। 
ধর্মীয় কারণের ভেতরে রয়েছে ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে তুলসীকে সীতাস্বরূপা, স্কন্দপুরাণে লক্ষীস্বরূপা, চর্কসংহিতায় বিষ্ণুর ন্যায় ভুমি, পরিবেশ ও আমাদের রক্ষাকারী বলে বিষ্ণুপ্রিয়া, ঋকবেদে কল্যাণী বলা হয়েছেস্বয়ং ভগবান বিষ্ণু তুলসী দেবীকে পবিত্রা বৃন্দা বলে আখ্যায়িত করে এর সেবা করতে বলেছেন
পরিবেশগত কারণের ভেতরে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে তুলসীগাছ একমাত্র উদ্ভিদ যা দিন রাত চব্বিশ ঘণ্টা অক্সিজেন সরবরাহ করে বায়ু বিশুদ্ধ রাখে যেখানে অন্য যে কোন গাছ রাত্রিতে কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে তাই রাতের বেলাতে তুলসীতলায় শয়ন করাও ব্যক্তির জন্য উপকারী এছাড়া তুলসীগাছ ভুমি ক্ষয় রোধক এবং তুলসী গাছ লাগালে তা মশা কীটপতঙ্গ ও সাপ থেকে দূরে রাখে
এছাড়াও বর্তমানে আমরা আরো যে কয়েক প্রকার তুলসীগাছ সাধারণত দেখতে পাই সেগুলো হচ্ছে:
১. বাবুই তুলসি বা দুলাল তুলসি; ২. রাম তুলস; ৩. বনবর্বরিকা বা বনতুলসী’ এবং ৪. কর্পূর তুলসি যা থেকে কর্পূর (camphor oil) পাওয়া যায়এগুলো ছাড়াও এই গণের আরও ৪টি প্রজাতিও ভারতে পাওয়া যায়। তবে উল্লেখ করা উচিত হবে যে Ocimum গণে ৬০টির অধিক প্রজাতি আছে।
তুলসির ঔষধি গুণাগুণ এবং এর উপকারিতা পড়তে এই লিংকে যান